বৃহষ্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪

অর্থনীতিবাদে লেজুর প্রসঙ্গ

(llcobangla.org)

অর্থনীতিবাদে 'লেজুর' আসলে  ভূলভাবে ব্যবহার করা একটি শব্দ । 'অনুকরন বা অনুকরনবাদ' এর আরো একটি ভ্রান্তিমূলক শব্দ। ডানপন্থী সংশোধনবাদিরা বিপ্লবী পন্থার পরিবর্তে এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে থাকে। এই ভূলের প্রসারন ঘটে এই ভাবে যে, অল্প সময়ে, তাৎক্ষনিক ভাবে, ও খুব তাড়াতাড়ি সাধারণ জনগণের সুবিধা লাভের জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহন করা। আর সকলের জন্য সূদুর প্রসারী ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা ইত্যাদি। তাঁরা দির্ঘ মেয়াদী পরিবর্তনের কথা ভাবতে চান না - তাঁরা সাময়িক ভাবে উচ্চ মজুরি, রাজনৈতিক সংস্কার প্রাপ্তিতেই সন্তুষ্ট  । তাঁরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেনীর বিনাশ চান না । মুক্ত করতে চান না পৃথিবীকে সকল প্রকার শোষণ ও বঞ্চনা থেকে । কেবল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ই এই সকল ভূলের পরিসমাপ্তি টানতে পারে।

লেনিন লেজুর বৃত্তি মূলক ট্রেড ইউনিয়ন পন্থীদের তিব্র সমালোচনা করেছেন। লেনিন দেখেছেন লেজুরবৃত্তি মূলক কর্মকান্ড কখনো কোন আন্দোলনকে বিপ্লবী কাজে সহয়তা করতে পারে না, তাঁরা হয়ত কিছুটা সংস্কার মূলক কাজ করতে পারেন।  ঠিক একই ভাবে লেনিন তাঁদের ও সমালোচনা করেছেন যারা মনে করেন যে, বুর্জোয়া রাষ্ট্রের কাঠামোতেই রাজনৈতিক সংস্কার, সামাজিক গণতন্ত্র, আইনী প্রক্রিয়ায় বিজয় অর্জন করে বিপ্লব করে ফেলবেন । মাওসেতুং সমালোচনা করেছেন যারা ইউনাটেড ফ্রন্ট গঠনের পর পার্টিকে বিলুপ্তি দিকে নিয়ে যেতে চায় । বিপ্লব কখনো খন্ড খন্ড ভাবে করা যায় না, খন্ড খন্ড সুবিধা দিয়ে বিপ্লবের শ্রুতধারাকে বিপথে পরিচালনা করা বুর্জোয়া শ্রেনীর কৌশল। বিপ্লব বুর্জোয়া ব্যবস্থার ভেতর থেকে সংস্কারের পথ ধরে অর্জন করা সম্ভব নয়। আলোকিত সাম্যবাদ কায়েম করা প্রচলিত বুর্জোয়া ব্যবস্থায় থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপে সম্ভব নয়।  পুরাতন ব্যবস্থার সাথে, পুরাতন ক্ষমতা কাঠামোর সাথে কোন প্রকার আপোষ হতে পারে না । পুরাতন ব্যবস্থা আদতেই একটি নিপীড়ন মূলক ব্যবস্থা । পুরাতন ব্যবস্থাকে ঝেটিয়ে বিদায় করা একান্ত দরকার। পুরাতন ব্যবস্থার স্থলে নতুন ব্যবস্থার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবী। পুরাতন ব্যবস্থাকে বিদায় করতে, নতুনের স্থাপনে আমাদেরকে বিজয়ী হতে হবেই। তাঁর জন্য চাই যোগ্য নেতৃত্ব, পার্টি, শৃংখলা, রাজনৈতিক লাইন এবং আলোকিত সাম্যবাদের বিজ্ঞান।

ভূল সর্বদা ই ভূল । সংগঠন যত বড় ই হোক না কেন, বা যত মানুষই সেই দলে যোগ দিন না কেন – ভুলের ফলা ফল ভুল ই হবে। বরং আলোকিত সাম্যবাদের আদর্শে তাদেরকে পরিচালিত করা দরকার। রাজনৈতিক লাইনের সকল ভূল সত্যিকার রাজনৈতিক লাইন দিয়ে সংশোধন করতে হবে, তাঁর জন্য দরকার শিক্ষা, প্রশিক্ষন ও শৃংখলা ইত্যাদি। তবে ডানপন্থীদের এই ধরনের ভূল বুর্জোয়া, পাতি বুর্জোয়া চরিত্রের সাথে সম্পৃক্ত। এই ধরনের বুর্জোয়া ও পাতি বুর্জোয়া মানসিকতার কারনেই এই ধরেন রাজনৈতিক ভুলের উৎপত্তি হয়ে থাকে। যাদের মাঝে কাপুরুষতা, ভীরুতা, শৃংখলার অভাব, উদারতাবাদ, কৃত্রিম একতার মনোভাব, এবং বড় জাত্যাভিমানীতা আছে তাঁদের মাঝে এই ধরনের ভূলের সৃষ্টি হয়। আমাদের আলোকিত সাম্যবাদ সেই সকল মানুষের দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের ভূল ধারনা গুলো দূর করতে চায় । আমাদের অভিজ্ঞতা বলে যে, এই ধরনের মানুষেরা সাহস করে কোথা ও সত্য কথাটি পর্যন্ত বলতে পারেন না । তাঁরা কাঊকে কিছু শেখাতে ও পরিচলনা করতে পারেন না । তাঁরা  মৌলিক ভাবে নানা ভূলের মাঝে নিমজ্জিত থাকে।   তবে তাঁরা এই বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই বুঝতে পারেন না। ফলে আপোষ করা তাঁদের জন্য সহজ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মেরুদন্ডহীনতা কখনও মানুষের কাছে আকর্ষনীয় চরিত্র নয়। তাই তাঁরা আম জনতাকে আকৃষ্ট করতে ও বিপ্লবী পথে টানতে পারেন না । ফলে জনগনের দালালী করার  মানসিকতা থেকেই তৈরী হয় সংস্কারবাদের ও প্রথম বিশ্ববাদের।

একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে প্রায়স দেখা যায় বাম দল গুলোর চিন্তা ভাবনা সাধারণ জনগণের ভাবনা চিন্তার স্তর থেকে অনেক এগিয়ে আছে। আবার বাম পন্থীরা নিজেদের ভাবনাকে ও জনগণের মাঝে ইতিবাচক ভাবে  গ্রহন ও করাতে  বা প্রভাবিত করতে পারছেন না । ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে অতি বাম ধারার সৃজন হচ্ছে। যেমন – তাঁরা দাবী করছেন এখনি সব ক্ষেত্রে সমতা আনতে হবে, নেতৃত্ব বলুপ্ত করতে হবে, শৃঙ্খলা ও সংগঠনের দরকার নেই -ইত্যাদি। তাঁরা দাবী করেন বিবাহ প্রথা বাতিল করতে হবে, চলমান পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। তাঁদের মাঝে আবার যারা পরিবেশবাদি তাঁরা দাবী করেবসেন যে, আগে পৃথিবী বাচাও – তাঁরা মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করতে চান না - এই সব কিছু ই অতি বাম মানসিকতা। আমরা এমন কোন মেজিক জানিনা যা দিয়ে নিমিষেই দুনিয়াকে বদলে দেয়া যায়। আমরা  কেবল মাত্র ঘোষনা দিয়ে দুনিয়াকে পাল্টে ফেলতে পারিনা । একটি বেয়নেটের খুঁচায় সমাজকে বদলে দিতে পারবনা। আপনি যা খুশি তাই চাইতে পারেন, কিন্তু সত্যি দুনিয়াকে পাল্টাতে হলে মানুষ এখন যে অবস্থায় আছেন সেখান থেকেই যাত্রা করতে হবে - তাদেরকে সঠিক ধারায় পরিচালনা করতে হবে । মাও একেই গন লাইন বলেছেন।  স্থানিয়দের সাথে মিশুন, তাঁদের এই সময়কার চাহিদা গুলো বিবেচনা করে দেখুন । চাষি চায় জমি । মাও জমির ইস্যুটিকে কাজে লাগিয়ে সমাজতন্ত্র ও তা থেকে কমিউনিজমে পৌছার পথ বাতলিয়েছেন। জমি প্রাপ্তি ও মজুরী বৃদ্বিই শেষ কথা নয় । জমি, কাজ ও মজুরী বৃদ্বির বিষয়টি  গরীব মানুষকে বিপ্লবী কর্মে এগিয়ে নেবার জন্য কার্যকরী সেতু বন্দ্বন। যারা এর মধ্যেই সকল কাজকে সীমাবদ্ব করে ফেলেন তাঁরা বিপ্লবী নন। বিপ্লবী সংগঠনের আরো একটি বড় দুর্বলতা হলো তাঁরা তাঁদের কাজে অন্যদের সাথে জোট বাধার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রন বজায় রাখতে পারেন না । উদাহরন হলো - যারা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্বে কথা বলতে পারেন না - তাঁদের সাথে কাজ করা বাম বিচ্যুতি।  সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা দেশ প্রেমিক বুর্জোয় শ্রেনীর আক্রান্ত হওয়া ও তৃতীয় বিশ্বের শোষণ সম্পর্কে  কথা বলতে ভয় পাওয়া ও বাম বিচ্যুতি। আলোকি সাম্যবাদীরা অন্য কারো লেজুর হবেনা, কারো হাতের পুতুল হবে না বা ঐক্য মোর্চা গড়তে গিয়ে নিজেদের অস্থিত্বকে বিলিন করে দিবে না । আলোকিত সাম্যবাদিরা বৃহত্তর গন মোর্চায় বিশ্বাস করে। লাল পতাকাকে উর্ধ্বে তোলে ধরতে চায়। সরল ভাষায় বললে দাঁড়ায় যে, আমরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্বে মোর্চা গঠন করব তবে নেতৃত্ব থাকবে আমাদের হাতে।  যারা আবার অতি পবিত্র থাকতে গিয়ে অন্যদের সাথে মিশতেই রাজি নন তাঁরা ও বাম বিচ্যুতির দ্বারা আক্রান্ত। অন্যান্য ভুলের মত বাম ভুল বা বিচ্যুতি ও একটি রাজনৈতিক ভুল। ভুল শোধরানোর মানসিকতা থাকতে  হবে। যদি ভুল স্বীকার করতে না  চায় – তা হবে বুর্জোয়া ও পেটি বুর্জোয়া মানসিকতার নামান্তর। নিচুতা, অধৈর্য,ইগো, মানুষের প্রতি ভালো বাসার অভাব ইত্যাদি বাম বিচ্যুতি। এই বিচ্যুতির মাত্রা বাড়তে বাড়তে এক সময় তা সংশোধনবাদের দিকে ধাবিত হয়। সংশোধনবাদের কারনে বিপ্লবীদের মাঝে কিছুই না করা প্রবনতা তৈরী হতে পারে।  তাঁরা হয়ে উঠতে পারে বদ চরিত্রের স্বার্থবাদি, অর্থহীন আড্ডাবাজ এবং প্রতিবিপ্লবী মানুষ।  আমরা জানি এবং তা আমাদেরকে সর্বদা মনে ও রাখতে হবে যে, প্রথম বিশ্ব তৃতীয় বিশ্ব থেকে সম্পুর্ন আলাদা ধরনের বিশিষ্টের অধিকারী। প্রথম বিশ্বে আদতে বিপ্লবের কোন সামাজিক ভিত্তিই নাই, সত্যিকার কোন সর্বহারা বা প্রলেতারিয়েত ও নেই । তৃতীয় বিশ্বেই কেবল বিপুল  পরিমান  দরিদ্র ও প্রলেতারিয়েত আছেন । তাই কৌশল গত কারনেই প্রথম বিশ্বের চেয়ে তৃতীয় বিশ্বে নেতৃত্বের কৌশল আলাদা হবে । তৃতীয় বিশ্বে গন লাইন এক বিরাট  ভূমিকা পালন করতে পারে। যেসকল ক্ষেত্রে প্রথম বিশ্বে মাও ও লেনিনের কৌশল এখন ও কার্যকরি সেই সকল ক্ষেত্রে  আলোকিত সাম্যবাদিদেরকে অত্যন্ত সৃজনশীল ভাবে ভূমিকা গ্রহন করতে হবে। তৃতীয় বিশ্বে আলোকিত সাম্যবাদী গন অবশ্যই বিপ্লবী সামাজিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগাবেন। প্রথম বিশ্বের আলোকিত সাম্যবাদী নেতাগন স্বীয় অবস্থা থেকেই প্রথম বিশ্বকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করবেন। যতক্ষন পর্যন্ত প্রথম বিশ্বে বিপ্লবের সামাজিক পরিস্থিতি তৈরী না হবে ততক্ষন পর্যন্ত - তৃতীয় বিশ্বের মত প্রথম বিশ্বে গন লাইন অনুসরণ করে কোন লাভ হবে না । যারা তৃতীয় বিশ্বের মতই প্রথম বিশ্বে ও  এখন  গন লাইন অনুসরন করেন তাঁরা মুলত প্রথম বিশ্ববাদি, সংস্কারবাদের অনুসারী, এন,জিও র লেজুর এবং বুর্জোয়াদের তাবেদার। তাঁরা সত্যিকার প্রলেতারিয়েত শ্রেনীর উপকারের জন্য কিছুই করেন না । তবে যারা সতিকারের বিপ্লব চান তাঁরা বিপ্লবাকাংখী মানুষদেরকে সামাবেশিত করতে পারেন। প্রয়োজনে অর্থ, সম্পদ ও বিপ্লবী উপকরনাদি দিয়ে তৃতীয় বিশ্বের বিপ্লবে সহায়তা করতে পারেন। আলোকিত সাম্যবাদী কমিউনিস্টগন এখন এই ধরনের কাজ কেই প্রধান্য দিতে পারেন। নিজে আলোকিত হোন ! অন্যকে আলোকিত করুন ! আমাদের দিন আসছে ! প্রথম বিশ্ববাদিদেরকে অবশ্যই 'পরাজয়বাদ' মেনে নিতে হবে। কেননা এটাই ইতিহাসের রায়। - একে এম শিহাব
     



বুধবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৪

ইসরাইল বসতি স্থাপনের কাজ করেই চলেছে...


৫ ই এপ্রিল, ২০১৪
( ইসরাইল ফিলিস্তিনি জনগনের বিরুদ্বে গনহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব নেতারা এর বিরুদ্বে কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না। এই গন হত্যার পেছনে আমারিকা সহ সকল পশ্চিমা দেশ গুলোর সমর্থন রয়েছে।)

জেরুসালেম (এপি) জেরুসালেমের পূর্ব প্রান্তে ইসরাইলীরা ৭০০ বাড়ি নির্মানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যাচ্ছে। এটা এখন আর কোন গোপন বিষয় নয় - এই তথ্য জানিয়েছে ওয়াসিংটন ভিত্তিক বসতি সংক্রান্ত একটি সংস্থা । তাঁরা বলছেন, যা নতুন করে ফিলিস্থিনি সমস্যার সমাধানে আরো একটি বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।

হেগিত অফ্রান বলেন, যখন শান্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে - তখন ইসরাইল নতুন করে আর ও ৭০৮ টি বাড়ি নির্মানের জন্য টেন্ডার আহবান করেছে। যা নির্মান হবে জেরুসালেমার পূর্ব দিকে গিলওতে ।

অফ্রান প্রশ্ন তোলেন যে টেন্ডারটি গত সোমবার নবায়ন করা হলো তা বিগত নভেম্বর ২০১৩ তে প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিলো। তিনি বলেন, আমি এটা বুঝতে পারছি না - কেন ইসরাইল এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এটা পরিস্কার যে ইসরাইল চায় না ফিলিস্তিন – ইসরাইল আলোচনা সফল হোক। শান্তি আসুক মধ্য প্রাচ্যে। তাঁরা তাঁদের গন হত্যা চালিয়েই যেতে চাইছে।

এরিক বেন সাইমন, যিনি ইসরাইলের বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়য়ের মুখপাত্র, তিনি বলেন – এই বিজ্ঞপ্তি আলোচনা শুরুর আগেই প্রকাশ হয়েছিলো। উপযুক্ত নির্মাতা প্রতিস্টান না পাওয়ায় তা আমাদেরকে আবার পুনঃ প্রকাশ করতে হলো।
- একে এম শিহাব

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

ভেনিজুয়েলার নেতা জানিয়েছেন সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা কারী জেনারেলদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে । ৫ ই নভেম্বর, ২০১৪


(সাম্রাজ্যবাদী চক্র ভেনিজুয়েলার সামরিক শক্তিকে সেভেজের জাতিয়তাবাদি সরকারের বিরুদ্বে কাজে লাগাতে চায়। সি আই এ ২০০২ সালে সেভেজের সরকারকে আরো একবার ফেলে দিতে চাইছিলো। এটা এখন আর কোন গোপন বিষয় নয় যে আমেরিকা একটি বড় ধরনের গন্ডগোল পাকিয়ে বর্তমান সরকারকে বিতারন করতে চায়। আমেরিকা এই দেশের বিরোধী দলের প্রতি প্রতিনিয়ত সমর্থন দিয়েই চলেছে।

বর্তমানে তাঁরা বিপ্লবেরই কেবল বিরুধিতা করছে না - ওয়াশিংটনের সমর্থক চক্রকে তাঁরা ক্ষমতায় আনতে চাইছে - এন পি)

ভেনিজুয়েলার নেতা জানিয়েছেন তাঁরা সামরিক অভ্যত্থানের চেষ্টাকারী  জেনারেলদেরকে আটক করেছেন।
ক্যারাকাস, ভেনিজুয়েলা (এপি) - ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকুলাস মাদেরু জানিয়েছেন, তিন জন গেনারেল সহ বেশ কয়েক জন ব্যাক্তি তাঁর বিরুদ্বে সামারিক অভ্যুথহান করার চক্রান্ত করছিল।

মাদেরু ঘোষণা করছেন, তাঁর সমাজতান্ত্রিক সরকার তিন জন বিমান বাহিনীর জেনারেলকে সরকারের ও দেশের বিরুদ্বে চক্রান্ত করার অভিযোগে সামরিক ট্রাইব্যনালের সামনে হাজির করা হবে।

তিনি জানিয়েছেন, কয়েক জন উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্ম কর্তা বিরুধীদের সাথে ষড়যন্ত্র করছিলো, তবে এই বিষয়ে  তরুন অফিসাররা সচেতন থাকায় তাঁরা ব্যার্থ হয়েছে।

তিনি এমন এক সময়ে এই ঘোষনা দিলেন যখন দক্ষিন আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রীগন তাঁর সাথে বৈঠক করছিলেন -  দেশের সরকার ও বিরোধীদের মাঝে একটি মিমাংশায় পৌছানোর জন্য।

২০০২ সালে থেকেই বিশেষ করে সেভেজকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টার পর থেকেই মাদেরু এই অভিযোগ করে আসছিলেন। তবে তিনি এ সম্পর্কে বিশেষ কিছুই কখন ই প্রকাশ করেন নি বা কোন প্রমান ও হাজির করেন নি। এমন কি এর আগে কাঊকে তেমন গ্রেফতার ও করা হয় নি।

 সম্প্রতি, মাদেরু জনগণের প্রতি সাধারণ ভাবে আহবান জানিয়েছেন যে, তাঁরা যেন আমেরিকার বিরুদ্বে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁরা যেন সামরিক অভ্যুত্থান ও অর্থনৈতিক যুদ্বে শরিক হন। এই প্রতিবাদ ও আন্দোলনের কারনে দেশে অভাব, মুদ্রাস্ফিতি, এবং নানা প্রকার অপরাধ বেড়ে গেছে। এই মধ্যে কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছে।

মাদেরু প্রশাসন কর্তৃক কয়েকজনকে গ্রেফতারের কারনে সামরিক প্রশাসন যে দমে যাবে, তা আমাদের মনে হয়না - এটা নির্ভর করছে রাজনৈতিক ভাবে চলমান পরিস্থিতিকে কিভাবে পরিচলনা করা হবে।

ল্যাটিন আমেরিকা সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ডেভীড স্মাইল্ড বলেন,  জনগণের মাঝে ঐক্য সৃষ্টি করার জন্য সরকার হয়ত প্রচার করবেন যে, তাঁরা শত্রুকে গ্রেফতার করেছেন।
“ আপনি যখন বলবেন যে, চক্রান্ত চলছে তখন সৈনিকরা ও বুঝবেন এখন বিদ্রোহ করার সময় নয়” - বললেন স্মাইল।
 বিরোধী দল যে একটি নোংরা খেলায় জড়িত তা ও জন গন মনে করতে পারেন- যা সরকারের জন্য অনুকূল।

মাদেরু সৈনিকদের অনুগত্য ধরে রাখার জন্য খুবই তৎপর রয়েছেন । তিনি তাঁর প্রসআশনের একটি বিরাট অংশ সেনাবাহিনীর লোক দিয়ে পুর্ন করেছেন। তিনি এমন কি টেলিভিশনে ও সৈনিক পাঠিয়েছেন। অন্য দিকে মূদ্রাস্ফিতি বেড়ে দশের ঘর ছাড়িয়েছে।

স্মাইড পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, জেনারেলরা এখন হয়ত আর সকল শকতি নিয়োজিত করে অভ্যত্থান করবেন না । এখন তাঁরা চেষ্টা করবেন একটি ক্ষদ্র দলের মাধ্যমে অভ্যুত্থান করতে এবং সরকারকে হঠাতে ।

যদি তাই হয় তবে মাদেরু কি করবেন ?  সামরিক অভ্যুত্থান ঠেকাতে  মাদেরুর পক্ষে - ছাত্ররা রাস্তার দখল নিতে পারে। বললেন – স্মাইল। একে এম শিহাব


বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০১৪

লিডিং লাইট - বিশ্বে বস্তির পরিমান বাড়ছেই !


(llcobangla.org)
জাতি সংঘের তথ্য অনুসারে, বিগত ১০ বছরে প্রায় ৫১ মিলিয়ন বস্তি তৈরী হয়েছে। ২০১০ সাল পর্যন্ত এক হিসাবে দেখা গেছে যে, বস্তিতে বসবাস কারীদের সংখ্যা ৮২৮ মিলিয়নে উন্নিত হয়েছে। তবে অন্যান্য হিসাবে এর পরিমান আরো অধিক বলে বিশেসজ্ঞগন মনে করেন। অস্বাভাবিক ভাবে, তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে বস্তিবাসীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বস্তিবাসি মানুষের এই বৃদ্বিই একটি বড় উদাহরন হলো যে, তৃতীয় বিশ্ব এবং প্রথম বিশ্ব এক নয়। তাঁরা পরস্পর আলাদা বৈশিস্ট্য ধারন করছে। এটা আমাদেরকে এও বুঝতে সহায়তা করে যে, বিশ্বপল্লী ও বিশ্বশহরের  গুরুত্ব কি । তৃতীয় বিশ্ব বনাম প্রথম বিশ্ব। শোষক বনাম শোষিত শ্রেণীর পার্থক্য ।

প্রতিবেদন বলছে, এই ঘটনা প্রবাহ একটি শরনার্থী নগরীর জন্ম দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মূলত নগর জিবনে একটি সহিংস পরিস্থির জন্ম দিচ্ছে। কেননা বস্তিবাসী মানুষেরা একটি অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। তাঁরা কোনভাবে জীবন নিয়ে ঠিকে আছেন। তাঁদের অনেকেই এখন আর কাজ ও পাচ্ছেন না । তাঁরা কোন উৎপাদনের সাথে ও জড়িত নয়। তাঁরা একটি মারাত্মক স্থবির পরিস্থিতির শিকার। তাদের সংখ্যা কিন্তু কমছে না - বরং দিনে দিনে বাড়ছে। পুজিবাদি-সাম্রাজ্যবাদিরা কিছু এনজিও তৈরী করে  সাময়িক সাহায্য করে পরিস্থির তিব্রতা কে প্রশমনের চেষ্টা করছে । এই পরিস্থিতিতে  মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ এক অন্ধকার জীবনের দিকে যাত্রা করেছেন। অনূতপাদনশীল জীবন ব্যবস্থা তাঁদের জীবনকে করে তোলছে অসহনীয়। এরাই গড়ে তুলছে একের পর এক শরনার্থী নগর। তা বড় বড় নগরীতে ও সৃষ্টি হচ্ছে।  সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির প্রভাবে সাধারণ কৃষকেরা  অধুনিক প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবাস্থার কারনে প্রতিযোগীতায় ঠিকতে পারছেন না । সেই কারনে ও বহু কৃষক এখন বেচে থাকার জন্য শহর মূখী হচ্ছে। অনুতপাদনশীল মানুষের সংখ্যা বৃদ্বি পেলে স্বাভাবিক ভাবে এক প্রকার নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতি  পুজিবাদিদেরকে অরো মুনাফা করতে সহায়তা করে - তা মানুষের কোন প্রকার কল্যান সাধন করে না । মানব সমাজের জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা অযৌক্তিক ও অনাকাংখিত। তৃতীয় বিশ্বের শহর নগরে এই ধরনের বস্তির সম্প্রসারণ মানুষের মাঝে দারিদ্র, পরিবেশ দূষণ, আয় বৈষম্য, সামাজিক অস্থিরতা তৃতীয় বিশ্বের নগর ও শহর জিবনে মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে বাঁধা গ্রস্থ করবে । প্রতিবেদনে  বিশ্বের সবচেয়ে বেশী বৈষম্য মূলক ১০ টি নগরের মধ্যে  দক্ষিন আফ্রিকার ৩ টি শীর্ষ  নগররের ঊল্ল্যেখ করা হয়েছে। যেমন – বাফেলো, জোহাঞ্চবার্গ এবং একুরাহুলানি। ৪ টি ব্রাজিলিয়ান শহরের ও উল্ল্যেখ আছে । যেমন – গোয়ানা, ফর্থালিজা, বেলু হরিজুনেট এবং ব্রাজিলিয়া।

মানব জাতির ইতিহাসে এখন যত লোক শহরে বসবাস করছে, তা এর আগে কখনো ঘটেনি। জন সংখ্যার এই সঞ্চালন -বিশ্বে নতুন বস্তি ও নতুন বৈষম্য সৃস্টি করেছে। চীনের মহান নেতা লিন বিয়াও বিপ্লবের সুত্রায়ন করতে গিয়ে বলেছেন যে, বিশ্ব বিপ্লব হবে বিশ্ব জন যুদ্বের মাধ্যমে। যা প্রাগ্রসর  বিশ্বপল্লী থেকে বিশ্ব নগরের দিকে ধাবিত হবে। তা তৃতীয় বিশ্ব থেকে প্রথম বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাবে। এই তত্ব এখন ও সঠিক বলেই আমরা মনে করি। প্রতিটি দেশের জনযুদ্ব নিজ নিজ দেশের জন সংখ্যার এই সঞ্চালনকে কাজে লাগাবে। তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটি মহা নগরের পাশেই বিশাল বিশাল বস্তি গড়ে উঠেছে। তাঁরা তাঁদের স্থানীয় প্রতিক্রিয়াশীল সরকার গুলোকে বিচুর্ণ করে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাবে। যদিও কৃষক এবং গ্রামীন উৎপাদন কেন্দ্র গুলো জনযুদ্বের জন্য গুরুত্বপুর্ন কিন্তু  বর্তমান জনসংখ্যার এই সঞ্চালন আরো একটি নব দিগন্তের উন্মোচন করলো। লিডিং লাইট ও আগামী বিপ্লবের জন্য এই তত্বের সমর্থন করে। কেননা - এরাই হোলো নতুন প্রলেটারিয়ান, নতুন ভিত্তি এলাকা, নতুন ধরনের নতুন গণতন্ত্র, নতুন সমাজতন্ত্র। আগামি দিনের  সমস্যার মোকাবেলায় তাদেরকেই সামগ্রীক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। বিপ্লবী বিজ্ঞানে তাদেরকে সুসজ্জিত করতে হবে - শিক্ষিত করতে হবে প্রকৃত সাম্যবাদে। লিডিং লাইট কমিঊনিজম এই অভিযানে এগিয়ে আছে। একে এম শিহাব


বৃহষ্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০১৪

লিডিং লাইট ঃ বুদ্বিবৃত্তিক নক্সায় ষড়যন্ত্র তত্ব

লিডিং লাইট ঃ বুদ্বিবৃত্তিক নক্সায় ষড়যন্ত্র তত্ব
(llcobangla.org)

একটি প্রচলিত ধারনা আছে যে, সমাজ কিভাবে পরিচালিত হবে তা কেবল পরম সত্ত্বা ইশ্বর ই ভালো জানেন। কোন বিপর্যয় হলে তাঁর ইচ্ছেতেই হবে। সমাজের উত্থান পতন সবই বিধির বিধান ইত্যাদী। এই ধরনের ধারনা একেবাই সঠিক নয় । এই তথা কথিত ' বুদ্বিবৃত্তিক নক্সা'র মত আরো অনেক বস্তা পচা ধারনা খ্রীস্টিয়ান বুদ্বিজীবিদের মাঝে প্রচলন আছে। খ্রীস্টান লোকেরা প্রায়স একটি বিষয় বলে থাকেন যে, ইশ্বরের ইচ্ছায় দুনিয়ায় সব কিছুই হয়ে থাকে। ১৮০২ সালে ধর্মগুরু উইলিয়াম পেলে যুক্তি দেখান যে, একটি ঘড়ি যেমন তাঁর নির্মাতার তৈরী করা নক্সা অনুসারে চালিত হয় ঠিক তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছায় ও নিয়মেই পরিচালিত হবে। ধার্মিক খ্রিষ্টানগণ  এরিস্ট্যেটলের মতামতকে সামনে এনে যুক্তি দেখান যে, প্রানী জগত ও প্রকৃতি পরস্পরের সাথে সংগতি বজায় রেখে চলে। এরা একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। তাই তাঁরা বলতে চান সেখানে অবশ্যই ইশ্বরের হাত রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ডেভিড হিঊম লিখেছিলেন ১৭০০ সালের মাঝা মাঝি সময়ে, তিনি বুদ্বিবৃত্তিক নক্সার ধারনাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। হিউম যুক্তি দেখান যে, প্রকৃতিক নিয়ামাবলী একান্তই একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তিনি একে তুষারপাত ও পাথরের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে তুলনা করেছেন। এই ধারনাটিকে জীব বিজ্ঞানের জগতে ও প্রমান করেন ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন, তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'অন দি অরিজিন অব স্পিসিস' প্রকাশ করে। ডারউইন দেখান জীব জগতে ও প্রকৃতিক নিয়ম খুবই সরল একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। প্রকৃতিক নিয়ম পরিবর্তিত হতে দির্ঘ  একটি সময়ের দরকার হয়। মুলত 'বুদ্বিবৃত্তিক নক্সা' সমাজে একটি প্রহেলিকার জন্ম দিয়েছে। প্রানী ও প্রকৃতির রাজ্যে যে নিয়ম নীতি গড়ে উঠেছে - তা প্রকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে হাজার হাজার বছরে তৈরী হয়েছে।
  
ধার্মিক খ্রীস্টিয়ানরা কেবল মাত্র প্রকৃতির উপরের ধরনটি দেখে। আর ষড়যন্ত্র ত্বত্ত্বের গুরুরা কেবল সমাজের উপরিভাগের কিছু ঘটনাকে দেখে থাকেন। তাঁরা সমাজ ও বিশ্বকে একত্মবাদি ঈশ্বরীয় ধারনার আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন, যার মর্মার্থ হলো- 'যা হয় সবই হয় একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে হয়।' - এই ধরেনের ধারনা একেবারেই ভূল ও অবৈজ্ঞানিক।  যখন দেখি, মহান কার্ল মার্ক্স চার্লস ডারউইনের নামে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ দ্যাস ক্যাপিটেল উতসর্গ করেছিলেন – তখন মনে হয়- এটা কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছিলোনা । মহান ডারউইন খুবই সাধারণ ভাবে দেখালেন, জীব জগতের যে বিবর্তন ঘটছে তা প্রকৃতির স্বভাবিক নিয়ম অনুসারেই চলছে। সেই ভাবে মার্ক্স ও ব্যাখ্যা করে দেখালেন কিভেবে বস্তুগত ভাবে সমাজের বিবর্তন প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ জিব জগতের বিবর্তন আর সমাজ ব্যবস্থার বিবর্তন একই ধারায়  বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদি ব্যাখ্যার বিষয়। ষড়যন্ত্র তত্বের গুরু ও সেই দলের পালের গোদাদের মত দুনিয়াকে না দেখে - আমরা যদি বিপ্লবী বৈজ্ঞানিক মনোভঙ্গী নিয়ে সামাজিক শক্তি, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সামগ্রীক বিষয়াদি বিশ্লেষণ করি তবে - আমারা দেখতে পাব যে, এরা একটি বিশেষ সুবিধা ভোগী শ্রেনীর পক্ষে কাজ করেছে। যারা হলেন - একটি বিশেষ শ্রেণী, লিঙ্গ, জাতি ইত্যাদির জন্য নিবেদিত প্রান পুরুষ। তাঁদের এই প্রকার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে কোন প্রকার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খোঁজে পাওয়া যাবে না । অধিকন্ত তাঁদের এই রূপ ত্বত্ত্ব মানুষকে একেবারেই ক্ষমতাহীন করে দেয়। তাঁরা জনগণকে বলতে থাকেন যে - সামাজিক পরিবর্তন কোন নীতিগত বিষয় নয় বরং তা হলো ক্ষমতাগত বিষয়।  এমন কি কেহ যদি তাঁদের বিশ্বাস থেকে সামাজিক পরিবর্তনের উদ্যোগ ও গ্রহন করেন, তবে তাকে গ্রেফতার করা উচিৎ, এবং তাদেরকে বিচারের সোফর্দ করা দরকার। এই ধরনের ত্বত্ত্ব ক্ষমতা সম্পর্কে এক ধরনের রহস্য সৃজন করে থাকে। সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাশালীদের ক্রিড়নকে পরিনত করে দেয়। ক্ষমতাগত ত্বত্ত্ব আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, বৈজ্ঞানিক বিপ্লবী ত্বত্ত্ব প্রয়োগ করে সামাজিক শক্তিকে একতা বদ্ব করে সামাজিক বিপ্লব সাধন করা উচিৎ। নতুন ক্ষমতা কাঠামো গড়ে তোলতে, ক্ষমতা দখল করতে, নতুন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলতে হবে। প্রচলিত সামাজি নক্সার খোল নলছে পাল্টে দেবার জন্য লিডিং লাইট কমিউনিজমে উন্নিত  হতে হবে এবং সর্বোপরি, সকল প্রকার প্রক্রিয়াগত নিপীড়নের অবসান করার জন্য – আমাদের সর্ব শক্তি নিয়োজিত করা দরকার। জয় হোক সকল মেহেনতি জনতার। একে এম শিহাব   

সোমবার, ৩ মার্চ, ২০১৪

আসল সত্য আমাদের সাথেই আছে।


(llcobangla.org)

তেলমিসাস নগরীতে বিশাল একগুচ্ছ রশি দিয়ে তা পেছিয়ে পাছিয়ে একটি ঘোড়ার টানা গাড়ীর সামনে একটি স্তুপ তৈরী করা হয়। রাশির পর পর দিয়ে একটি বিশাল জট সৃষ্টি করা হয়। যার আগামাথা বুঝার কোন উপায় ছিলনা। ঘোষণা দেয়া হলো, যে এই রশির মাথা সমূহ মিলাতে পারবে - সে এক দিন বিশ্ব জয় করবে। এই জট খোলার জন্য বহু বার বহু জন নানা ভাবে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সকলেই ব্যার্থ হয়। আলেকজান্ডার বিষয়টি পরীক্ষা করে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেন । এরিস্ট্যাটলের ছাত্র আলেকজান্ডার রশির স্তুপ দেখে নিজের কোমর থেকে তলোয়ারটি বের করে এক কোপে সমস্ত রশি গুলোর মাঝখান দিয়ে দুই ভাগ করে ফেলেন এবং সকল রশির মাথা একত্র করেদেন । সেই আলেকজান্ডারই একদিন বিশ্ব জয় করতে পেরেছিলেন। 

আমরা ও আলেকজান্ডারের মতই দূরদর্শী, সাহসী ও সৃজনশীল হব। আমরা শত্রুদের সাজানো যুদ্বক্ষত্রে লড়াই করব না । আমরা তাদেরকে নীতিমালা তৈরী করতে দিব না । আমরা আমাদের মতই খেলব। যা হবে তাঁদের জন্য অপ্রত্যাশিত। সরাসরি শত্রুর বুকে আঘাত করব। পালাতে দিব না। আমাদের আক্রমণ ব্যর্থ হবে না । আমরা কোন মিথ্যা স্বপ্ন বা আশ্বাস দিচ্ছি না । আমাদের আসল শক্তি হল আমরা বিপ্লবী বিজ্ঞান অনুসরন করছি। লিডিং লাইট কমিঊনিজম । আসল সত্য আমাদের সাথেই আছে।

বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪

লিডিং লাইট ঃ পুস্তক সমালোচনা- জন যারজেনের পুস্তক শূন্যতার পিছনে দৌড় !


(llcobangla.org)

জন যারজেন বিগত দুই দশকের সবচেয়ে বিখ্যাত নৈরাজ্যবাদি লিখক। তাকে প্রাচীন নৈরাজ্যবাদিদের তাত্বিক বা সবুজ নৈরাজ্যবাদের গুরু হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর নতুন লুন্ঠনের রাজনীতির ধারনা ১৯৯৯ সালের বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, যেমন- 'পুনর্বাসনের জন্য যুদ্ব,' 'বিপ্লব', 'পরিবেশবাদ' এবং বোমার ব্যবহার আর নয়। শূন্যতার পেছন দৌড় (২০০২) মুলত জন যারজেনের কতিপয় রচনা ও সাক্ষাৎকারের সংকলন মাত্র। তাঁর রচনা সমুহ এবং সাক্ষাৎকার গুলো নানা বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, নানা জাতি স্বত্বার সংস্কৃতির অদিরূপ, জিববৈচিত্র এবং নির্যাতনের ও নিপিড়নের নানারূপ স্থান পেয়েছে।

যারজেনের বিপ্লব হলো-

তাঁর মতে, প্রাচীন কালে মানুষ ঐতিহাসিক ভাবে একটি স্বর্ন যুগে বাস করত – তাঁরা নিপিড়ন থেকে মুক্ত ছিল। এর পর তাঁরা মুল পাপে ডোকতে থাকে,প্রতিকি ভাবধারা বা 'সংস্কৃতি', তাদের জীবনে ক্রমে আসতে থাকে। মানুষের সাংস্কৃতিক যুদ্ব প্রচীন ইতিহাসের কোন এক সময়ে শুরু হয়েছিলো, প্রায় ৩০,০০০ হাজার বছর আগে মানুষের গুহ চিত্রের সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। প্রায় ১০,০০০ হাজার বছর আগে, “ মানুষ ফসল ও প্রানীকে গৃহ পালিত করে তাঁদের  সাংস্কৃতিক বিজয়ের সুচনা করে” সেখান থেকে মানব জাতির পতন হয় যখন বরফ যুগের সুচনা হয়, মানুষ ক্রমে প্রযুক্তির দিকে যাত্রা করে। এবং সত্যিকার অর্থে তখন থেকেই দিগন্ত রেখায় তাঁদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হিসাবে নানা যুগ পেরিয়ে যন্ত্র, রোবট, এবং এখন ইন্টারনেটের যুগের আভির্ভাব ঘটেছে। এগিয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার। “ তাঁদের প্রগতিই দৈত্য হিসাবে দেখা দিতে পারে, ব্যক্তি জীবন থেকে মানবতাবাদ বিদূরীত হতে থাকে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশ গত মহা বিপর্যয় ডেকে আনছে। তিনি বলেন এর এক মাত্র সমাধান হলো অতীতের দিকে ফিরে যাওয়ার পথ ধরা। তিনি বলেন- ফ্রাংফোর্ট মতবাদীদের নিকট থেকে অত্র পুস্তকে অনেক কিছুই নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিচ্ছিন্নতার মতবাদের ব্যাখ্যা, সময়, আর্ট ও সাংস্কৃতি ইত্যাদি। তবে, যারজেন এখানে দর্শন, নৃতত্ব,ভাষা, সাহিত্য সমালোচনাগত বৈচিত্র আনয়নের প্রয়াস পেয়েছেন। যারজেন কোন কোন সময় এমন কিছু অবাক করা অভিযোগ করেন যার প্রমান খুব কমই মিলে। যেমন – যারজেনের মতে অধুনিক দুনিয়ায় মানব জাতি অতিমানবীয় গুন ও শক্তি হারিয়ে ফেলছে ; স্বাস্থে, দৃষ্টি ভঙ্গীতে, শ্রবনে, এবং টেলিপাতি সহ বহু ক্ষেত্রে । যারজেন ও তাঁর অনুসারীদের এমন অনেক দাবী আছে যা সত্যি আপত্তিজনক। দীর্ঘ কাল পৃথীবীতে  স্বাক্ষরতা, ভাষা, মৌখিক যোগাগোগ ছিলনা বলে সামাজিক বাস্তবতায় মানুষের অধিক মাত্রায় যাতায়াত করতে হত – তা যারজেন মানতে নারাজ। কৃষি ও প্রযুক্তি ছিলো না তা ও তিনি মানতে চান না। তিনি জেমস শ্রীভকে সমর্থন করে বলেন যে - নিয়ানডার্থালের সাথে প্রকৃতির  ঘনিস্ট সম্পর্ক ছিলো মানষের চেয়ে বেশী। “..... আধুনিক যুগে আমরা যাদেরকে দেবতা বলে জানি তাঁরা হয়ত এক কালে এই ধরাধামেই বসবাস করত। আমাদের মাঝে বিরাজমান ছিলো পশুত্ব ও মনুষত্ব, নিয়ানডারতালদের মাঝে ও সুপ্রবৃত্তির ও কুপ্রবৃত্তির প্রবনতা ছিলো, বস্তু ও আত্মাকে তাঁরা আলাদা ভাবে না দেখে একক ভাবে দেখত, তাই তাঁরা এদের আলাদা কোন নাম ও দিত না। যা আকর্ষনীয় নয় তা তাঁরা গ্রহন ও করত না। নিয়ানডারতালরা তাঁদের গুহাকে কখন ও পশুর ছবি এঁকে সাজাত না।  তবে, সম্ভবত  তাঁদের জীবন যাপনে পরিশুদ্বতার  কোন প্রশ্ন ও ছিলো না, তাঁরা তাঁর প্রয়োজন ও অনুভব করত না। তাঁরা তাঁদের চার পাশ্বের পরিবেশ থেকেই সুন্দরর্য্য পিপাসা মিটাত। তাঁদের কোন ডোল-ঢপকি বা হারের তৈরী বাঁশি ছিলো না, কিন্তু তাঁরা বাতাসের সুন্দর ধ্বনি, পানির কল-কল শব্দ তাঁরা শুনতে পেত, তাঁরা পৃথিবীর এবং পরস্পরেরে হৃদয়ের ধ্বনি শুনতে পেত।”     

যারজেনের প্রথম বিশ্ববাদ

যদি ও যারজেন স্বীকার করেন যে কিছু মানুষ কর্তৃক অন্য মানুষদেরকে শোষনের মাঝে কিছু উপকার ও আছে- তবে তিনি নিপিড়িত ও নিপীড়নকারীদে মাঝে সীমারেখা টানায় ভুল করেছেন। তিনি লিখেছেন- “ ফ্রয়েড ভবিষ্যতবানী করেছিলেন যে, সভ্যতা যত আগাবে, মানুষের মানসিক অশান্তি তত বাড়বে। তাই  আমাদের মাঝেই একটি সভ্যতা বিরোধী শক্তি ক্রমে ভেতরে ভিতরে বেড়ে উঠবে"। এই রূপ মার্কুসিয়ান মতামত, সকল মানুষকে নিপিড়নের দিকে ঠেলে দেয়, আর তা সমগ্রিক ভাবে চলতে থাকলে মানুষের মাঝে বিপ্লবের সুচনা করে, এই ধরনের প্রক্রিয়া আমাদেরকে অমানুষে পরিনত করে দিতে পারে, ফলে অনিবার্য হয়ে উঠে একটি মানবিক বিপ্লবের। তবে সেই সম্পর্কে যারজেন স্পষ্টভাবে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন  করেন নি । সমাজের পুনর্গঠন ও পরিবর্তন সম্পর্কে  প্রতিটি মানুষের মাঝে যে আগ্রহ আছে তা ও তিনি স্পষ্ট করেন নি। তবে তিনি তাঁর বিশ্বাসকে তুলে ধরেছেন।

বাস্তবতা হলো, প্রথম বিশ্ববাদি মানুষেরা এখন যে ভাবে উপকৃত হচ্ছে, যারজেনের মতানুসারে নিয়ান্ডারথালীয় জীবন যাত্রার দ্বারা তাঁরা সেই রূপ উপকৃত হতে পারবেন না । এই ধরনের প্রক্রিয়ার তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ উপকৃত হবেন, তবে যারজেনের ভাবধারায় নৈরাজ্যবাদী ধারনায় তা সুদুর পরাহত। অতীতের বিপ্লবী ইতিহাস ও মহান লেনিনের ভবিস্যৎ বানী অনুসারে বিপ্লবের কেন্দ্র হবে পুর্ব বা তৃতীয় বিশ্ব। সেখান থেকে তা পশ্চিমে প্রবাহিত হবে। তা সমগ্র বিশ্বের বিপ্লব সাধনে ভুমিকা পালন করবে। যারজেনের ভাবধারার বিপরীতে দেখা যায় যে। প্রথম বিশ্বে কোন বিপ্লব হয়নি। যা হয়েছে তা হলো - জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন । চীনে, ভিয়েতনামে, অ্যালবেনিয়ায়, করীয়ায় । প্রথম বিশ্বে একটি ও উল্লেখ করার মত বিপ্লবী ঘটনা ঘটেনি । লিডিং লাইট কমিউনিজম এ কথাটার উপর ই জোর দিচ্ছে।

পুরাতন নৈরাজ্যবাদের প্রভাব প্রথম বিশ্ববাদী ধারনাকে প্রভাবিত করাছে। তাঁরা সাম্রাজ্যবাদ ও জাতীয় স্বাধিকার আন্দোলনকে নিয়েই মত্ত আছেন। যারজেন তো প্রকাশ্যেই সাম্রাজ্যবাদের উল্লেখ করেছেন। যারজেনের সমালোচনায় নোয়াম চমস্কির কথা ও উঠে এসেছে। যার খোলাখোলী ভাবেই চমস্কির সমালোচনা ও তাঁর সাম্রাজ্যবাদের বরুদ্বে অবস্থানকে নিন্দাবাদ করেছেন। তিনি তৃতীয় বিশ্বের বিরুদ্বে যে সাম্রাজ্যবাদের লড়াই চলছে তা তিনি তাঁর লিখায় তুলে ধরেছেন। 

“ মজার ব্যাপার হলো, দেশের প্রধান যখন বলেন যে এখন যা হচ্ছে তা হোল 'সভ্যতার দ্বন্দ্ব' – তা কি করে বলেন তিনি,আর কি পরিবর্তন চান তিনি ? তাঁর শাসনে সভ্যতার কোন উচ্চতর উদাহরন সৃষ্টি করতে পারেন নি বরং বার বার ই আমেরিকাকে একটি পুঁজিবাদী দেশ হিসাবে প্রমান করেছেন। ….শুধু তাই নয় তা চলছে হাজার বছর ধরে। সভ্যতার অভিশাপ হিসাবে। এটা তো এমন এক সভ্যতা যা প্রতি নিয়ত একের বিরুদ্বে অন্য লড়াই করছে, মরছে - আগেও তা ঘটেছে , সামনে ও তাই হবে।” পুরাতন নৈরাজ্যবাদি ধারনা এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্বে জাতীয় স্বাধিকার আন্দোলনের মাঝে সামঞ্জস্য আছে। পুরাতন নৈরাজ্যবাদি ও প্যালেস্টাইনীদের স্বাধিকার আন্দোলন প্রায় সমানই বলা যায়।

যারজেনের কাজ কর্ম দেখে আমাদের অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, তিনি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের বিপ্লব সম্পর্কে খুব কমই আগ্রহী । সেখান কার দারিদ্রতা দুরী করনে ভুমি সংস্কার ও উন্নয়নের বিষয়ে তেমন কোন গুরুত্ব ও দেন নি। যারজেন তাঁর ভাবধারায় বা মতবাদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বাতিল করে দিয়েছেন একেবারেই। প্রাচীন নৈরাজ্যবাদিদের ধারনায় প্রযুক্তি হলো একটি শয়তানি প্রক্রিয়া । তবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষ ও এখন  এর গুরুত্ব কম বুঝেন না । তাঁরা এখন বিপ্লব ও উন্নয়ন উভয়ই প্রত্যাশা করে। প্রথম বিশ্বের এরূপ ভাব না সত্যি আমাদেরকে অবাক করে বৈ কি ।

আধুনিকতা উত্তর পরিস্থিতি ;
জন যারজেনের লিখা বই পাঠে জানা যায় যে, তিনি আধুনিকতা উত্তর পরিস্থিতির নিন্দ্বাবাদ করেছেন যাকে আমারা বুদ্বি ভিত্তিক লজ্জা বলতে পারি। যারজেন লিখেছেন,
“ আসুন আমরা আমিত্বকে বর্জন করি, বুঝার চেষ্টা করি আমাদের আসল পরিচয় কি, আমাদের দর্শন কি হওয়া উচিৎ, প্রকৃতির সাথে আমাদের সম্পর্কই কি এর কারণ ই বা কি । পক্ষান্তরে, আধুনিকতা উত্তরবাদিদের মতানুসারে প্রকাশ্য বিষয় আশয় কে বেশী গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বাস্তবতা অনেক বদলে গেছে । পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে জঠিল হয়ে উঠেছে। পুরানো ধ্যানধারনা এখন অচল ।”

হাকিম বে সম্পর্কে জারজেন লিখেছেন-
মানুষের তৈরী পদ্বতি প্রয়োগ করতে হলে তা তাঁর জন্য পুস্তকের সহায়তা নিতেই হবে। প্রকৃতির নিয়মাবলী পুস্তক মেনে চলে না। কোন একটা রোগের কারণ হয়ত এলার্জি বলে ব্যাখ্যা করা হলে ও তা সকল সময় সঠিক না ও হতে পারে। তবে তা একটি চলমান পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে চুড়ান্ত সিদ্বান্তে পৌঁছাতে হয়- এটা ই উত্তর আধুনিকতার নিয়ম।

উত্তর আধুনিকতা সম্পর্কে যারজেনের কথা অনেকাংশে সত্য হলে ও ইহা পরিস্কার নয় যে তিনি তাঁর বক্তব্যকে কিভাবে প্রমান করবেন। তিনি আধু মার্ক্সবাদ, বিজ্ঞান এবং আধুনিকতা মানান কি না তা পরিস্কার করে বলেন নি ।

প্রকৃত পরিবেশবাদ
যারজেন চিন্তিত যে, প্রাকৃতিক মহা বিপর্যয় অনিবার্য।
“ একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর পুঁজিবাদ যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা সত্যি চিন্তার বিষয়, তা আমাদের জীবন যাত্রাকে নানা ভাবে প্রভাবিত করছে। দুনিয়া থেকে হাজার হাজার প্রানি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, প্রতি বছর ৫০০০০ প্রজাতির গাছ পালা একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

তবে, জন যারজেনের এই পুস্তকটি প্রচিন নৈরাজ্যবাদের এক কল্প লোককে তুলে ধরেছে। বরং লিডিং লাইট কমিউনিজম হলো প্রকৃত পরিবেশবাদি সংস্থা । ইহা সাম্রাজ্যবাদী দেশ সমূহের দ্বারা অন্যান্য দেশকে শোষণের হাত থেকে মুক্ত করতে চায়। যা হলো আজকের প্রধান দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের অবসান হলে আমরা অন্যান্য দ্বন্দ্বকে বিদূরিত করতে পারব। শোষক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্বে শোষিত দেশ সমূহ কে মুক্ত করতে পারলেই – সামাজিক শক্তির বিকাশ ঘটবে। সেই বিকশিত সামাজিক শক্তি  দিয়ে আমরা পরিবেশ সংক্রান্ত বিপ্লব সাধন করতে পারব। সাম্রাজ্যবাদবিরুধী আন্দোলনের সফলতা আমাদের  সামনের সকল সংগ্রামের বাঁধা দূর করে দিবে। বিগত শতাব্দীতে আমরা সেই উদাহরন দেখতে পাই। তবে সফল সামাজিক বিপ্লবী শক্তি যেমন বলশেভিক বিপ্লব, মাওবাদিদের বিপ্লবী উলম্পন যাতে ফ্যাসিবাদের ও অংশগ্রহন ছিল বলে যারজেন তাঁর পুস্তকে উল্লেখ করেছেন।  যারজেনের পুস্তকটিতে আলোচনায় নানা ক্ষেত্রে একপেশে দৃষ্টি ভঙ্গীর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। বিজ্ঞান বিরোধী মনোভাবের পরিচয় মেলে। বিজ্ঞান ছাড়া মানব জাতি উল্লেখ্যযোগ্য কোন সাফল্য অর্জন করেছে বলে আমাদের যানা নেই। একে এম শিহাব।