বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

নতুন ওয়েব পেইজ

"আমাদের ওয়েব পেইজটিকে সফল ভাবে উন্নয়ন এবং ব্যাপক প্রচারের জন্য সকল পাঠক,লিখক,অনুবাদক এবং শিল্পীদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমরা আমাদের ওয়েব পেইজটির কিছুটা পরিবর্তন করেছি। আমাদের নতুন ঠিকানা হলো – http://llbangla.org  ধন্যবাদ”

বৃহষ্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৪

জ্ঞানগত পঙ্গুত্ব প্রসঙ্গে-


(llbangla.org)

মানুষের জ্ঞানগত পঙ্গুত্ব প্রসঙ্গে জরাতুস্ট্রু মন্তব্য করেছেন, ফ্রেডারিক নিতসে আধুনিক শিক্ষিতদেরকে সমালোচনা করেছেন যাদেরকে সামাজে প্রতিভাবান হিসাবে সম্মানিত করা হয়ে থাকে।

“ সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা তেমন কিছুই জানেন না, তবে হয়ত কেবল কোন একটি মাত্র বিষয়ে একটু বেশী ই জানেন- আসলে তো মানুষ আর কিছু নয়, যার আছে দুটি বড় চোখ, বড় মূখ, একটি পেট অথবা আরো বড় জিনিসের মালিক। আমি তাদেরকেই জ্ঞানে পংগু হিসাবে বিবেচনা করে থাকি।

‘ এবং আমি যখন একাকিত্ব থেকে ফিরছিলাম এবং প্রথম যখন একটি পোল অতিক্রম করছিলাম আমি তখন আমার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, আমি বার বার দেখছিলাম এবং বলতে বাধ্য হলাম, ‘ একটি কান ! একজন মানুষের কান এত বড় ! অমি গভীর ভাবে দেখছিলাম – এবং সত্যি, কানের নিচ দিয়ে কিছু বিষয় চলে যাচ্ছিলো, তা এত ক্ষুদ্র, নগণ্য এবং তুচ্চ  বিষয়। এতে কোন সন্দ্বেহ নাই যে, এই আশ্চর্য্যজনক কানটি এত ক্ষুদ্র ও হালকা ভাবে মানুষের সাথে মিশে আছে ! যদি কেহ একটি আতস কাচের গ্লাস ব্যবহার করে কিছু দেখেন তখন তিনি অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যিনি ও দেখতে পাবেন; ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীবকে ও বৃহৎ আকারে দেখতে পাবেন। তবে, অনেকে আমাকে বলেন, মহান মানুষ কেবল শোনেই জ্ঞান অর্জন করে না, বরং তার মাঝে প্রতিভা ও বিদ্যমান। মানুষেরা যখন মহান ব্যাক্তিদের কথা বলেন তখন আমি তা একেবারেই বিশ্বাস করিনা । কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, এই ধারনা এক প্রকার জ্ঞানগত পঙ্গুত্ব। যারা অনেক কিছু ই জানেন কিন্তু কেবল একটি মাত্র বিষয়ে বেশী জানেন’।

যখন জরাতুস্ট্রু তার অনুসারী ও আদর্শ প্রচারকদেরকে প্রত্যাবর্তনের কথা বলেন, এবং তাদেরকে ফেরার তাগিদ দেন তখন তিনি তাঁদের নিকট গিয়ে বিনয়ের সাথে বলেন, ‘ আমার প্রিয় বন্দ্বুগন ! আমি মানুষের মাঝ দিয়ে, মানব শরীরের খন্ড বিখন্ড এবং মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে বিচরন করেছি। তা ছিলো আমার জন্য বেদনা দায়ক, আমি তা দেখে সহ্য করতে পারছিলাম না, আমি দেখছিলাম মানুষের খন্ড বিখন্ড লাশের স্তূপ। সেটা কি কসাইদের বধ্যভূমি নাকি যুদ্বের মাঠ। আমি সেই মাঠের সর্বত্র একই দৃশ্য অবলোকন করেছি। আমি সেখানে মানুষ দেখিনি – দেখেছি কেবল মানুষের খন্ড বিখন্ড লাশের টুকরার স্তূপ”।

এমন রষায়নবিদ আছেন যিনি বেটোফেন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এমন প্রকৌশলী আছেন যিনি কান্টের দর্শন পড়েন নি। এমন অর্থনীতিবিদ আছেন যিনি কখনও শেক্সপীয়ার পড়ে দেখেন নি। এমন ঐতিহাসিক আছেন যিনি আইনস্টাইন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। এমন শীল্পি আছেন যিনি কার্ল মার্ক্স পড়েন নি। এমন সমাজ বিজ্ঞানী আছেন যিনি নিঊটনের নিয়ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। এমন অনেক পদার্থ বিজ্ঞানী আছেন যিনি শয়তানের অস্থিত্বে বিশ্বাস করেন।

বুর্জোয়া শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষী করনের প্রক্রিয়া উচ্চ মার্গে অবস্থান করছে। এর লক্ষ্যই হলো অতিমাত্রায় একজন মানুষকে একটি মাত্র ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বানিয়ে দেয়া। এরা সাধারনত ব্যাপক বিস্তৃত পরিসরে কোন শিক্ষাকে উৎসাহিত করেনা। ইহা কেবল পদার্থ বিজ্ঞান বা প্রকৌশল বিদ্যার বেলায় নয় বরং সকল প্রকার মানবিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ও একথা প্রযোজ্য। এক জন ব্যাক্তি হয়ত তার নিজের চোখে দুনিয়াকে দেখে, এবং সে তার সাধ্যমত কাজ করে। প্রত্যেকে তার নিজস্ব দক্ষতানুসারে নিজের সমস্যাকে বিশ্লেষণ করে, তবে সে বৃহত্তর পরিসরে সমস্যাটা দেখতে পায় না। ইহা মানুষের জ্ঞান বুদ্বিকে একপেশে করে দেয়। মানুষকে তার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সামগ্রীক বিশ্লষনী প্রক্রিয়া এখন আর শেখানো হয় না। এখন কার লোকেরা অনেক ক্ষেত্রেই বিচ্ছিন্ন ও সামঞ্জস্যহীন দুনিয়ায় বসবাস করতে অব্যস্থ হয়ে উঠছেন। এটা অনেকটা অন্দ্বত্বের মত। এই সুন্দর ভূবনের একটি মাত্র ক্ষুদ্রাংশ হয়ত ভালো ভাবে দেখতে পাবে, কিন্তু এই বিশাল দুনিয়ার অপার সুন্দর্য্য হয় দেখতেই পাবেন না।

এই পরিস্থিতিটা এখন বুর্জোয়া সামাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পরছে। আজকের দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশী শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত মানুষের দেশ হলো অ্যামেরিকা। সেখানে সম্প্রতি একটি জড়িপে দেখা গেছে যে, বেশীর ভাগ মার্কিনীরা আক্ষরিক অর্থেই বেহেশত ও দুযখ বিশ্বাস করেন এবং ডারউইনের বিবর্তনবাদের ত্বত্ত্বকে শয়তানী ত্বত্ত্ব মনে করেন। ৮২% বলেছেন তারা ইশ্বরে বিশ্বাসী। ৭২% বলেছেন তারা যীশুকে সয়ং ইশ্বর বা ইশ্বরের পুত্র মনে করেন। ৬২% বিশ্বাস করেন শয়তানে আর ৭৯% বিশ্বাস করেন অলৌকিকত্বে।

জরাতুস্ট্রু জ্ঞানগত পঙ্গুত্বের বর্ননা করতে গিয়ে সমাজকে “ মানব শরীরের খন্ড বিখন্ড ও অঙ্গ   পত্যঙ্গ”, “যুদ্বের মাঠ ও কসাই খানায় ধ্বংস প্রাপ্ত এবং বিক্ষিপ্ত” , “ একটি দুর্ঘটনায় ভয়ংকরভাবে খন্ড বিখন্ড মানব দেহ ও অঙ্গ পত্যঙ্গ – কিন্তু একটি ও মানুষ নেই”। নিতসের রাজনীতি যথার্থ না হলেও এক অর্থে তিনি সঠিক। তিনি পুর্নাংগ মানুষের কথা বলেছেন। যা পুঁজিবাদী সমাজে পাওয়া সম্ভব নয়। নিতসে কি দেখেছেন – “ কসাইয়ের বধ্য ভূমি ও যুদ্বের মাঠে” – সাম্রাজ্যবাদের নির্মম তাবায় সীমাহীন সহিংসতায়  মানবতার খন্ড বিখন্ড লাশের স্তূপ, পুঁজিবাদের শোষণ, বুর্জোয়া সমাজের মূর্খতা ও হীনমন্যতা ইত্যাদী। মানবতা এখন ভীত সন্ত্রস্ত্র – কেননা বুর্জোয়া সমাজ এখন তাঁদের মহান ব্যাক্তিদের দ্বারা, শয়তানী বুদ্বিতে ও আস্ত্র শস্ত্রে  সুসজ্জিত হয়ে দৈত্ত্বের রূপ ধারন করে  আছে। নিতসে তো মার্ক্সের কথাই বলে গেছেন, যখন তিনি বুর্জোয়া সমাজের অসঙ্গতি ও দ্বন্দ্বের কথা বর্ননা করলেন। তিনি বললেন, সমাজের বুদ্বিমত্ত্বায় ও বোকামীতে দ্বন্দ্ব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও তাঁদের ব্যার্থতায় দ্বন্দ্ব তা যেমন সমাজে ঠিক তেমনি আবার ব্যাক্তি পর্যায়ে বিদ্যমান । আর ইহা হলো বুর্জোয়া সমাজের আসল চরিত্র।

নিতসের বক্তব্য ছিলো বিভ্রান্তি মূলক, যা নিহিলিজম,অযৌক্তিকতা,ব্যাক্তিবাদ এবং ঐতিহ্যবাদের একটি জগাকিছুরীর সমাহার। যরতুস্ট্রু তার কথা বলতে গিয়ে ও অস্পস্টতায় ভূগেছেন। তার ভাষায় ‘অতিমানব’ ত্বত্ত্ব মানুষকে অবদমিত করেছে। আর সেই কারনেই নিতসে তার চিন্তাধারায় জার্মান ফ্যাসিবাদকে প্রসঙ্গীকতা দিয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। ফ্যাসিবাদ নতুন একটি সমাজের সূচনার বা পুনঃ সূচনার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে দেয়। তা ছাড়া গুরুত্ববাদ, নায়কবাদ সহ নানা নেতিবাচক উপাদানের জন্ম দেয়। ইহা  সমাজকে,সংস্কৃতিকে ও বুদ্বিমত্তাকে বিকৃত করে। ফ্যাসিবাদ অসংখ্য প্রতিভাকে বিনাশ করে দেয়, এবং মানুষের জ্ঞানগত পংগুত্বকে বৃদ্বি করে। ইহা যুদ্বের কলা কৌশল ও যন্ত্রপাতিকে বিকশিত করে দেয়। মার্টিন হেইগার নাজি বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন এই আশায় যে, তিনি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থাকে গোড়াতেই ধ্বংস করে দেবেন। তিনি অবশেষে বুঝতে পেড়েছিলেন যে, ফ্যাসিবাদ মূলত প্রকৌশলিক দর্শনের ই একটি ভিন্ন  ও যান্ত্রিক চিত্র। হেইগারের পর, হার্ভার্ট মার্কিঊস দেখালেন যে, পাশ্চাত্যের উদারতাবাদ ও সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ আদতে একই মূদ্রার এপিট উপিট ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি ও তারা স্ব স্ব দর্শন আলাদা আলাদা ভাবে হাজির করে ছিলেন। তাঁদের উভয়ই প্রকৌশলগত ( কি ভাবে) জ্ঞান অর্জনে যত তৎপর ছিলো তারা কেন ? জ্ঞানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বই আরোপ করেন নি। জ্ঞানের উদ্দেশ্য ছিলো আমরা কিভাবে সকল কিছু অর্জন করতে পারব। সকল কিছু কেন অর্জন করতে চাই তার প্রতি কোন নজরই দেয়া হয়নি। তারা উভয়ই “যান্ত্রিক ব্যবস্থার” উন্নয়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন – অন্য কোন দিকে তাঁদের তেমন কোন খেয়ালই ছিলো না।

সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্র বিনির্মানের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ সমূহ খুবই কার্যকরী ছিলো। সৌভিয়েত উন্নয়নের কর্ম পরিকল্পনাটি প্রধানত উৎপাদন শক্তি ত্বত্ত্বের দ্বারা বিশেষ ভাবে প্রভাবিত ছিলো। যার ভিত্তিই ছিলো প্রকৌশলগত দিক সমূহ। ইহা বিপ্লবী শক্তি ও আদর্শগত দিক সমূহের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। যেমন- শ্রনী সংগ্রাম। এর অর্থ হলো  সাম্যবাদ বিনির্মানের জন্য যখন কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নির্ভর হয় তখন তার প্রভাব শিক্ষা ও সংস্কৃতির উপর ও পরে। প্রযুক্তিই শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। পাশ্চাত্যে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি বিভাগ নির্ভর। তারা উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির বাহিরে কিছুই ভাবতে পারেনা। সৌভিয়েত ও এক সময় এই পথে নিজেকে শপে দেয়। পরিনামে সংশোধনবাদ সেখানে দানাবাধে। নিজেদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পাশ্চাত্যের ধাঁচে     তৈরী করার প্রয়াস চালায়। এই অবস্থায় যখন সৌভিয়েত নেতারা সমাজতন্ত্রে সিমাবদ্বতা দেখতে পান তখন তারা ধনবাদকে কায়েম করতে উৎসাহিত হয়ে উঠেন। যদিও সেই সময়ে চীনের মাওবাদিরা সেই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন কিন্তু পরে তারা ও সেই পথে হাটলেন এবং ধনবাদ কায়েম করলেন।

 মার্ক্স “যুদ্বের মাঠ অথবা একটি কসাইদের বধ্যভুমি”র সমাধান দিতে গিয়ে বলেছেন, ধনবাদকে সাম্যবাদের রূপান্তর করতে হবে। ধনবাদ নিজেই নিজের কবর খুড়েঃ প্রলেতারিয়েত তৈরী করে। ধনবাদের বিজ্ঞান একটি ও একমাত্র কর্মকৌশল, সে তার আওতাধীন জনগণকে যরাতুস্ট্রের ভাষায় জ্ঞানের পঙ্গু হিসাবে গড়ে তোলে। তবে বিজ্ঞান যখন বুর্জোয়া সমাজের মালিকানাকে অস্বীকার করে এগিয়ে যেতে চায় তখন ই আমাদের প্রচলিত সমাজ আঁতকে উঠেলে ও তার সম্ভব। অধুনিক সমাজের সম্ভাব্য বিপদ সমূহকে এড়ানো সম্ভব। একজন মহান বিপ্লবী নেতার সর্বদাই এক পা থাকে ধনবাদি সমাজের মাঝে আরেক পা থাকে প্রলেতারিয়ান সমাজে। মার্ক্স জন্মে ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারে আর বিয়ে করেছিলেন একটি ক্ষুদ্র অভিজাত পরিবারের কন্যাকে, পরে তিনি নিজে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন। তিনি নিজেকে প্রলেতারিয়ানদের মুক্তির জন্য নিবেদিত করেন, লিখেন অতি মূল্যবান বই, পস্তক ও প্রবন্দ্ব। যা তাকে তিলে তিলে দারিদ্রতার দিকে নিয়ে যায়। মার্ক্সের  পা ছিলো উভয় সমাজের মাঝে। লেনিন ও বেশ উচু শ্রেণী থেকে এসেছিলেন। তিনি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। তিনি ও তার জীবনকে মানুষের সেবায় নিয়ূজিত রাখেন। হয়ে উঠেন বিপ্লবী এবং প্রলেতারিনাদের নেতা। মাওসেতুং এসেছিলেন একটি কৃষক পরিবার থেকে, তবে তারা বেশ স্বছল থাকায় শহরে এসে পড়া লিখা করতে পেরেছিলেন। তিনি তার সময়কার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পেরেছিলেন। লেনিন ও মাও এই দু জনের ও উভয় সমাজে বিচরন ছিলো। একজন বিপ্লবী নেতা হলেন সমাজের সেতু বন্দ্বন যিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে সাধারণ মানুষের কাছে তা কে নিয়ে যেতে পারেন। এক জন সত্যিকারের লিডিং লাইট সমাজ পরিবর্তনের জন্য সেতু হিসাবে কাজ করেন। ধনবাদ নিজেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে। ইহা মানুষের জ্ঞানের জগতকে পঙ্গু বানিয়ে দিয়েছে। প্রলেতারিয়ান লড়াই হলো সকল প্রকার নিপীড়ন ও নির্যাতনের অবসান ঘটানো। ইহা সামগ্রীকভাবেই সামাজিক পরিবর্তন সাধন করতে চায়। ইহা সমাজের বুদ্বিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অসামঞ্জস্যতাকে চীর তরে উতপাঠন করতে বদ্বপরিকর। জ্ঞানগত পংগুদের পরিবর্তে প্রলেতারিয়ান বুদ্বিজীবীদেরকে সমাজে প্রতিস্টিত করতে চায়। একজন লিডিং লাইট হলো একজন গনযুদ্বা। তা পুরাতন শক্তিকে অপসারণ করা নতুন শক্তির জন্মদান করতে চায়। এই নতুন শক্তির মাঝে থাকবে একটি সুস্থ্য সংস্কৃতির চর্চা। সেখানে মার্ক্সবাদ জয়ী হবে যেখানে নিতসেবাদ ব্যার্থ হবে।

বিপ্লবী আন্দোলন একটি জটিল প্রক্রিয়া। সৌভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের মহা পরজয়ের পর, প্রলেতারিয়েত আন্দোলন নিজেকে এগিয়ে নেবার চেষ্টা করছে। লিডিং লাইট এই অন্দ্বকার অবস্থাটার অবসান করতে চাইছে। একটি বিপ্লবী বিজ্ঞান এবং সকল প্রকার শক্তি নিয়ে লিডিং লাইট কমিউনিজম পুনঃ এগিয়ে আসছে। এখন এর একটি রূপান্তর বা পরিবর্তীত প্রক্রিয়ার সময় চলছে। ইহা এখন নেতৃত্বের স্তর থেকে গন মানুষের স্তরে সঞ্চালিত হচ্ছে। ইহা একটি শক্তি শালী দু ধারী তলোয়ারের মত – যা জনগনের হাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। একটি নতুন শক্তির বীজ বপন করার কাজ চলছে। তবে এটা ও সত্য যে একেই সময়ে বুর্জোয়া সংস্কৃতির বিকাশ ও ঘটছে ব্যাপক ভাবে। তা সত্বেও আমাদের বিপ্লবী আন্দোলন সংগ্রাম প্রতিদিন সফলতার দকে দাবিত হচ্ছে। শ্রেণী সংগ্রাম প্রতিনিয়ত জোরদার হচ্ছে তা বিপ্লবের পটভূমি তৈরী করছে। শ্রেণী শত্রুর দল আমাদের উপর উপর্যুপরি আঘাত হানলে ও তারা আমাদের  বিজয়কে ঠেকাতে পারবে না। উদাহরণ হলো – আমাদের শত্রুরা নানা ভাবে আমাদের মঝে কিছু ‘না করার মতবাদ’ এবং ‘কাপুরুষচিত সিংহবাদ’ এর জন্ম দিচ্ছে। এই দু টি ভূল ধরনা সামগ্রীক ভাবে জ্ঞান গত পঙ্গুত্ব জন্ম দিতে পারে । তা যেন কোন বিপ্লবী বাহিনীকে আক্রান্ত করতে না পারে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে আমাদের সকলকেই।

বহু সংশোধন পন্থী মানুষ আছেন যারা প্রধানত মার্ক্সীয় পুস্তকাদী থেকে উদ্বৃতি ব্যবহার করেন। নিজেদেরকে গোড়ামীবাদি হিসাবে সকল ক্ষেত্রেই ভুমিকা নেন। তারা সামাজিক মাধ্যমে  ইতিহাস, সামাজতন্ত্র ও  রাজনৈতিক অর্থ নীতি বিষয়ে তর্কে  ও অংশ নেন । কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে  প্রয়োগের ক্ষেত্রে  এইসকল মার্ক্সবাদি – লেনিনবাদি – মাওবাদি রা সকলেই একই প্রকৃতির আচরন করেন। তারা ও ট্রটস্কীবাদিদের মত স্বর্গ থেকে নামতে চাননা বা কার্ম ক্ষেত্রে যেতে লজ্জিত হন। তারা মূখে বড় বড় কথা বলেন কিন্তু কাজ করেন খুবই কম। তারা বড় জোড় আনুষ্টানিকতা ও প্রথম বিশ্ববাদীদের  মত প্রদর্শনী মার্কা কাজ করে থাকেন। যিদিও তারা মার্ক্সের কার্যক্রমের নানা উদাহরন ও ব্যাখ্যা করে থাকেন তাতে মূলত তারা সেই দার্শনিকদের মতই যারা কেবল নানা ভাবে দুনিয়ায়াকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন তাকে বদলের জন্য চেষ্টা করেন না । তারা লেনিন ও মাওয়ের বই থেকে অনেক বক্তব্য উদৃত করেন কিন্তু তারা এর মর্মাথ বুঝতে পারেন না । তারা এটা অনুধাবনই করতে পারেন না যে এখন কি কি  করা উচিৎঃ বিপ্লব অর্থই হলো ক্ষমতা দখল করা । ইহার দাবী হলো সকল ক্ষমতা করায়ত্ব করা। ইহা কেবল মাত্র কথা বলা নয় বা মানুষকে স্বপ্ন দেখানো নয়। পেরুর কমরেডরা একটা শ্লোগান দিত- “ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছাড়া, সকল কিছুই কল্পনা বিলাস”। তাই সকল বিপ্লবী আন্দোলন সংগ্রামের লক্ষ্যই হলো রাস্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা। যদি আমরা ক্ষমতা দখল করতে না পারি, তবে আমাদের সকল কথা বার্তা, সকল পোস্টারিং কেবল স্বপ্ন বিলাস ই থেকে যাবে। আমরা ও বুদ্বিবৃত্তিক পংগুত্বে ভোগতে থাকব। আমরা এক দল বিপ্লবী তে পরিণত হব যারা কেবল পূর্বের বিপ্লব নিয়ে গর্ব করেই খালাস। আমরা গতানুগতকতায় ঘুরপাক খেতেই থাকব। নতুন ধারনার নতুন ভাবনার বা দর্শনের জন্ম দিতে পারবনা।

বিচ্যুতি সর্বদাই বিপ্লবী আন্দোলনকে নিশ্চল করে দেয়। বিপ্লবী নেতাদেরকে বিশেষভাবে সমাজে প্রদর্শন করা হয়। তাঁদের সামাজিক অবস্থান অস্থিত্বিই বড় হয়ে দেখাদেয়। সংগঠন সমূহ ও তাঁদের জন্ম দিবস পালন ইতিহাস নিয়ে মেতে থাকে। মার্ক্সের কার্যক্রম বর্তমান বিপ্লবীদের কাজের সাথে মোটেই মানানসই নয়। এখন কার বিপ্লবীরা কেবল  সমস্যার বিশ্লেষণ করে স্তুপিকৃত করছে। কিন্তু কোন কাজ নেই। কমিউনিস্ট মেনোফেস্টো শেষ করা হয়েছিলো সংশোধনবাদের বিশ্লষন দিয়ে – যাতে শ্রেণী চেতনায় ফেরত যাওয়া যায়। লেনিন তাকে আরো এগিয়ে নেন। মাও এর উপর আরো একটি বিশাল কাজ করে গেছেন- ‘দলীয় ভূলত্রুটি সংশোধনের ধারনা’।

জ্ঞানগত পঙ্গুত্ব বুর্জোয়া সমাজে থেকেই যাবে । অন্য দিকে কিছু মানুষ সুর চিৎকার কতেই থাকবেন। কাপুরুষ সিংহের দল গুঞ্জন চালিয়েই যাবে। কৌতক কারারীর দল কৌতুক করেই যাবে। আর এসব কিছু চলবে ধনবাদের রাজত্বে। আমাদেরকে বাস্তবতার আলোকে আমূল পরিবর্তনে উদ্যোগী হতেই হবে। ক্ষমতা গ্রহন করা ছাড়া সকল কিছুই স্বপ্ন বিলাস। আমরা বিজ্ঞানী এবং যুদ্বা – আমাদের হ্রদয় ও মেধা আছে। সংগঠন, নেতৃত্ব, বলিদান, দায়িত্ব পালন করা, সম্মান ও ইজ্জত দান করা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করার সকল ব্যবস্থাই আমাদের আছে। ইহা অতি কথার ফুলঝুড়ি নয় – ইহা বিজয়ী হওয়ার মৌলিক উপাদান। জনগণকে সেবা করুন; পৃথীবীকে বাঁচাও । মানুষের জন্য পৃথিবীর জন্য বাচ ও মর। আমারা আমাদের জিবনকে বন্দুকের ট্রিগারে নিয়ে চলেছি। লিডিং লাইট দির্ঘ জীবী হোক ! আমাদের সূর্য উঠছে ! আমাদের দিন আসছে !#শিহাব         

রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৪

আবাসনবাদ, ভৌগলিক সাম্রাজ্যবাদ, এবং গাজা সম্পর্কে মার্কিন অভিমত !

(llcobangla.org)
আমেরিকার কিছু গবেষণা প্রতিস্টান মার্কিনীদের মতামত জরিপ করে গাজায় চলমান দ্বন্দ্বের বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের এই গবেষনার ফলাফল সত্যিই চমকপ্রদ। একটি প্রতিস্টান যারা প্রতিবছর ৩ মাস  অন্তর ৪ টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, তাঁদের প্রথম প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে, মার্কিনীরা বিশ্বাস করেন ইসরায়েল “অনেক দূর এগিয়ে গেছে”। বিগত ২০০৬ সালের পর থেকেই তাঁদের এই মনোভাব অপরিবর্তীত রয়েছে। যখন লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্বে ইসরায়েলীরা তাঁদের অভিযান শুরু করেছিলো –তখন থেকেই অ্যামেরিকানদের এই মতামত বিরাজ করছে। এর দ্বারা যে বিষয়টি স্পষ্ট হয় তা হলো বিগত এক দশকে ও ফিলিস্তিনীদের পক্ষের যে সকল সংস্থা আছে তারা তাঁদের কার্যক্রমের মাধ্যমে মার্কিনীদের মনোভাবের কোন প্রকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন নি। তবে এবার মনে হচ্ছে আগের তুলনায় এখন মার্কিনীদের মতামত ইসরাইলীদের বেপরোয়া কার্যক্রমের বিপক্ষে চলে গেছে, আমাদের বিশ্বাস এখন এই জরিপের ফলাফলে অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে, অভিজাত শ্রেণী এবং সাংবাদিকদের অনেকেই আর ইসরাইলীদের সমর্থন করেন না। তবে, এটা ও সত্য যে মার্কিন মুল্লুকের তৃণমূলে তেমন কোন পরিবর্তন এখন ও আসেনি।  ইসরায়েলের পক্ষে প্রচার প্রপাগান্ডায় প্রধানত নানা গনমাধ্যম সবিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের পক্ষের বুদ্বিজীবি, নীতি নির্ধারকগন তৃণমূলকে সামনে রেখে কার্যক্রম গ্রহন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তাঁদের জরিপ বলছে, তরুন সমাজ বিশেষ করে ডেমক্রেটিক দলীয় লোকেরা এখন ইসরাইল ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
“ ডেমক্রেট সমর্থক গুষ্টি চলমান ইসরাইলী সহিংশতার কারনে বেশী বিভক্ত হয়েছেন, ২৯% লোকেরা এই হামলার জন্য হামাসকে দায়ী করেছেন, ২৬% লোক দায়ী করেছে ইসরাইলকে এবং ১৮% লোক দায়ী করেছেন তাঁদের উভয়কেই”।

“ উদার গন্তান্ত্রিকদের মাঝে যারা মতামত দিয়েছেন তাদের ৪৪% বলেছেন ইসরাইল অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে, ৩৩% বলেছেন তারা সঠিক ভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন, এবং ৭% বলেছেন তারা এখন ও  তেমন কিছুই করতে পারেন নি। রক্ষনশীল পন্থীদের মাঝে যারা মতামত দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ১০% বলেছেন ইসরাইয়েল অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে, ৫১% বলেছেন তাঁদের ভূমিকা সঠিক ই আছে, এবং ২১% বলেছেন ইসরায়েল এখন ও তেমন কিছু করতে পারেনি”।
বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয় যে, ২২% সাদা মানুষ বলেছেন ইসরায়েল অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে, ৩৬% কালো মানুষেরা বলেছেন যা বলেছেন ৩৫%  ল্যাতিনুরা ও একেই কথা বলেছেন । কালো ও ল্যাতিনো উভয় ই বলেছেন যে ইসরায়েল গাজায় গনহত্যা চালিয়েছে। তাদের কর্মকান্ড সভ্যতার ইতিহাসে জগন্যতম হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
প্রথম বিশ্ববাদী বাম দল গুলোর মাঝে এমন একটি মিথ চালু আছে যে, তারা মনে করেন আমেরিকার সমাজ গঠনিক ভাবে “অভিবাসী সমাজ” দ্বারা গঠিত – তা আজ আমাদেরকে ভালো ভাবে অনুধাবন করা দরকার। তাঁদের মাঝে এমন একটি ধারনা প্রচলিত আছে যে, যেহেতু এখন ও অভিবাসীদের দ্বারাই সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত হয়, সেহেতু তাঁদের দিয়েই সেখানে একটি বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব। কিন্তু এটা ভূলেগেলে চলবে না যে, এই রাষ্ট্রটি সাদাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, এর মানে হলো সাদাদের দৃষ্টি বংগীর বাইরে অন্য কেহ সেখাবে নাক গলাতে পারেন না। এক কালে একই ভাবে দক্ষিন আফ্রিকায় তারা শাসন করেছেন এখন তারা ফিলিস্তিনে ও তাই করতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যেই ইসরায়েল ফিলিস্তিন দখলে নিয়েছে।
এই মিথ থেকে অসাদাদের মাঝে জাতীয় মুক্তির চেতনা জাগতে পারে, আভ্যন্তরীণ আদা উপনিবেশবাদ, এবং করদ রাজ্য গুলোর মধ্যে স্বাধীনতা, বিপ্লব ও সাদাদের পরাজিত করার সংগ্রাম বাধতে পারে। ইহা একটি সত্য বিষয় যে, উত্তর অ্যামেরিকা ইউরূপীয়ান অভিবাসীদের দ্বারা আজ শাসিত হচ্ছে, এবং এটা ও সত্য যে, এখন ও সাদাদের প্রাধান্য এবং নির্মমতা সেখানে বিরাজ করছে। তবে যা সত্য নয় তা হলো প্রথম বিশ্ব সহ অ্যামেরিকায় বিপ্লবের জন্য তাঁদের সমাজ মোটেই প্রস্তুত নয়। আর এটা ও সত্যি নয় যে, আমেরিকার ভেতরকার আদা উপনিবেশিক দেশ সমূহ সেখানকার পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করার জন্য উল্লেখ যোগ্য কোন ভূমিকা রাখবে। এটা বড় জোর গতানুগতিক আন্দোলন সংগ্রামের নামে একটি বিশেষ ধরনের মিথ প্রচার হতে পারে। যা অনেকটা “রোমান্টিক চলনার” মতই – বিপ্লবী বলে জাহির করার একটি প্রবনতা। এই কর্মকান্ড প্রকৃত বিচারে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, আর নেতৃত্ব দান কারীরা কিছু সুযোগ সুবিধা আদায় করার মওকা পেয়ে যাবেন। যদি এই ধরনের বিশ্লেষণকে সত্যিকার ভাবে গ্রহন করা হয় তবে প্রথম বিশ্ববাদকে অবশ্যই ত্যাগ করা সহজতর হবে।
মিথ যারা তৈরী করেছেন তারা একটা জিনিস ভালো বুঝেছেন যে, প্রলেতারিয়ান চিন্তা ভাবনা এখন আর সাদাদের মাঝে নেই, কেননা তারা এখন আর প্রলেতারিয়েতের স্তরে নেই। তারা যা বুঝতে ব্যার্থ হয়েছেন তা হলো, আভ্যন্তরীণ আদা উপনিবেশিক জন গুষ্টির মাঝে ও প্রলেতারিয়েতের ধারনয়া বিরাজ মান নেই। ইহা একটি গুরুত্ব পূর্ন বিষয় হলো যে, অসাদাদের মাঝে কি ধরনের মানসিকতা বিরাজমান রয়েছে তা যাচাই করে দেখা। এখন আদিবাসী সমপ্রদায়ের মানুষের মাঝে ও এখন আর আগের মত জাতীয় চেতনা কাজ করে না। যেটুকু আছে তা ও খুবই নগণ্য পর্যায়ে। জাতীয় চেতনার ক্ষেত্রে মাক্সিকানদের মাঝে ইহা বেশ শক্তিশালী । অন্যদিকে তা সিকাগোবাসীদের মাঝে তেমন শক্তিশালী নয়। এই ধরেন চেতনা ও আবার অনেক ক্ষেত্রে জাত্বাভীমানের পর্যায়ে পরে। সাদা এবং অসাদাদের মাঝে দৈনিন্দিন জীবনে একটা ব্যবদান থেকেই যাচ্ছে।
সম্পাদিত জরিপে একটা জিনিস পরিস্কার হয়েছে যে, সাদাদের তুলনায় কালোরা অধিক মাত্রায় বেশী সমর্থন জানিয়েছেন ফিলিস্তিনীদের অধিকারের প্রতি। ল্যাতিনু সম্প্রদায়ের মানুষেরা ও ফিলিস্তিনীদের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ও সঙ্গহতি জানিয়েছেন। প্রকৃত সত্যি হলো সামগ্রীক জরিপের বিশ্লেষণে দেখাসাদাদের তুলনায় অসাদা লোকেরা বেশি মাত্রায় ফিলিস্তিনীদের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন। কোন কোন মিথ গঠন কারীর এইরূপ মত ও আছে যে, অসাদা প্রলেটারিয়ান যারা অ্যামেরিকায় বা ইসরাইলে থাকেন তারা ও হয়ত ফিলিস্তিনীদের প্রতি সমর্থক ছিলো। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
এটা সত্য যে আমেরিকার সমাজে নানা দেশের নানা জাতের মানুষ বসবাস করেন। ইহার ও একটি সুদির্ঘ ইতিহাস আছে। এই ক্ষেত্রে মানতেই হবে যে, ইয়াহুদীরা আমেরিকার সবচেয়ে পুরাতন অভিবাসী মানুষ। আইরিসরা এখানে বর্নবাদের যন্ত্রনায় কাতর হয়েছেন। এই রূপ অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। তবে সাদা লোকেরাই সকলের আগে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অনুকম্পা পেয়েছেন সকলের আগে। কেহ কেহ মনে করেন ভাষাগত কারনে ও এই রূপ সুবিধা অর্জন করে থাকবেন। কিছু ঐতিহাসিক আছেন যারা মনে করেন যে, হংকী শব্দটি মূলত হাঙ্গেরীয়ান এবং পূর্ব ইউরূপীয়দের মধ্য থেকে উদ্বুত হয়েছে, যাদেরকে দেখলে স্বাভাবিকভাবে যথযত ভাবে সাদা মনে হয় না। সাধারণ ভাবে সাদাদের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে এই শব্দটি সাম্রাজ্যবাদকে আজ প্রতিনিধিত্ব করে, তাই কোন মানুষকে হংকী হবার জন্য সাদা হবার দরকার নেই। আজ অ্যামেরিকায় এশিয়ান, ও আইরিস অ্যামেরিকানদের মধ্যে মাতাপিছু আয়ের তেমন তারতম্য নেই । লাতিন ও কালো মানুষেরা নিজেরাই এখন সাম্রাজ্যবাদের পক্ষের লোক । তারা ও এখন এখানে প্রায় সাদাদের মতই সাম্রাজ্যবাদের সুবিধা ভোগ করছেন। এখন সকলের মাঝেই এমন একটি সহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে  যেখানে সাংস্কৃতিক, ইতিহাস, কথা বলার ধরন ও প্রকৃতি ভিন্ন হওয়া সত্বে ও মেনে নিচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান এখন একটি শক্তি শালী ভুমিকা রাখছে, যা অতীতে ছিলনা। মার্কিনীরা ভিন্ন ভাষাভাষি, ভিন্ন সংস্কৃতিকে ও বিভিন্ন জাতিয়তার মানুষকে সমন্বিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে, সকল কে একই মর্যাদায় সমন্বিত করতে পারেনি।

তবে অ্যামেরিকা নিজেকে একটি বহু জাতিক দেশ হিসাবে দুনিয়া জোড়ে সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকায় অবতির্ন করার চেষ্টা করছে। তারা পুরাতন পদ্বতীর মাধ্যমে নিপিড়িত জাতির পক্ষে নিপিড়ক জাতি বিরুদ্বে ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সালের মডেল আনুসারে স্বাধীনতাকামী জনতার বন্দ্বু হিসাবে জাহির করতে চাইছে। এই বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের আওতায় আমরা কি দেখছি – এখানে প্রথম বিশ্ব ও তৃতীয় বিশ্ব যথাযথ ভাবে ই বিরাজমান থাকছে। এমন কি তাঁদের সীমান্ত এলাকাকে পর্যন্ত কঠিন ভাবে বন্দ্ব করে দিচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদকে তারা বিশ্বায়ন করেছে। তাই বিশ্ব ব্যাপী তাদেরকে মোকাবেলা ও করা দরকার। বুর্জোয়া বিশ্বে চলছে বুর্জোয়া নির্মমতা। প্রলেতারিয়ান বিশ্বকে নতুন পদ্বতীতে প্রতিরোধ করতে হবে। সকল লিডিং লাইট ই শসস্ত্র  হবেন। বিশ্ব প্রলেতারিয়ানরা দুনিয়াজুড়ে গনযুদ্বের ডাক দিবেন। এই গন যুদ্ব হবে পরিবেশ, মানুষ ও আমাদের প্রীয় পৃথীবীকে হেফাজত করার জন্য। আমাদের দিন আসবেই! #শিহাব  

শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০১৪

প্রথমবিশ্বের মানুষকে গনআন্দোলন বা অন্য কোন লড়াই সংগ্রামের পথে যুক্ত করার উপায় নেই…

(llcobangla.org)
 

এখন প্রথম বিশ্বে বহু আন্দোলনকারীদের মাঝে এক প্রকার নিঃশ্বিম হতাশা নেমে এসেছে। তারা তাঁদের আদর্শগত সীমাবদ্বতাটা বুঝতে পারছেন। তাঁদের নিকট এখন এটা পরিস্কার যে, প্রথম বিশ্বের জনগন তারা ধনিই হোন বা গরীব, সাদাই হোন বা কালো, শিক্ষিত হোন বা অশিক্ষিত হোন তাতে কিছু যায় আসে না। তারা জীবন যাত্রার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ স্তরে অবস্থান করেন। তারা এখন কোন প্রকার বিপ্লবী আন্দোলনে ঝুঁকি নিতে আসবেন না। তারা ঝাপিয়ে পড়ার মত অবস্থানে নেই।  তারা প্রলেতারিয়েতের স্তরে না থেকে অনেকটা মধ্যবিত্তের স্তরে দিনাতিপাত করছেন। তারা এমন কি কোন প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ও অংশ নিতে নারাজ। এখন তাঁদের সকল আশা ভরষার কেন্দ্র হলো তাঁদের তরুন সমাজ, অভিবাসী ও লুম্পেন শ্রেণী ইত্যাদী। তবে তা ও আবার তত্ত্বীয় পর্যায়ে। প্রায়স যারা লুম্পেনদের নিয়ে স্বপ্নদেখেন বা আশাবাদ ব্যক্ত করেন –সেই মানুষদের সাথে কি তাঁদের যোগাযোগ আছে, তাঁদের জীবন যাত্রার সাথে কি তারা পরিচিত? তবে যাদের সেই লোকদের সাথে উঠাবসা আছে, যারা জ্ঞানগত ভাবে সৎ তারা অবশ্যই বুঝবেন যে লুম্পেন্দের সামাজিক কোন প্রকার ভিত্তি নেই। সুতরাং তারা বিপ্লবের কোন সহায়ক শক্তি ও হতে পারবেন না । তারা বড়জোর কর্মী সংগ্রহে কিছু ভূমিকা রাখতে পারেন, কিন্তু এটা ও সত্য যে, সংগ্রাহকের সামাজিক ভিত্তি না থাকলে তাঁদের দ্বারা ও তেমন কোন উপকার হয় না । প্রথম বিশ্বের প্রলেতারিয়ানদের ধরন ও প্রকৃতি এক বিশেষ রূপ ধারন করেছে। তা এখন আর সেই যুগের মত নেই। তাঁদের দাবী দাওয়ার ধরন ও পাল্টে গেছে –তা এখন আদির্শিক দাবী দাওয়ার পরিবর্তে গতানুগতিক ইস্যু ভিত্তিক রূপ ধারন করেছে। আর এই ধরনের অরাজনৈতিক চর্চার কারনে প্রথম বিশ্বের সংগঠন গুলো ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
 
আন্দোলনকারীদের হতাশার আরো একটি কারণ হলো যে, প্রথম বিশ্বে কোন আন্দোলনই এখন আর বিপ্লবী রূপ ধারন করে এগোতে পারে না। পৃথিবীর এখন সকল আন্দোলন ই ফিকে হয়ে গেছে, তা অনেকটা মাওবাদী সংগঠন গুলোর মতে “গন লাইনের” ধারা। গন লাইন প্রকৃত বিচারে মাওবাদী আন্দোলন নয়।  লেনিন ও তার বিপ্লবী অবস্থানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে - ইউনিয়ন ভিত্তিক সংঠনের সীমাবদ্বতার কথা বলেছেন। নৈরাজ্যবাদী, জাতীয়তাবাদী ও নানা প্রকার গতানুগতিক লোকেরা এতে যুক্ত হয়। গন লাইনের আন্দোলন গুলো সাধারনত সংগঠন, নেতৃত্ব, এবং তাৎক্ষণিক ইস্যূ নিয়ে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে অগ্রসর হয়ে থাকে। একবার একজন স্যান্দারিস্টা কম্যান্ডার এক গনলাইন সম্পর্কে বলেছিলেন যে, “ দল যেখানেই যাবে সেখানেই সমস্যার সমাধান করবে”। সমস্যা সমাধানের জন্য  জনে জনে কাজ কাজ করবে। আবার সকল প্রচেস্টার ই লক্ষ্য থাকবে সমস্যার সমাধান করা। তা যদি যথাযথ ভাবে করা হয়, তবে থাকে বিনয় ও সম্মানের চোখে দেখা হয়, এবং সেই সময়ে একটি নেতৃত্বকে হাজির করা হয়, আর এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই সাধারণ জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা হয়। কাজের উদাহরন সৃষ্টি করে ক্রমে নেতৃত্বের প্রতি আস্থ অর্জন করা হয়। যখন নেতৃত্ব প্রতিস্টিত হয়ে যায় তখন তাকে সকলেই অনুসরন করতে থাকেন। তখন বৃহতর জনগণ তাকে মেনে চলেন। তখন পার্টির পক্ষে ও সকলকে অনুসরন করানো সহজতর হয়। আরো পরিস্কার করে বললে বলতে হয়, যখন কোন নেতা মানুষের আস্থা অর্জন করেন তখন তার কথা সকলে শোনেন, তারা নেতার কোথায় সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য ও প্রস্তুত হন। কোন বিশেষ একটি ইস্যূ বাস্তবায়ন করলে তাৎক্ষণিক ভাবে সাধারন  জনগনের উপর এর প্রভাব পরতে পারে, তখন তা সামাজিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে সংগঠন কে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে থাকে।
 
প্রথম বিশ্বে গন লাইন প্রয়োগের ও তেমন কোন আওয়াম জনতা নেই, এমন কি সেখানে বিপ্লবী কোন সামাজিক শক্তি ও নেই। সেখানে এমন কিছু প্রতিক্রিয়াশীল মানুষ আছেন যারা তাৎক্ষণিক লাভের আশায় উতপেতে বসে আছে। তারা মুলত বুর্জোয়া শ্রেনীর ই অন্তর্গত।
 
প্রতিক্রিয়াশীলদের মাঝে গন লাইন প্রয়োগ করা ফ্যাসিস্টদের  চেয়ে ও বেশী কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, জনপ্রিয় প্রতিক্রিয়াশীল নেতৃত্ব ই তাঁদের জন্য উপযোগী, কমিউনিস্ট নেতৃত্ব তাঁদের জন্য উপযোগী নয়। প্রথম বিশ্বের কতিপয় দেশে প্রক্রিয়াশীল নেতৃত্ব প্রয়োগ করা গেলে ও সেখানে কমিউনিস্ট নেতৃত্ব প্রয়োগ করা যায়নি ।  প্রথম বিশ্বে সামাজিক ভাবে খুবই নিচু স্তরের মানুষ পরিবেশ ইস্যু সহ কতিপয় বিষয়ে আন্দোলন করলে ও বিপ্লবী আন্দোলনে তারা অনাগ্রহী। কোন কোন ক্ষেত্রে কেহ কেহ গন লাইন কে কর্মী সংগ্রহের মাধ্যম মনে করলে ও সে সংগৃহীত লোকেরা সত্যিকার আন্দোলনে সরিক হয় না । এটা কোন মেজিক নয় যে দেশে জনগণ হঠাত করে জেগে উঠবে আর  আর গন লাইন প্রয়োগ করে প্রথম বিশ্বের  বুর্জোয়া ও অন্যান্য মানুষের প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিবে। গন লাইন এমন কোন বিশেষ অবিস্কার নয় যা দেশের মানুষের রাতারাতি কোন পরিবর্তন এনে দিবে। এর আগে ও অনেক  ব্যাক্তি ও সংগঠন  এই গন লাইন কে প্রথম বিশ্বে বপ্লবী কর্মধারার আগেই প্রয়োগ করে দেখেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতায় বলে ইহা বিপ্লবী কর্মকান্ডের জন্য মোটেই কার্যকরী নয়। তবে ইহা তৃতীয় বিশ্বের মানুষ প্রথম বিশ্বের প্রতিরোধের পদ্বতি হিসাবে তা অনুসরন করা যেতে পারে।

যারা প্রলেতারিয়েতের জন্য প্রথম বিশ্বের বিপ্লবের পথ হিসাবে গন লাইন কে অনুসরন করতে চায় তাদেরকে বলব দয়া করে কেবল কথা না বলে বাস্তবে কাজ করে দেখুন। কথার মালাগাতা আর ফুলজুরী উড়ানো যতেস্ট নয়। প্রকৃত ভাবে বাস্তবে কাজ করা দরকার । আমরা তা দৃড়তার সাথে বলতে পারি যে, তারা যখন ই বাস্তবে কাজ করে ব্যার্থ হবেন তখন ই প্রথম বিশ্বে বিপ্লব করার আশা ত্যাগ করে তাঁদের প্রচলিত চিন্তা ভাবনার অবসান ঘটাবেন। সত্যিকার ভাবেই যদি তারা বিপ্লবী হন, তবে তারা তাঁদের সংশোধনবাদ সম্পর্কে পুনঃ মূল্যায়ন করবেন। আমরা বিশ্বাস করি তাঁদের জ্ঞানগত সততা স্পষ্ট করে দিবে যে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম সম্পর্কে যা বলেছি তা কত টুকু সঠিক এবং কত টুকু বেঠিক। আসল কথা হলো, প্রথম বিশ্বে উল্লেখ করার মত কোন প্রলেতারিয়েত শ্রেণী নেই। আলোকিত সাম্যবাদ হলো প্রাগ্রসর বিপ্লবী বিজ্ঞান। সকল সমস্যার সমাধান হলো বিশ্ব ব্যাপী গন লড়াইয়ে। আমাদের জীবন হলো আংগোলের মাথায়। একতা, শৃংখলা, বলিদান, সাহস, স্পর্ধা আমাদের বৈশিষ্ট্য। লিডিং লাইট অনুসরন করুন! লিডিং লাইট হোন ! সূর্য্য উঠছে ! আমাদের দিন আসছে!! #শিহাব


বৃহষ্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৪

ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম দুর্ঘটনা, একটি ভিন্ন প্রকৃতির পুঁজিবাদ !



(llcobangla.org)

ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম তৈলের রিগ বিস্ফোরনের এক মাস পর ও মেক্সিকো সাগরে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তৈল নির্গত হয়েছে। ওবামা প্রশাসন এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম উভয় কর্তৃ পক্ষের কেহই সমস্যার সমাধানে তেমন গা করেন নি। এই সমস্যা এক সময় নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায়, এখন একে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়াবহ তম পরিবেশগত দুর্ঘটনা হিসাবে বর্ননা করা হয়। এই দুর্ঘটনায় অনুমান করা হয় যে এ পর্যন্ত কোম্পানীর প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। তবে মানবিক ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমান অনেক অনেক বেশী হবে। এই দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া আরো অনেক দূর পর্যন্ত গড়াবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে যে তৈল নির্গত হচ্ছে তা ইতিমধ্যে লুসিয়ানা পর্যন্ত পৌছে গেছে, ইহা ফ্লোরিডা এবং কিঊবার জন্য হুমকী সৃষ্টি করেছে। মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের পরিবেশ দুষন, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বকে বিষাক্ত করে চলেছে। সেখানকার মানুষের জীবন যাত্রা হুমকীর মূখে ঠেলে দিচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে, এই নির্গত তৈলের প্রভাবে ইহা সমগ্র অঞ্চলকে প্রভাবিত করবে। এমনিতেই, তৃতীয় বিশ্বের মানুষ কঠিন ভাবে জীবন যাত্রা নির্বাহ করে থাকেন, এখন এই দুর্ঘটনা তা ও বাঁধা গ্রস্থ করবে হয়ত তার জন্য তারা কোন  প্রকার ক্ষতি পুরন ও পাবেন না ।

এই ধরনের দুর্ঘটনা পুঁজিবাদ ঘটাবে এটা অস্বাভাবিক নয়। যদিও অনেক বিকল্প জ্বালানীর উৎস ইতিমধ্যেই আবিষ্কৃত হয়েছে কিন্তু পুজিবাদিরা প্রতিনিয়ত তৈলের ব্যবহার বৃদ্বির কাজ করেই যাচ্ছেন। ইহার প্রধান কারণ হলো পুঁজিবাদ মানুষের উপর থেকে কেবল মুনাফাই অর্জন করতে চায়। পুঁজিবাদের সকল অভিযানের মূলে থাকে কেবলই লাভ করা, তাঁদের এই সীমাহীন মুনাফা লাভের প্রত্যাশা দুনিয়ার সর্বত্র পরিবেশগত দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে দেখা দিয়েছে। জল বায়ুর উষ্ণতা, সমূদ্রে মৃত্যুপুরী, প্রজাতির বিলুপ্তি ইত্যাদী প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।পুঁজিবাদ নিজেই একটি সমস্যা, এটা পরিবেশগত সমস্যার সমাধান করতে অক্ষম। পুঁজিবাদ আমাদের প্রীয় পৃথিবীকে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাদের এই ধরনের ব্যবসা বানিজ্য যতদিন চলবে ততদিন ই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে থাকবে।

পুঁজিবাদ এমন একটি বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরী করেছে যেখানে কতিপয় দেশ স্বাভাবিক ভাবেই শোষণ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে দুনিয়ার বেশীর ভাগ মানুষের সম্পদ লুটে নিয়ে নিজেদেরকে ধনি হিসাবে গড়ে তুলবে। আর বেশীর ভাগ দেশ দরিদ্র বা অতিদরিদ্র ই থেকে যাবে। প্রথম বিশ্বের অস্থিত্ব ই আজ আমাদের জন্য বিশাল সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তাঁদের জনগণের জীবন মান বজায় রাখার জন্য তারা যা যা  করা দরকার তারা তাই করবেন। তাই তাঁদের উপস্থিতি আমাদের মানুষ ও পরিবেশ নিরাপদ নয়। তৃতীয় বিশ্বের তুলনায় এখন প্রথম বিশ্ব অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, এখন প্রথম বিশ্বে আর উৎপাদনের কেন্দ্র স্থাপন করা হয় না। তারা এখন তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে উতপাদনের জন্য কল কারখানা স্থাপন করছেন। ফলে পরিবেশ দুষনজনিত সকল বিশাক্ততা তাদেরকে গ্রাস করছে। প্রথম বিশ্বের সকল দুষন বর্জের বোঝা বজন করছে তৃতীয় বিশ্বের মানুষ। ভোগ করছেন প্রথম বিশ্বের মানুষেরা আর মূল্য দিচ্ছেন দরিদ্র দেশের সাধারণ জনগণ। পুঁজিবাদ ও প্রথম বিশ্বের ঠিকে থাকা আমাদের এই সুন্দর প্রথিবীর জন্য মানানসই নয়। আর সেই কারনেই দুনিয়ার মানচিত্র থেকে প্রথম বিশ্ব ও পুজিবাদকে নির্মূল করা দরকার। আমাদের বাচার তাগিদেই বিপ্লব করা অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। 

আমরা কি ধরেন বিপ্লব চাই ?

পুঁজিবাদের আওতায় ইতিবাচক ভাবে সমাজকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আবার তাকে আদিম সাম্যবাদী আদলে ফিরিয়ে  নেয়া ও সম্ভব নয়, এই ধরেন চিন্তা ভাবনা ও অবাস্তব। ইহা কেবল মাত্র প্রধান দ্বন্দ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও নিপিড়িত জাতি সমূহের মাঝে যে দ্বন্দ্ব তার সমাধানের ভেতর দিয়ে অন্যান্য সমস্যা গুলো ও সমাধান করা যেতে পারে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্বে শোষিত জাতি সমূহের লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে সামাজিক শক্তি সমূহে জাগরিত করে পরিবেশগত বিপ্লব সাধন করা সম্ভব। বিগত অর্ধ শতাব্দী জোড়ে আমরা  তাই দেখে আসছি বার বার।

মানুষের মৌলিক বিষয় গুলো অর্জনের জন্য বাস্তব সম্মত পথ হলো- পরিবেশ গত পরিবর্তনের জন্য সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা। তারপর প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব প্রতিস্টার মাধ্যমে সামাজিক ও পরিবেশিক বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এ যুগে সাম্যবাদে উপনিত হবার উপযুক্ত পথ হলো লিডিং লাইট। কেননা লিডিং লাইট হলো সত্যিকার পরিবেশবাদি। কোন আন্দোলনই লিডিং লাইটের চেয়ে বেশী সবুজ নয়। যারা এখন পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন  তাঁদের উচিৎ বিশ্ব জনযুদ্বের প্রতি সমর্থন জানানো। প্রথম বিশ্ববাদের বিরুদ্বে লিডিং লাইট হলো প্রাগ্রসর বিপ্লবী বাহিনী । এই বাহিনী ই দুনিয়াকে বদলে দিতে পারে।

অতীতে, বিপ্লবীগন সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয় আসয় তেমন ভাবে বুঝেন নি। ফলে তা গুরুত্ব ও কম পেয়েছে। তাই পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে সমাজতান্ত্রিকদের মিশ্র ভূমিকা দেখা গেছে। সমাজতান্ত্রিক সমাজের যেমন সফলতা আছে তেমনি ব্যার্থতা ও আছে। অনেকটা পুজিবাদিদের মতই তাদের ও উৎপাদন মূখী প্রবনতার কারনে অনেক কর্ম প্রকৃতি বিরোধী হিসাবে গন্য হয়ে থাকবে। এই দৃষ্টি ভংগী ব্যাপক ভাবে উৎপাদন বৃদ্বি করেছে। প্রকৃতির উপর নিয়ন্ত্রন কায়েম করেছে। তারা একে মানবিক আনন্দের উৎস হিসাবে দেখেছেন। এই দৃষ্টি ভংগীটা ছিলো সংশোধনবাদের দ্বারা প্রভাবিত। তারা উৎপাদন শক্তির বিকাশ, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে বেশী নজর দিয়েছেন। ‘উৎপাদন শক্তির বিকাশ’ এই তত্ত্বের পেছনে প্রথম বিশ্ববাদের প্রভাব বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয়, অনেকে এমন ও বলেন যে প্রথম বিশ্বের প্রলেতারিয়েত শ্রেণী না কি বিদ্যমান। লিডিং লাইট এইধরনের তত্ত্বকে অস্বীকার করে। এবং এই ধারনা ও পোষন করে যে, মানুষের সুখ শান্তি প্রকৃতির উপর প্রভুত্ব করার মাঝে নয় বরং মানব সমাজ ও প্রকৃতির একটি অংশ। ইহা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়। আমরা আরো মনে করি যে, প্রকৃতির সুরক্ষা প্রদান করা, টেকসই বিশ্ব গঠন করা সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানের একটি বিরাট কাজ। টেকসই বিশ্ব গঠনের জন্য, প্রকৃতিকে সুরক্ষা দান করার জন্য, সামগ্রীক ভাবে মানুষ ও অন্যান্য প্রানীদের নিরাপদ আবাস তৈরী করার জন্য - প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব কায়েম করার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। কেবল ইহা ই আমাদের পরিবেশকে বাঁচাতে পারে। #শিহাব    

বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০১৪

সম্পদ কি ? প্রথম বিশ্বের দেশে সমূহে ঋণ কি ?

(llcobangla.org)

নাগরিকদের ব্যক্তিগত সম্পদের যে পরিসংখ্যান দেয়া হয় তা সাধারণ মানুষ সত্যিকার ভাবে তাঁদের দারিদ্রতা ও জীবন যাত্রার মান সঠিক ভাবে বুঝাতে পারে না। ফুটে উঠেনা সম্পদের প্রকৃত চিত্র। সম্পদ সাধারনত পরিমাপ করা হয় যে পদ্বতীতে তা হলো- মূলসম্পদ থেকে  ঋণ বিয়োগ করে যা থাকে তাই সম্পদ। ধনিকদেশ সমূহের বহু মানুষ আছেন যারা অতি অল্প নিজস্ব সম্পদ দিয়ে উচ্চতর জীবন যাপন করে থাকেন। এর প্রধান কারণ হলো ঋণ গ্রহন । ঋণী হওয়াটা ধনিক দেশের জন্য সূখকর না হলে ও তা তাঁদের জীবন যাত্রায় তেমন প্রভাব ফেলে না। উদাহরন হিসাবে ডোন্যাল্ডের কথা উল্লেখ করা যায়। ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর দশকে তাঁদের বিশাল অংকের ঋণ ছিল। এমন কি তাকে ব্যাংক ঋণ খেলাফী বলে ঘোষনা ও করেছিলো। কিন্তু এর পর ও তিনি তার নিজস্ব হেলিকপ্টারে  ঘোরে বেড়িয়েছেন। বিলাস বহুল জীবন যাপন করেছেন। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের এবং পেরুর  একজন কৃষক হয়ত ঋণ মুক্ত – কিন্তু তারা অনেক অনেক নিম্ন মানের জীবন যাপন করছেন। বাস্তবত, সেই কৃষকদের সম্পদের পরিমান সেই সময়ে ডুন্যাল্ডের চেয়ে বেশী ছিলো। কিন্তু সেই সময়ে ও কৃষকগন নিম্ন মানের জীবন যাপন করেছেন।
 
এই ঋণ মানে হোল – প্রথম বিশ্বের একজনের গড় ঋণ এবং তৃতীয় বিশ্বের একজনের গড় ঋণ। একজন তৃতীয় বিশ্বের মানুষের একটি ক্ষুদ্রে ঋণ ও তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, যাতে তিনি তার ছেলে মেয়েকে লেখা না করিয়ে দাসত্বের মত পরিস্থিতিতে কর্মে  নিয়োজিত করতে পারে। এমন কি দেহ ব্যবসার মত জগন্য কাজে ও তাকে নিয়োজিত করতে পারে।  কিন্তু অন্য দিকে, প্রথম বিশ্বের একজন মানুষের ক্ষুদ্র ঋণ বড় জোর তার জীবন যাত্রার মান কিছু টা কমিয়ে দিতে হতে পারে। আরো একটি বিষয় হলো, প্রথম বিশ্বের মানুষের মাঝে মধ্যবিত্তদের কাছে ঋণ মানে কি ? এই ঋণ কি তাদেরকে রাস্তায় ঠেলে দেয় ? না কি তাঁদের সন্তানদেরকে দাসত্বের মত কাজে নিয়োজিত হতে বাধ্য করে ? তাকে তাদেরকে অনাহারে রাখে ? অবশ্যই না, প্রথম বিশ্বে ঋণের ভিন্ন ভূমিকা রয়েছে। এখানে মোটা অংকের ঋণ গ্রহনের সুযোগ রয়েছে। প্রথম বিশ্ব ঋণ গ্রহনের জন্য যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা সমূহ রয়েছে তৃতীয় বিশ্ব সেই সমস্ত সুযোগ সুবিধা একেবারেই অনুপস্থিত। কেবল তাঁরাই এখানে ঋণ পান যাদের উচ্চ স্তরে সুসম্পর্ক ররেছে, স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা আছে, এবং যাদের জীবন যাত্রা উন্নত। অথচ প্রথম বিশ্বে, তারা জীবন যাত্রার মান উন্নত করার জন্য ঋণ ব্যবহার করে থাকেন। তারা বাড়ি কিনেন যারা এককালিন অর্থ দিয়ে বাড়ী কিনতে পারেন না, সে খানে কিস্তির পরিমান এত কম যে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ও তা কম। তারা দৈনিন্দিন ব্যবহারের জন্য বিশাল অংকের জিনিষ পত্র ক্রয় করে থাকেন। যেমন – গাড়ি, মোটর সাইক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স পন্য ইত্যাদী। তারা শিক্ষার জন্য চাহিদা মত ঋণ অতি সহজেই নিতে পারেন। যা তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে এখন ও সহজ লভ্য নয়। সেখানে নানা প্রকার পন্য সামগ্রী ক্রয় করার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হয় । প্রথম বিশ্বে জনগনের জন্য ঋণ গ্রহন করা একেবারেই একটি সহজ বিষয় – যা তৃতীয় বিশ্ব অনেক কঠিন । তবে, ঋণ কত টুকু প্রভাবিত করে মানুষের জীবনে ? ঋণের পরিমান কি বাস্তবতাকে প্রতিনিধিত্ব করে ? সাধারনত তা করে না। ঋণের পরিমান দেখে কারো জীবন যাত্রার মান বুঝা সম্ভব নয়। সকল জনগণের  মধ্যে যারা মধ্যবিত্ত শ্রেনী। তাঁদের জীবন যাত্রার মান পরিমাপ করলে সকল জনগণের জীবন যাত্রার  মানার একটি চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
 
যখন প্রথম বিশ্বের লোকেরা সারা দুনিয়ার ঋণের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। তখন অনেকে তাঁদের এই পরিসংখ্যান বুঝতে পারেন না – আসলে তারা এই তথ্যাবলী দিয়ে কি বুঝাতে চান। সত্যিকথা বলতে কি তারা নিজেরা ও জানেন না যে, কোন তথ্য কি কি বুঝায় ? এটা এক ধরেন আভিজাত্য, জাহির করার মাধ্যম ও প্রথম বিশ্বের আত্মপরিচয় তোলে ধরার ব্যবস্থা। যখন ই কোন তথ্য তোলে ধরা হয় তখন ই মানুষের উচিৎ তা বিশ্লেষণ করা। অন্ধভাবে কিছুই গ্রহন করা উচিৎ নয়। প্রথম বিশ্ব হলো একটি বালির বাঁধ। যা অল্প বৃষ্টিতেই বিলিন হয়ে যেতে পারে। তাঁদের নিরাপত্থার চাদর একটু শিতিল হলেই তা তচনচ হয়ে যেতে পারে। প্রথম বিশ্ববাদ হলো একটি সাধারণ মতান্দ্বতা বিশেষ। এর সাথে মার্ক্সবাদের কোন সম্পর্ক নেই। মার্ক্সবাদ ভেসে যাবার মত কোন আদর্শ নয়। মার্ক্সবাদের রক্ষক হলো সাধারণ জনগণ। এখন ও মার্ক্সবাদের কর্তৃত্বের সমস্যা রয়েছে। সময়ে সকল প্রকার মতান্দ্বতা বিদূরিত হবেই। বিজ্ঞানের আগমন ঘটবেই। ইহাই সত্যিকার গণতন্ত্রের চর্চার সময়। এখন ই আলোকিত সাম্যবাদের আগমনের সময় । #শিহাব             

চীনের পুজিবাদিরা বলছেন কমিউনিস্ট পার্টি বিপ্লবী নয়, ইহা একটি শাসক দল ।

(llcobangla.org)
 
সাম্প্রতিক সময়ে, চিনের নেতারা বলছেন যে, তথাকথিত কমিউনিস্ট পার্টি এখন বিপ্লবী পার্টি নয় বরং ইহা একটি শাসক দলে পরিণত হয়েছে। ভাষ্যকাররা বলেছেন, চিনের প্রেসিডেন্ট জিং জিয়াওপিং, যিনি প্রেসিডেন্ট হুজিন তাও এর স্থালাভিষিক্ত হয়েছেন এবং যে বক্তব্য তিনি রেখেছেন, এটা তার ব্যাক্তিগত মতামত নয় – যা তিনি তার সর্ব শেষ বিবৃতিতে বলেছেন তা বিগত সরকারের ই ধারাবাহিকতা। অতীতের বিপ্লববাদী ধারা থেকে ভিন্ন পথে যাত্রার ই প্রতিফলন ঘটেছে তার বক্তব্যে। পার্টিকে প্রলেতারিয়ান বিপ্লবের বাহন হিসাবে ব্যবহার না করে তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষকে প্রতারনা করার জন্য, তাঁদের সাম্প্রতিক সময়ের কর্মকান্ডে এর প্রতিফলন ও ঘটছে।
 
১৯৭০ সাল থেকেই সমাজতন্ত্রকে বাদ দিয়ে পুঁজিবাদ কায়েমের কাজ শুরু করেছিল চীন। ১৯৬৬ সালের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়ে মাওবাদীরা সকলকে সাবধান বানী শুনিয়ে ছিলেন, “ শ্রেণী সংগ্রাম কে কখন ও ভুলে যাবেন না”। মাওবাদীরা তা ধরে রাখার চেষ্টা ও করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে গন আন্দোলন শেষ হয়, ১৯৭০ সালে পিএলএ নেতারা বিপ্লবীদেরকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। পুজিবাদিদের নেতা দেং জিয়াও পিং ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করেন। চীন সেই বছর থেকেই পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব রুপান্ত্রিত হতে থাকে বুর্জোয়াদের একনায়কত্বে।  চীন ১৯৮০ সালের মধ্যেই পশ্চিমাদের পুঁজিবাদী উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়। চীনের পতাকার রং এর আরো আগে থেকেই বদলাতে শুরু করেছিলো।
 
মহান মাওসেতুংয়ের চীনে এখন আবার একটি বিপ্লব করা দরকার – সেখানে ঝেঁকে বসা পুজিবাদীদের জঙ্গাল ও তাঁদের সাঙ্গপাঙ্গদেরকে ক্ষমতা থেকে ঝটিয়ে বিদায় করার জন্য। চীনা জনগণের এখন আবার আলোকিত সাম্যবাদের আলোকে  একটি সত্যিকার, নতুন  বিপ্লবী পার্টি গড়ে তুলা দরকার যা চিনের সাধারণ দরিদ্র মানুষের আগামী দিন কে সুখী ও সমৃদ্ব করে দিবে। অনেক সংস্কারবাদী মানুষেরা এখন ও মনে করেন, কোন না কোন ভাবে চীন সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তারা মনে করেন তাঁদের দেশের যে গার্মেন্টস শীল্পের বিকাশ হয়েছে তা ও এক প্রকার সমাজতন্ত্র। এই সংস্কারপন্থীদের মধ্যে যারা আছে তারা হলেন- ওয়ার্কাস ওয়ার্ল্ড পার্টি, পার্টি ফর দ্যা সোস্যিয়ালিজম এন্ড লিভারেশন, ফ্রিডম রোড সোসিয়ালিস্ট অর্গানাইজেশন, এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব অ্যামেরিকা। # শিহাব