সোমবার, ২১ জুলাই, ২০১৪

প্রথম বিশ্বের কর্মকান্ডের কারনে তৃতীয় বিশ্বের হিমবাহ কমে যাচ্ছে !

(llcobangla.org)

সম্প্রতি  বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নেদারল্যান্ডের গবেষক দল অভিমত প্রকাশ করে বলেছেন যে, ৬০ মিলিয়ন লোক হিমালয় পর্বতের আসে পাশে বসবাস করে থেকেন। তাঁরা আগামী দশকেই খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে পরবেন। হিমবাহের সঙ্কুচনের কারনে পানি প্রবাহ কমে যাবে – পানির অভাবে ফসল ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহাম্মপুত্র নদের দক্ষিন এশীয় উপত্যাকায় পানির পরিমান ১৯.৬ % কমে আসবে। অধিকন্ত জলবায়ুর পরিবর্তনের কারনে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ভূটান ও চীনের পরিবেশ গত ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
 
বৈজ্ঞানিকগন এ বিষয়ে একমত যে, হিমবাহের সঙ্কোচন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্বির ক্ষেত্রে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রাখবে। অধিকাংশ বিশেজ্ঞ এই মত ব্যাক্ত করেছেন যে, ভূ-ভাগ উত্তপ্ত হওয়ায় গ্রীন হাঊজ ক্ষতিগ্রস্থ হতে - কার্বনডাই অক্সাইড বৃদ্বি পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। বর্তমান বিশ্বে ৯০% এর ও বেশী হিমবাহ কমে গেছে। এর অধিকাংশ কমেছে আলাস্কায়, আল্পসে, আন্দ্রিজে এবং অন্যান্য পর্বত মালায়।
 
কিছু সামালোচক যেমন জংকিন লি, পরিচালক, তানশীয়ান হিমবাহ ষ্টেশন চীন। তিনি বলেন, আমাদের গবেষনা বলছে – মধ্য এশীয়া ও  চীনের উত্তর পশ্চিমের  বেশ কিছু হিমবাহ ইতিমধ্যেই বিলিন হয়ে গেছে। তাঁর মতে, হিমবাহের সঙ্কোচন পরিবেশে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। এই ধরনের গবেষনা মুলত প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করার অপ প্রয়াস মাত্র। আরো একজন বিজ্ঞানী বলেছেন আগামীতে কি হবে তা এখন ই বলে দেয়া সম্ভব নয়। তা আমাদের সকলেরই অজ্ঞাত। তবে, প্রকৃত সত্য হলো নিরপেক্ষ গবেশনা বলছে, অত্র অঞ্চলের মানুষ খাদ্য ও পানীয় জলের সঙ্কটে নিপতিত হতে যাচ্ছে। এশিয়ায় জল বায়ুর পরিবর্তন জনিত সমস্যাটি দারিদ্র, পরিবেশ দুষন, অধিক জন সংখ্যা, বৃস্টিপাত কমে যাওয়া ইত্যাদী ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।
 
ডাচ গবেষক দল লিখেছেন যে, “ আমরা ধারনা করছি  কেবল মাত্র পানির অভাব জনিত কারনে অত্র এলাকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা  ৪.৫ % কমে যাবে এবং আরো ঝুঁকি বৃদ্বি পাবে।
 
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন পানির সঙ্কটের মুখোমুখী। প্রায় ১.১ বিলিয়ন মানুষ কেবল উন্নয়ন শীল দেশেই পানির অভাবের সম্মোখীন। ২.৬ বিলিয়ন মানুষ মৌলিক স্যানিটেশনের ওভাবে ভোগছে। প্রথীবীর প্রায় ৩ জনে ২ জন মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে আক্রান্ত যারা প্রতিদিন ২ ডলারের ও কম আয় করেন। আর ৩ জনের মধ্যে ১ জন মানুষ মাত্র ১ ডলার দিয়ে দিন গোজরান করেন। ৬৬০ মিলিয়ন মানুষ স্যানিটেশন ছাড়া জীবন যাপন করেন যাদের দৈনিক আয় মাত্র ২ ডলার। ৩৮৫ মিলিয়নের ও বেশী মানুষ মাত্র ১ ডলার দিয়ে দিনাতিপাত করেন। এরা সকলেই তৃতীয় বিশ্ব তথা দরিদ্র দেশে বসবাস করেন। বিশ্বের ২০% ধনী লোকদের মধ্যে ৮৫ % বাড়ীতে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। পক্ষান্তরে, ২৫% দরিদ্র মানষের মাঝে মাত্র ২০ % মানুষ পাইপের মাধ্যমে পানি পেয়ে থাকে। কেবল মাত্র ডায়রীয়া জনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় ১.৮ মিলিয়ন শিশু মারা যায় । দরিদ্র দেশ গুলোর মোট লোক সংখ্যার প্রায় অর্ধেক লোক স্যানিটেশন ও পানিয় জলের অভাবে নানা প্রকার স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। মিলিয়ন মিলিয়ন নারী তাঁদের বহু মূল্যবান সময় কেবল পানি সংগ্রহের জন্য ব্যয় করছেন। ধনি দেশ গুলোর কারনে প্রতিদিন পানি দুষিত হচ্ছে। দরিদ্র দেশ গুলোতে এখন পানি একটি মূল্যবান পন্যে পরিণত হয়েছে।
 
একটি সাধারণ বিষয় হলো প্রথম বিশ্বে প্রতিদিন বিপুল পরিমান গ্রীন হাউজ গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে । অথচ এর কু- প্রভাব জনিত পরিবেশ দুষনের শিকার হচ্ছেন তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ। ইহা দিনে দিনে অধিক থেকে অধিকতর খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। ৮০% মানুষ প্রতিদিন ১০ ডলারের ও কম আয় করে জীবন ধারন করেন। প্রথিবীর অর্ধেকের ও মানুষ ২.৫০ ডলার মাত্র  আয় করে থাকেন। ২৪,০০০ হাজার শিশু প্রতিদিন কেবল দরিদ্রতা জনিত কারনে মারা যায়। তাঁদের প্রায় সকলেই দরিদ্র দেশের অধিবাসী। ২৭-২৮ % শিশু উন্নয়ন শীল দেশে সঠিক মানের চেয়ে কম ওজন নিয়ে বেড়ে উঠে। যা তাঁদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে অন্তরায়। এখন বিশ্বের ১ বিলিয়ন মানুষ পড়া লিখা জানেন না। বিপদ জনক ভাবে পৃথিবীতে প্রথম বিশ্ব ও তৃতীয় বিশ্বের মাঝে ব্যবধান বেড়েই চলছে। তাঁদের মাঝে ব্যবধান পরস্পরকে এক সর্বনাশা বিরুধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের মাঝে দ্বন্দ্ব প্রখর হচ্ছে। কেবল প্রথম বিশ্বকে বিলিন করে দিয়েই তৃতীয় বিশ্বের মুক্তির মিলতে পারে।
 
প্রথম বিশ্বের মানুষ বেশী খায় বেশী ভোগ করে। তাঁরা পুজিবাদকে ব্যবহার করে সংখ্যা গরিস্ট মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়। তাঁরা পুঁজিবাদের উপকার ভোগী। তাঁদের সীমাহীন ভোগ, বিলাসিতা, গাড়ী সংস্কৃতি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জীবনকে ঝুকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।  প্রথম বিশ্বের বিলাসিতা আক্ষরিক অর্থেই দরিদ্র মানুষের মরন দশা ডেকে আনছে। হিমবাহ সঙ্কুচিত হবার সমস্যার চাইতে ও অধিক বিপদজনক সমস্যা হলো প্রথম বিশ্বের মানুষের বুর্জোয়া জীবন যাপনের ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের জীবন আজ নানা ভাবে আক্রান্ত।

পুঁজিবাদ পরিবেশ গত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে সম্পুর্ন অক্ষম। পুঁজিবাদ তো বৃদ্বি পায় কেবল মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে। ইহার মূল মন্ত্র মানুষকে সেবা করা নয়। পুঁজিবাদের নিকট মানুষ এবং পরিবেশ কোন বিবেচনার বিষয় নয়। পুঁজিবাদের ভিত্তিটাই হলো বাজের চাহিদা পুরন করা। মানুষের চাহিদার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। পুঁজিবাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় চলে একটি নৈরাজ্যিক অবস্থা, মানুষের দুঃখ মোচন করা তাঁর কাজ নয়। বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ দাবী জানাচ্ছে একটি আমূল পরিবর্তনের জন্য। কেবল মাত্র সামাজতন্ত্র ও সাম্যবাদই একটি সূ সম উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে যাতে মানুষে ও পুরিবেশের অনিষ্ট কমবে – সকলের জন্য হবে কল্যাণকর। যখন সাধারন মানুষ তাঁদের জীবনের নিয়ন্ত্রন গ্রহন করবেন, তখন তাঁরা সকল কিছু যুক্তির আদলে বিচার বিশ্লেষণ করে গ্রহন করবেন। পরিবেশ গত সমস্যার সত্যকার সমাধান তাঁরাই দিতে পারবেন। আর সেই সময় থেকেই শুরু হবে প্রথিবীর নতুন যাত্রা। বিশ্ব গনযুদ্বের পথে এর শুভ সুচনা হতে পারে। অন্যতায় আমাদের সামনে একটি মৃত পৃথিবী অপেক্ষা করছে। আমরা কি তা চাই ? অবশ্য না । #শিহাব

রবিবার, ২০ জুলাই, ২০১৪

আজ এক বিলিয়ন মানুষ অনাহারে…পুজিবাদের চেয়ে সামাজতন্ত্রই উত্তম !



(llcobangla.org)
 
জাতিসঙ্গের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, বিশ্ব অর্থনীতির টানাপুরনে দরিদ্র মানুষ গুলোই বেশী দুঃখ দুর্দশার শিকার হচ্ছেন। অর্থণীতির টানাপুরনে তাঁর অনুসংগ হিসাবে যুদ্ব, খরা, রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তা, খাদ্য দ্রব্যের উচ্চ মূল্য ইত্যাদি দেখা দেয়। এখন জাতিসঙ্গের ফাও এর তথ্য মতে, পৃথিবীর প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষ খাদ্য সংকটে নিপতিত। অর্থাৎ প্রতি ৬ জনে ১ জন মানুষ অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করেন।
 
গত বছরের তথ্যানুসারে, প্রতিদিন ১০০ মিলিয়নের ও বেশী মানুষ ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে ঘুমুতে যায় ।ক্ষুধার্থ মানুষের সুংখ্যা বৃদ্বি পেয়ে ১১% এ উন্নিত হয়েছে। জাতিসঙ্গের প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান বিশ্বের ক্ষুধার্থ মানুষের সংখ্যা ১.০২ বিলিয়নে উন্নিত হয়েছে। আরো বলা হয়েছে- এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্বি পাচ্ছে। পৃথিবীতে লোক সংখ্যার চাইতে ক্ষুধার্থ মানুষের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বৃদ্বি পাচ্ছে।
 
এশিয়া এবং প্যাসিফিক এলাকায় সবচেয়ে বেশী ক্ষুধার্থ মানুষের বসবাস। এই সংখ্যা হলো ৬৪২ মিলিয়ন। সাব সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে এর সংখ্যা হলো ২৬৫ মিলিয়ন। উন্নয়নশীল দেশ গুলোতে এর সংখ্যা হোল ১৫ মিলিয়ন মানুষ। মুলত বিশাল সংখ্যক অনাহারী মানুষ বসবাস করে তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে। এই পরিসংখ্যান আমাদের সামনে আবার পরিস্কার করে দেয় যে, সাম্রাজ্যবাদ কেমন করে তৃতীয় বিশ্বের দেশের জনগণের জীবনকে দুর্বিসহ করে দিয়েছে। তাঁদের জীবনকে চরম দরিদ্র ও বৈষম্য মূলক করে দিয়েছে। ইহা আমাদেরকে আরো দেখায় যে, সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে দুর্দশায় ফেলে প্রথম বিশ্বের মানুষের জীবনকে সমৃদ্বি দান করেছে।
 
জাতি সংঘ ও ফাও ক্ষুধার সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেছে, প্রতিদিন যারা ১৮০০ শত ক্যালোরির কম গ্রহন করেন তাঁরাই ক্ষুধার্থ।  এই পরিমান খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে একজন মানুষ তাঁর শরীরের ওজন সঠিক রাখতে পারেন না।
 
জাতিসঙ্গের কর্মকর্তারা ১ বিলিয়ন ক্ষুধার্থ মানুষের বিষয়ে সত্যি চিন্তিত, কেননা তাঁরা মনে করেন এই পরিস্থিতি মানব সমাজে একটি বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। যস্টি শাহরীন, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতিনিধি যা রুমস্থিত জাতিসঙ্গের একটি সংস্থা তাঁদের ভাষ্য মতে, ক্ষুধার্থ মানুষের দ্বারা বিগত বছরে প্রায় ৩০টি দেশে খাদ্য নিয়ে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই খাদ্য দাঙ্গার কারনে হাইতিতে সে দেশের প্রধান মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ফাও এর তথ্য মতে, ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য ২৪ % বৃদ্বি পেয়েছে। শাহরীন বলেন, “ একটি ক্ষুধার্থ বিশ্ব একটি বিপদজনক বিশ্ব”। যাদের খাদ্য থাকেনা তাঁদের সামনে কেবল তিনটি করনীয় থাকে। “ লড়াই করা, দেশ ত্যাগ করা বা মরে যাওয়া”। এর একটি ও আমাদের কাছে গ্রহন যোগ্য নয়। -সামাজতান্ত্রিক বিপ্লব সাধন করাই এক মাত্র পথ। “নেহি ভাগো দুনিয়াকো বদলাও”।

যারা মনে করেন যে পুঁজিবাদের ইতিহাসে অনেক ভালো ভালো উদাহরন আছে – তাঁদের সমীপে আবেদন হলো সমাজতন্ত্রকে ভালো ভাবে জানুন। পুঁজিবাদ কখনও মানুষের অনাহার দূরকরার জন্য আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসেনি। বরং তাঁরা বিশ্বময় এমন এক ব্যবস্থা তৈরী করেছে যার ফলে উন্নত দেশ সমূহের খাদ্যের অভাব বিদূরীত হয়েছে কিন্তু বিশ্বের সংখ্যা গরিস্ট দরিদ্র দেশের মানুষেরা এখন ও খাদ্য সঙ্কঠের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে আছে। বিশ্ব পুঁজিবাদের আওতায় এখন ও প্রতিদিন ১ বিলিয়ন মানুষ আনাহারে থাকেন। তাঁদের বেশীর ভাগ ই বাস করেন তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে। সমাজতান্ত্রিক সমাজের অভিজ্ঞতা বলে যে, তাঁরা প্রথমেই সামাজিক নিপিড়ন নির্মূল করে, খাদ্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহন করেন, কেহ ই না খেয়ে থাকবেনা এই নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে । চিনে মাওসেতুং ক্ষমতায় আসার আগে সাধারণ মানুষ ক্ষুধার ভয়ে আতঙ্কিত থাকত। দুর্ভিক্ষ ছিল চিনের নিত্যদিনকার বিষয়। যখন সমাজতন্ত্র এলো চিনে নাগরিকদের চাহিদা মোতাবেক খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিল। সেখানে জমির মালিকের চাহিদা নয় বরং দেশের জনগণের চাহিদার আলোকে খাদ্য উৎপাদন শুরু হলো। তাঁরা দ্রুত খাদ্য সংকট থেকে বেড়িয়ে আসলেন। মাও ক্ষমতায় থাকা কালিন সময়ে কেবল মাত্র একবার অস্বাভাবিক আবহাওয়ার জন্য দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। অন্যতায় চিনে আজ অভাবনীয় ভাবে খদ্য সংকট বিদূরিত হয়েছে। নাগরিকদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ ছাড়াই চীন তাঁর খদ্য সমস্যার সমাধান করেছে। আজ অতি দুঃখের সাথে বলতে হয়, চীন যত পুঁজিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন ভাবে তত  তিব্র ভাবে দেখা দিচ্ছে। চিনের বিপ্লব পরর্বর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা বলে যে, মানুষ সুযোগ পেলে তাঁদের সকলের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনে সম্পুর্ন সক্ষম। পুজিবাদ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সামাজিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে ব্যক্তি মালিকানায় রূপান্তরিত করার কারনে –বিশ্ব ব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বাঁধাগ্রস্থ হয় । তাই বলা যায় – সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য পুজিবাদী ব্যবস্থা নয় বরং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন  করা অতিব জরুরী। #শিহাব

শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৪

সমস্যায় আক্রান্ত আফ্রিকা… লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত !



(llcobangla.org)

আফ্রিকা, বিশেষ করে পশ্চিম এবং কেন্দ্রীয় আফ্রিকা চরম সংকটে নিপতিত। সম্প্রতি ইউ্নিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ১৫৫ মিলিয়ন, পশ্চিম এবং কেন্দ্রীয় আফ্রিকার প্রায় ৪০% মানুষ নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। আফ্রিকার এই এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশী সমস্যা জর্জরিত একটি এলাকা। সমগ্র বিশ্বের মধ্যে এখন ও ১৮ % মানুষ নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। অধিকন্ত, পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় আফ্রিকার প্রায় ২৯১ মিলিয়ন মানুষ আজ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। এই অঞ্চলে এখন ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশু সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় মারা যায়। উন্নয়নশীল দেশ গুলোতে প্রতি ১০০০ জন শিশুর মধ্যে ১৬৯ জন শিশু মৃত্যু বরন করে। প্রথম বিশ্ব তথা  ধনী দেশ গুলোতে পানীয় জলের, স্যানিটেশনর বা খাদ্যের কোন অভাব নেই। মার্কিন মুল্লুকে বেঁচে থাকার জন্য চরম দরিদ্র মানুষের মাঝে ও এই ধরেন অভাব কদাচিৎ দেখা যায় না । তবে,  তৃতীয় বিশ্ব তথা দরিদ্র দেশ গুলোতে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদা পুরনের তাগিদে কোটি কোটি মানুষকে প্রতি নিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কালের জাতিসঙ্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে যুদ্ব ও সহিংসতার জন্য প্রতি বছর যত লোক মারা যায় তাঁর চেয়ে কয়েক গুন বেশী মানুষ মারা যায় দুষিত পানি পান করার জন্য। এক হিসাবে বলা হয়েছে যে, প্রতিদিন ২ বিলিয়ন টন পানি দুষিত হয় কেবল মাত্র রাসায়নিক সারের ব্যবহার, নর্দমার আবর্জনা, এবং শিল্প বর্জ নিক্ষেপের কারনে। এই কারনে নানা প্রকার রোগ জীবানু মানব দেহে ছড়িয়ে পড়ছে, পরিবেশ, প্রতিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। পানি বাহিত রোগের কারনে বিশ্বের মানুষের মোট মৃত্যুর ৩.৭ %  মৃত্যু সংঘটিত হচ্ছে। পৃথিবীর হাসপাতাল গুলোতে যত বিছানা আছে তাঁর অর্ধের চেয়ে ও বেশী দখল করে থাকে পানি বাহিত রোগীর দ্বারা। প্রসঙ্গত উল্লেক্ষযোগ্য যে, এরা সকলেই হলেন তৃতীয় বিশ্বের মানুষ। প্রকৃত সত্য হল, তৃতীয় বিশ্বের যে উৎপাদন জনিত কারনে এবং যার নেতিবাচক প্রভাবে পানি ও পরিবেশ নষ্ট হয়, তাঁর উপকার ভোগী হলো প্রথম বিশ্বের মানুষ। প্রথম বিশ্বের মানুষের ভোগী ও বিলাশ বহুল জীবন যাপন  অভ্যাহত রাখতে - আজ তৃতীয় বিশ্বের মানুষ নানা প্রকার দুর্দশার শিকার হতে হচ্ছে।

দুষিত পানির ধারা এখন সমূদ্রে ও মৃত্যুপুরী তৈরী করছে । সমূদ্রের মৃত্যুপুরী হলো যেখানে অক্সিজেন নেই, সেখানে কোন প্রকার জিবন্ত সামুদ্রিক পানী বাঁচতে পারেনা। এই পরিস্তিতি চলতে থাকলে প্রথম বিশ্বের মানুষের জীবন মান ই নয় বরং তৃতীয় বিশ্বের বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের জিবনে নেমে আসবে এক অসহনীয় অবস্তার। প্রথম বিশ্বের ভোগবাদী জীবন আমাদের প্রীয় পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির সম্মুখীন। যদি সমুদ্র মরে যায় – তবে দুনিয়ার সকল পানীই মারা পড়বে।

নয়টি খরা দ্বারা আফ্রিকার দেশ গুলো  আক্রান্ত হয়েছে। তাঁরা আপ্রান চেষ্টা করছে তাঁদের খাদ্যের সংকট ও পানীয় জলের অভাব মোচনের জন্য । বারকিনা ফেসু, ক্যাপে ভারডি, গাম্বিয়া, গানা, বিসু, মালি, মৌরিতানিয়া, নাইজার এবং সেনেগাল কেবল পানির অভাবে তাঁদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারছেন না । খাদ্য সরবরাহের পরিস্থিতি নাইজার ও চাদে খুবই নাজুক অবস্তায় আছে। সেখানে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকি পুর্ন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। জাতিসঙ্গের কর্মকর্তা অছিম স্টেইনার বলেন, “ যদি বিশ্বকে যথাযথ ভাবে এগিয়ে নিতে হয় তবে, কেবল ৬ বিলিয়ন মানুষকে নিয়ে ভাবলে চলবে না বরং ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের বিশ্বের লোক সংখ্যা দাঁড়াবে ৯ বিলিয়নে। তাদেরকে নিয়ে ও ভাবতে হবে। আমাদের উচিৎ মেধা ও বুদ্বিমত্তাকে সম্মিলিত ভাবে কাজে লাগিয়ে বর্জ ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে পানি ব্যবস্থপনা সহ সকল সম্পদের সুষ্টো ব্যবহার নিশ্চিত করা”।

স্টেইনার সঠীকভাবেই সমস্যার সমাধানের পথ নির্দেশ করেছেন। কেননা- বেচে থাকার প্রধান উপকরন বিশ্ব অর্থনীতিকে যথাযথ ভাবে ব্যবস্থাপনা না করতে পারলে আমাদের সকলেরই অস্থিত্ব বিপন্ন হবে। কিন্তু আসল সমস্যা হলো পুঁজিবাদ চলমান সমস্যা মোকাবেলায় মোটেই দক্ষ নয়। পুঁজিবাদ সর্বদা ই মানুষের চাহিদার চেয়ে তাঁর মুনাফার প্রতি বেশী আগ্রহী। এই ক্ষেত্রে মহান কার্ল মার্ক্স যে সমস্যাটি তুলেধরেছিলেন তা হলো – পুজিবাদের আওতায় উৎপাদন ব্যবস্থার নৈরাজ্যবাদ। পুজিবাদ উৎপাদন করে বাজার ধরার জন্য, ইহা সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন করে না। পুঁজিবাদের কর্মসূচির অংশ হিসাবে- সামগ্রীক ভাবে বিশ্ব বৈষম্য, পদ্বতিগত সহিংসতা, বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষকে আক্রান্ত করে। পুজিবাদ পুনঃ পুনঃ দরিদ্র দেশ সমূহের দুর্দষা বৃদ্বি করে চলে। পুঁজিবাদ মানুষের দুঃখ বিমোচন করতে কাজ করে না। ইহা দুঃখ সৃজনে ভূমিকা রাখে। পক্ষান্তরে, সমাজতন্ত্র মুনাফার উপরে মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়। সমাজতন্ত্রের আওতায় দুনিয়ার সকল সম্পদের যুক্তিসংগত ও সুষম বন্ঠনের ব্যবস্থা করবে। প্রথমবিশ্ব  বিশ্ব সমাজতন্ত্রের আওতায় বিলিন হয়ে যাবে। সমাজতন্ত্রের আওতায় বহু মানুষের দ্বারা কতিপয় মানুষের উপকার করার ব্যবস্থা থাকবে না । মানুষের সত্যিকার সমতা সমাজে বিরাজমান থাকবে।#শিহাব

গাজা উপত্যাকায় ইসরাইলের হামলায় লিডিং লাইটের তিব্রনিন্দা !

(llcobangla.org)

দুনিয়ার প্রতিটি সচেতন মানুষের উচিৎ গাজা উপত্যাকায় ইসরাইলীদের নির্মম হামলার প্রতিবাদ জানানো। ইসরাইল ফিলিস্তিনিনের সাথে যে আচরন করছে, হত্যা যজ্ঞ চালাচ্ছে তা বিগত অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাসে এর নজির নেই। লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে, তাঁদের বাড়ী ঘর থেকে উচ্ছেদ করছে। ইসরাইল তা করতে পারছে কেবল মাত্র সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সমর্থনের কারনে। বিগত দশকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কেবল আমেরিকাই ইসরাইলীদেরকে প্রদান করেছে। ইসরাইল আমেরিকার প্রধান সামরিক সাহায্য প্রাপ্ত দেশ। এই সাহায্য ইসরাইলকে সাম্রাজ্যবাদের দুষরে পরিণত করেছে। ইসরাইল এখন আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের মেকী চেহারা বা মুখোশ। ইসরাইল এখন যা করছে তা কিন্তু কেবল তাঁর নিজের জন্য করছে না বরং তাঁর সাম্রাজ্যবাদী বন্দ্বুর জন্য ও করছে। ইসরাইল কেবল তাঁর নিজের লোকদের জন্য জায়গা করতে ফিলিস্তিনিদেরকে খতম করছে না বরং তাঁরা আরব, ইরান এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দরিদ্র দেশ গুলোকে ভয় দেখানর জন্য ও কাজ করছে। ইসরাইল অগনতান্ত্রিক ও বিতর্কিত প্রশাসকদের সাথে সূ সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে – যদি ও সেই প্রশাসকরা নিজেদের জনগণের উপর নিপীড়ন চালাছে। ইসরাইল কেবল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ই নয় বরং ইহা একটি মারাত্মক প্রতিক্রিয়াশীল দেশ।

গাজায় সম্প্রতি চালানো সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড - নারী, পুরুষ ও শিশু হত্যার জন্য ইসরাইল সম্পুর্ণরূপে দায়ী। প্রথম থেকেই অনেক গুলো শান্তি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে কিন্তু ইসরাইল প্রতি মুহুর্থে তাঁর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে আসছে। ইসরাইলের কৌশল হলো তাঁরা যতক্ষন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের সম্পদ, জমি নিজেদের দখলে নিতে না পারবে ততক্ষন পর্যন্ত তাঁরা কোন কথাই শুনবে না । কোন ভাবেই শান্তি ইসরাইলের কাম্য নয়। বিগত সাপ্তাহে শত শত ফিলিস্তিনিকে ইসরাইল নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেছে। হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে আহত করেছে। ফিলিস্তিনিদের হাজার হাজার বাড়ী ঘর ধ্বংস সাধন করেছে। পক্ষান্তরে ইসরাইলীদের তেমন কিছুই হয় নাই। মাত্র একজন ইসরাইলী মারা গেছেন। এই অসামঞ্জস্যশীল ক্ষয় ক্ষতি ও হত্যার চিত্র আমাদের সামনে পরিস্কার করে দেয় কারা আক্রমণকারী ও সন্ত্রাসীঃ ইসরাইল। ইসরাইল আরো ১০,০০০ হাজার সৈনিক গাজায় পাঠীয়েছে আরো ফিলিস্তিনী ভূমি দখলের জন্য। ঊরা ভূমি দস্যু ।

আজ দুনিয়ার সকল মানবতাবাদি মানুষ ঐক্যব্দ হয়ে দাবী জানাচ্ছে – গাজায় ইসরাইলীদের তান্ডব বন্দ্ব করার জন্য। সকলেই শান্তির জন্য আহবান করছেন। সকলেই ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায় বিচার কামনা করছেন। সকলেই ফিলিস্তিনি ভুমি দকলের নিন্দা করছেন এবং ইসরাইলীদের আবাসস্থল তোলে নিতে বলছেন। সকল শান্তিকামী মানুষ ইসরাইলীদের সকল প্রকার সন্ত্রাস বন্দের দাবী জানাচ্ছেন – তাঁরা বলছেন ফিলিস্তিনিদের ভূমি যেন আর দখল করা না হয়। সকল উদ্ভাস্থদের স্বীয় ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার আছে। লিডিং লাইট ফিলিস্তিনিদের দুঃখ কষ্টের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছে। মনোবল হারাবেন না । শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যান। আমরাই জয়ী হব। #শিহাব  

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

একটি সাধারণ অংকের প্রশ্ন …মার্কিন মুল্লুকের সংখ্যা গরিষ্ট মানুষ ; বিপ্লবের পক্ষে নাকি বিপক্ষে ?



(llcobangla.org)

২০০৬ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুসারে মধ্যম মানের একটি পরিবারের  বার্ষিক আয় হলো ৪৮,২০১ মার্কিন ডলার।  পরিবার বলতে ১৪ বছরের উপরে যাদের বয়স কেবল সেই সকল সদস্য যারা কর্মে নিয়োজিত বা বেকার তাঁদের জন্য বরাদ্ব ছিল ২৬,০৩৬ মার্কিন ডলার।

মধ্যম মান কি ? মধ্যম মান হলো তাঁরা যারা চরম দরিদ্র ও নয় আবার অতি ধনবান ও নন, যাদের আয় মধ্যম মানের, তাঁদের আয় দরিদ্র ও ধনীদের আয়ের মাঝামাঝিতে অবস্থিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট পরিবারের অর্ধেকের ও বেশী পরিবার বছরে ৪৮,২০১ মার্কিন ডলার আয় করে থাকেন। প্রতি পরিবারের অর্ধেক সদস্যরা সাধারনত ২৬,০৩৬ ডলার আয় করেন।

এখন আমরা এই আয়ের অর্থের একটি পরিবর্তিত বিশ্লেষণ করে দেখব। আমাদের কাছে ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০০৮ সালের একটি তৈরী হিসাব আছে তা এখানে সকলের জ্ঞাতার্থে উপস্থাপনের প্রয়াস পাব ঃ

পিলিফিনে কি একজন শ্রমিক প্রতিবছর ১,০৫৪,০০০ পেসো আয় করেন ? একজন মার্কিনীর এই পরিমান ১,০৫৪,০০০ অর্থ বা পেসো আয়ের সূ ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁরা  বছরে যে পরিমান পুঁজি অর্জন করেন তাতে কি তাঁরা প্রলেতারিয়েতের অংশ হতে পারেন ?

ভারতের একজন শ্রমিক প্রতিবছর ১,০৩৮,০০০ রুপী আয় করেন ? একজন মার্কিনীর বার্ষিক আয় সহজেই ১,০৩৮,০০০ রুপী হয়। তাঁরা  বছরে যে পরিমান পুঁজি অর্জন করেন তাতে কি তাঁরা প্রলেতারিয়েতের অংশ হতে পারেন ?

একজন নেপালী শ্রমিক প্রতি বছর কি ১,৬৯০,০০০ রুপী আয় করেন ? একজন মার্কিনীর বার্ষিক আয় সহজেই ১,৬৯০,০০০ রুপী হয়। তাঁরা  বছরে যে পরিমান পুঁজি অর্জন করেন তাতে কি তাঁরা প্রলেতারিয়েতের অংশ হতে পারেন ?

একজন মেক্সিকান শ্রমিক প্রতিবছর ২৭৮,০০০ মেক্সিকান পেসো কি আয় করতে পারেন ? একজন মার্কিনীর বার্ষিক আয় সহজেই ২৭৮,০০০ মেক্সিকান পেসো  হয়। তাঁরা  বছরে যে পরিমান পুঁজি অর্জন করেন তাতে কি তাঁরা প্রলেতারিয়েতের অংশ হতে পারেন ?

একজন শ্রীলংকান শ্রমিক প্রতিবছর কি আয় করেন ২,৮১২,০০০ শ্রীলঙ্কান রুপী ? একজন মার্কিনীর বার্ষিক আয় সহজেই ২,৮১২,০০০ শ্রীলঙ্কান রুপী  হয়। তাঁরা  বছরে যে পরিমান পুঁজি অর্জন করেন তাতে কি তাঁরা প্রলেতারিয়েতের অংশ হতে পারেন ?

একজন  পেরুবিয়ান শ্রমিক বছরে কি ৭৬,০৬৫ পেরুবিয়ান সোল আয় করতে পারেন ? একজন মার্কিনীর বার্ষিক আয় সহজেই ৭৬,০৬৫ পেরুবিয়ান সোল হয়। তাঁরা  বছরে যে পরিমান পুঁজি অর্জন করেন তাতে কি তাঁরা প্রলেতারিয়েতের অংশ হতে পারেন ?

একজন  বাংলাদেশী শ্রমিক বছরে কি ৪৮,৫৬০০০ টাকা আয় করতে পারেন ? একজন মার্কিনীর বার্ষিক আয় সহজেই ৪৮,৫৬০০০ টাকা হয়। তাঁরা  বছরে যে পরিমান পুঁজি অর্জন করেন তাতে কি তাঁরা প্রলেতারিয়েতের অংশ হতে পারেন ?

উক্ত প্রশ্ন গুলোর প্রেক্ষিতে যদি আপনার উত্তর হয় হ্যাঁ, তবে বলব আপনি ভূল পথে চলছেন। এর অর্থ হলো যেখানে একটি পরিবার আয় করেন ১০০,০০০ মার্কিন ডলার, ৪,০৪৯,০০০ পিলিফিনো পেসো, ৩,৯৮৫,০০০ ভারতীয় রুপী, ৬,৪৯৩,০০০ নেপালী রুপী, ১,০৭০,০০০ মেক্সিকান পেসো, ১০,৮০০,০০০ শ্রীলঙ্কান রুপী, ২৯২,০০০ পেরুভিয়ান সোল, ৮০,০০০০০ টাকা,  ইত্যাদি। রিমের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শ্রেনীর মানুষেরা বিপ্লবী বা বিপ্লবী শক্তি হিসাবে রূপান্তরিত হতে পারে।

উপরোক্ত প্রশ্নের জবাবে যদি আপনার উত্তর হয় ‘না’ তবে বলব আপনি বিজ্ঞান ভিত্তিক পথে আছেন বা বিজ্ঞানের পথে চলছেন। সামগ্রীক ভাবে দেখলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে মার্কিন মুল্লুকে বিপ্লবের জন্য কোন সামাজিক ভিত্তি নেই। আপনি লিডিং লাইটের পথে আসতে পারেন। আপনাকে এ পথে স্বাগতম।

যদি আপনি এই সকল প্রশ্নের জবাব প্রকাশ্যে দিতে না চান। অথচ আপনি এর উত্তর জানেন । তবে বলব আপনি এক জন কাপুরুষ । আপনি পেছনের টেবিলে বসার উপযুক্ত ভীরু মানুষ। আপনাকে মার্ক্সবাদী বলে পরিচয় দেয়া থেকে বিরত থাকুন। আপনি বিপ্লবী নন । কেননা বিপ্লবীরা সত্য কথা বলতে ভয় পায় না । কোন বিপ্লবী কাপুরুষ নন।

আমদের বন্দ্বু কে ? আর কে আমাদের শত্রু ? এই গুলি হলো প্রথম গুরুত্ব পুর্ণ প্রশ্ন। এই গুলিই হলো মহান মাওয়ের নির্বাচিত কাজের সূচনা বক্তব্য । যারা শত্রু ও বন্দ্বুর পার্থক্য বুঝেনা তাঁরা আর যাই হোক বৈজ্ঞানিক সাম্যবাদী হতে পারেন না । বিপ্লবী বিজ্ঞান ছাড়া – সামাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথে ক্রমাগত এগোনো সম্ভব নয়। আজকের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দুনিয়াটা ধনিক শ্রনী ও দরিদ্র নিপিড়িত শ্রেনীর মানুষ এই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।  যারা এটা দেখেন না তাঁরা কমিউনিস্ট বা সাম্যবাদী নন। #শিহাব

ইসরাইলের জন্য মার্কিন সিনেট তাঁদের বরাদ্ব দ্বিগুন করেছে…


( মার্কিনীরা ফিলিস্তিনিদেরকে নির্মূল করার জন্য এক বিচিত্র সাম্রাজ্যবাদিতে পরিণত হয়েছে।)

মার্কিন সিনেটের একটি প্যানেল ইসরাইলের সুরক্ষার জন্য তাঁদের প্রদত্ব অনুদান দ্বিগুন করে দিয়েছে। হামাসের রকেট হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরাইলকে হেফাজতের কাজে মার্কিনীরা উঠে পড়ে লেগেছে। ওবামা প্রশাসন অতিরিক্ত ৩৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইসরাইলকে অনুদান প্রদান করেছেন। এই ক্ষেত্রে রিপাবলিকান দলের সদস্যরা মৃদু আপত্তি করলে ও পরে তাঁরা  তাতে সম্মতি দেয় এবং অর্থের পরিমান কিছু কমিয়ে দিতে  অনুরুধ জানায়। উপরন্ত তাঁরা অধিকতর শক্তিশালী রকেট, মর্টারস ইসরাইলকে সরবরাহের জন্য কংগ্রেসকে আহবান জানায়।

ডেমোক্রেটিক সিনেটর ডিক ডারবিন যিনি এই প্যানেলের চেয়ারম্যান, তিনি বলেন গাজা উপত্যাকা থেকে সকল প্রকার রকেট হামলা প্রতিরোধের জন্য ইসরাইলকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।

সামগ্রীক ভাবে অ্যামেরিকা ইসরাইলকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ৫৪৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করবে।
এতে সহজেই অনুমান করা যায় আগামীদিনে ইসরাইল কত ভয়ংকর শক্তি হিসাবে দুনিয়ার সামনে আসছে। সাম্রাজ্যবাদের নিকৃষ্ট ও নোংরা লাটিয়াল হিসাবে উরা আমাদের প্রীয় পৃথিবীর শান্তি বিনাশী হয়ে উঠবে। #শিহাব

ইস্রাইল গাজার স্থলভাগে আক্রমণ করেছে ………


( ফিলিস্তিন কি এবার চিরতরে বিলিন হয়ে যাবে ? পুঁজিবাদ মানুষের উপর সীমাহীন দূর্দশা চাপিয়ে দিচ্ছে।)

বৃহস্পতিবার রাতে ইসরাইলী প্রধান মন্ত্রী বেঞ্জামীন নেতানিয়াহুর নির্দেশে  সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার স্থল ভুমিতে মারাত্মক আস্রশস্ত্র সহ ট্যাংক বহর নিয়ে প্রবেশ করেছে। বিগত ১০ দিনের অভিযানে এযাত ২৩১ জন নিরিহ ফিলিস্তিনি মানুষকে ইস্রাইল হত্যা করেছে।
 
প্রতক্ষ্যদর্শীর বর্ননায় জানা যায় যে, ইসরাইলী বাহিনী যুদ্ব বিমান থেকে বৃস্টির মত গোলা বর্ষন করছে ফিলিস্তিনী জনগণের উপর। তাঁদের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছে, পানি সরবরাহ বন্দ্ব করে দিয়েছে। খাদ্য ও পানির অভাবে এখন তাঁরা সীমানীন দূর্ভোগের শিকার।
 
নেতানিয়াহুর প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক ভাষ্যে বলেছেন যে ইসরাইলের সাথে গাজার সকল যোগাযোগ বন্দ্ব করে দেয়ার জন্য ই নাকি এ অভিযান তাঁরা শুরু করেছে ।
 
এক দল অস্ত্রধারী লোক গত বৃহস্পতিবার সকল বেলা দক্ষিন ইসরাইলের সংযোগ স্থলে প্রবেশের চেষ্টা করে, সেনাবাহিনী বলছে, সেই আক্রমনের সময় তেরজন আক্রমণ কারীর মধ্যে আট জন সেখানেই মারা পড়েন। হামাস অবশ্য সেই আক্রমনের কথা স্বীকার করেছে। এটা ছিলো বগত ১০ দিনের মাঝে দ্বীতীয় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ।  

হামাস বলেছে সেই আক্রমনে তাঁরা গাজা উপত্যাকায় অবকাঠামোগত কোন ক্ষতি সাধন করেন নি।
 
সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই মানবিক কারনে জাতি সংঘযুদ্ব বিরতির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইস্রাইলী সেনারা ফিলিস্তিনিদের বাড়ী ঘরে প্রচন্ড আক্রমণ করতে থাকে । ইসরাইলী বিমান বহর থেকে অবিরত গোলা বর্ষনে জনপদের পর জন পদ ধ্বংস হতে থাকে। তাঁদের কেহই যুদ্ব বিরতি না মানায় বিগত ১০দিন যাবত সকল দোকান পাট, বাজার, ব্যাংক বীমা সব কিছু বন্দ্ব রয়েছে।
 
এপর্যন্ত ২৩১ জন ফিলস্তিনী হত্যার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ৩৯ জন শিশু এবং ১৭০০ জন নানা ভাবে আহত হয়েছেন। গাজা থেকে প্রতি আক্রমনে রকেটের আঘাতের কারনে একজন ইসরাইলী মারা গেছে।
 
 বৃহস্পতিবার দুপুরে গন মাধ্যমে বলা হয়েছিল যে, উভয় পক্ষই যুদ্ব বিরতি মেনে নেবার বিষয়ে আলাচনা করছেন। শুক্রবার সকাল থেকে যুদ্ব বিরতি কার্যকরী হবে ।  পরে তাঁরা বলেছেন কোন পক্ষ ই যুদ্ব বিরতিতে রাজি হচ্ছেন না ।
‘কোন আলোচনায় অগ্রগতি নেই’
 
দুপুরের পর হামাসের একজন মূখপত্র সামি আবু ঝুহুরী বলেছেন, আমাদের আলোচনায় কোন প্রকার অগ্রগতি হয় নাই। তিনি বলেন যে,  হামাসের কোন নেতা কায়রোতে গমন ও করেন নি। অথচ এই দলের একজন গুরুত্ব পুর্ন নেতা মুসা আবু মার্জুক কায়রোর মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বৈঠক করেছেন এবং দির্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান ও করছেন।
 
কায়রোর ফাতাহ দলের প্রতিনিধি আজ্জাম আল আহমেদ আল জাজিরাকে বলেছেন এখানে কোন প্রকার চুক্তি সাম্পাদিত হয় নি।
 
পক্ষান্তরে, কায়রোতে ইসরাইলী প্রতিনিধি ইয়ারম কোহেন জানালেন, প্রধান মন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে যুদ্ব বিরতির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
 
মোটকথা হলো এখনো কোন শান্তির আবাস দেখা যাচ্ছে না । ইসরাইলী বাহিনী তাঁদের অভিযান অব্যহত রেখেছে। অন্য দিকে হামাস ইসরাইলী এলাকায় ১০০ উপর রকেট হামলা করেছে কিন্তু তা কোন কাজেই লাগেনি। ইসরাইলিরা বলছে আগামী সাপ্তাহ থেকে তাঁরা সেখানে ড্রোন হামলা শুরু করবেন।
 
দুনিয়ার শান্তিকামি মানুষের কি এ অবস্থায় কিছুই করার নেই ? # শিহাব