বৃহষ্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৩

সমতা ও বিশ্ব ঐক্য



(llcobangla.org)

 "যেখানে সাম্রাজ্যবাদিদের বদৌলতে ধনিদেশের কতিপয় কর্মজীবীরা সহজ ও সুখী জীবনযাপন করেছে, তারা এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বিপ্লবকে প্রশ্রয় দিবে না। বরং এর উল্টোটাই করবে। তারা তাদের পেশাগত আভিজাত্যকে বলিদান করে কোন দলে বা সংগ্রামে অংশগ্রহন করবে না। এছাড়া তাদের দ্বারা প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ম কায়েম করা, বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপে তা মোটেই সম্ভব নয়।” - ভ. ই. লেনিন।

“ আমরা যদি সমগ্র বিশ্বটাকে সামনে রাখি, তবে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপকে বলতে হবে বিশ্বের শহর। আর এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাকে বলতে হবে দুনিয়ার গাঁও গেরাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর থেকেই উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের মত পুঁজিবাদী দেশ গুলোতে প্রলেতারিয়েতের আন্দোলন সংগাম পিছিয়ে পড়ে। তবে সেই সময় থেকেই এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন অ্যামেরিকায় সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সুবাতাস বইছিল । এক অর্থে পরিবর্তনের হাওয়ায় দোলায়িত পৃথীবিতে তা ছিলো গ্রাম দিয়ে শহর গেড়াও করার মত আন্দোলন। চুড়ান্ত বিশ্লেষণে বলতে হয় যে, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকান জনগন যারা দুনিয়ার জনসংখ্যার সিংহ ভাগ তাঁরাই প্রলেতারিয়েতের সংগ্রামকে এগিয়ে নিচ্ছিল।” -লিন বিয়াও। 

মহান মাওসেতুংয়ের সমগ্র রচনার মধ্যে বিখ্যাত ৮ টি শব্দ হলো “আমাদের শত্রু কে? " আর “আমাদের বন্দ্বুই বা কে ?" মার্ক্সবাদ হল একটি বিপ্লবী বিজ্ঞান। মার্ক্সবাদী বিজ্ঞানের প্রধান কাজই হোল সাম্যবাদে পদার্পন করা। সাম্যবাদ আর কিছুই নয়, তা হলো নিপিড়নের পরিসমাপ্তি ও মানুষের সামগ্রিক মুক্তি। মাওসেতুং এর মতে এই ক্ষত্রে কে আমাদের শত্রু আর কে আমাদের বন্দ্বু তা খুবই গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন। যদি কোন সংগঠন এই প্রশ্নের যথাযত উত্তর দিতে না পারে, তবে তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ হয়ে যাবে। যদি শ্রেনি বিশ্লেষণে ভুল করেন তবে, বিপ্লব করলে ও তাদের সাম্যবাদ কখনও সফল হবে না । সামাজিক বিপ্লব লক্ষ্যহীন হতে পারেনা। যদি বস্তুগত বিশ্লেষণ ছাড়া কোন বিপ্লব করা হয়, তবে তা হবে একান্তই কল্পনা বিলাশ। কেবল মাত্র বাস্তব ভিত্তির উপর ভর করে, সঠিক ভাবে শ্রেনি বিশ্লেষণ করে, বিপ্লব করলে, তবেই সামাজিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে প্রলেতারিয়েত শ্রেনিকে ক্ষমতায় আরোহন করানো যেতে পারে, সম্ভব হতে পারে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিনির্মানের এবং তা থেকে সাম্যবাদে পদার্পন করার। তাই আমাদেরকে এটা বুঝতে হবে কারা সাম্রাজ্যবাদিদের পক্ষ নিবে আর কারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পক্ষ নিবেন।  এটা জানা ও খুব জরুরি যে, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কারা উপকৃত হবেন আরা কারা হবেন না ?

প্রকৃত বিচারে ও বিশ্লেষণে প্রতিটি মানুষ সমাজতন্ত্রের আওতায় উপকৃত হবে। চুড়ান্তভাবে সাম্যবাদের অধিনে প্রত্যেকের জিবন হবে পরিপুর্ন ও স্বাস্থ্য সম্মত , এমনকি প্রতিক্রিয়াশীলরা ও উপকৃত হবেন।  পুঁজিবাদের কারনে আজ আমাদের পরিবেশ যেভাবে ধবংস সাধন করা হচ্ছে তা বন্দ্ব করা হবে। যা আমাদের পুরো মানব জাতিকে রক্ষার জন্য একান্ত প্রয়োজন। অদুর ভবিশ্যতেই শ্রেনী প্রায় বিলুপ্তি বা সম্পুর্ন বিলুপ্তি ঘটবে। তখন সকলেই সাম্যবাদ দ্বারা উপকৃত হবেন। এমনকি সাম্যবাদের মাধ্যমে চিরস্থায়িভাবে মানুষ উপকৃত হবে, কেউ আর ক্ষতিই গ্রস্থ হবেন না। সমাজতন্ত্রের  আওতায় সম্পদ ও ক্ষমতার পুনবন্ঠন করা হবে। বাস্তবতা হলো পৃথীবিতে এই দুই জিনিষ নির্দিস্ট ও সিমীত। তা কোন ভাবেই সীমাহিন নয়। এটা স্বভাবিক বিষয় হওয়া উচিৎ যে তা বশি মানুষের জন্য বেশি, আর কম মানুষের জন্য কম থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এর বিপরীত। আর তাই দুনিয়া জোড়ে গরিব মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী। সেই জন্যই দুনিয়ায় চলছে শ্রেনী দ্বন্দ্ব ও সংগ্রাম। তার জন্যই বর্তমানে যে ভাবে সমাজে শ্রেনি বৈষম্য বিদ্যমান আমরা তার পুনবিন্যশ করতে চাই। আমরা প্রলেতারিয়েত বলেই কেবল বুর্জোয়াদের প্রতি এই আহবান করছিনা, বরং এটা হল বৈজ্ঞানিক সমাজ বিশ্লেষনের অনু সিদ্বান্ত। আমরা বর্তমান সমাজকে পালটাবই । তা খুব বেশি দুরে নয়, অদুর ভবিষ্যতেই।

প্রথম বিশ্ব এবং তৃতীয় বিশ্বের মাঝে যে বিশাল ফারাক তা আজ কম বেশি সবাই জানেন। সাম্রাজ্যবাদ- পুঁজিবাদী ব্যবস্থা আজ কতিপয় মানুষের নিকট ক্ষমতা ও সম্পদ পুঞ্জিভুত করেছে । ক্ষমতা ও সম্পদ যেন কেবল মাত্র কতিপয় দেশের কিছু মানুষের কাছেই পুঞ্জিভুত হয় তার সকল প্রকার ব্যবস্থাই তারা করে রেখেছে। ফলে স্বল্প সংখ্যক দেশ উপকৃত হবে আর বেশির ভাগ দেশ তার মূল্য পরিশোধ করবে। আমরা যদি সাদা চোখে ও পৃথিবির দিকে থাকাই, তবে দেখতে পাব কারা সম্পদশালি আরা আর কারা সম্পদহীন। মোট কথা হল আয় রোজগারের বিষয় টি সম্পদের মালিকানার  সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে দুনিয়াময় সম্পদের বন্ঠনের পার্থক্য আমাদের সামনে স্পষ্ট । এটা এখন আর গোপন নয় যে, সম্পদ ও ক্ষমতা পরস্পরের সাথে সম্পৃক্ত । সম্পদ যেখানে পুঞ্জিভুত, ক্ষমতা ও সেখানে পুঞ্জিভুত। সামাজিকভাবে সম্পদশালীরাই ক্ষমতাশালী, সম্পদহীনরাই ক্ষমতহীন । বিশ্বব্যপি থাকালে আমরা দেখতে পাব যে, প্রথম বিশ্বের শ্রমিকেরা আয় বন্ঠনে যেমন এগিয়ে আছে, তেমনি তারা তাদের সেই বিশ্বব্যবস্থাটি ঠিকিয়ে রাখার জন্য ও তৎপর রয়েছে।

একটু চিন্তাভাবনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে যে, যদি সকলের রোজগারের পরিমান সমান হয়, তবে পৃথিবীর চিত্রটা কেমন দাঁড়াবে। তবে সমাজতন্ত্রের আওতায় ও আয় রোজগার সমান হবে না। তবে সমাজতন্ত্রের সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিটি বিষয় হবে অনেক স্বচ্ছ ও সুনিয়নিয়ন্ত্রিত ; ইহা কেবল মাত্র আয় রোজগারের উপর নির্ভশীল  নয়। এটা আমাদের কাছে আজ পরিষ্কার যে, সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা কারা উপকৃত হচ্ছে আরা কারা হচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন মধ্যম শ্রেনীর শ্রমিক  মোটামোটি  বছরে রোজগার করে প্রায় ১৯,৪০০ ডলার। তাদের আয় বলতে কেবল মাত্র মজুরী ও বেতন নয় বরং তার সাথে যুক্ত হয় অবসর কালিন ভাতা, কল্যান তহবিল, প্রতিবন্দ্বী ভাতা, শিশু ভাতা, ও নিয়মিত যাতায়াত ভাতা সহ নানা সুযোগ সুবিধা সমূহ । একজন প্রকৃত মার্কিন নাগরিক যাদের বয়স ২৫ বছর, তারা স্বভাবিক ভাবেই বছরে ৩২,০০০ ডলার আয় করে থাকে। এবং সাধারন ভাবেই তারা প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে ৭.২৫ ডলার আয় করে থাকে। বেশির ভাগ নিবন্দ্বিত কর্মিরা প্রতি ঘন্টায় ১০ ডলার আয় করে। যারা সার্বক্ষনিক ভাবে কোন অফিসে কাজ করে তারা কম পক্ষে বছরে ১৫০০০ ডলার রোজগার সহ আরো নানা প্রকার সুবিধা অর্জন করেন। পক্ষান্তরে, বিশ্ব শ্রমিকদের আয় এর অনেক কম। যেমন, মধ্যম শ্রেনীর একজন শ্রমিক বছরে আয় করেন মাত্র ৮৫০ ডলার । তৃতীয় বিশ্বের বেশির ভাগ শ্রমিক দিনে ৩ ডলার ও আয় করতে পারেন না। তৃতীয় বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ কোন রকমে ঠিকে আছেন। তা হলে বিশ্বব্যবস্থা ও  অর্থনীতিতে  কিভাবে সমতা আসবে ? দুনিয়ার সকল মানুষের আয় সমান করলে বিষয় টি কেমন দাঁড়ায় ? যেখানে প্রতিটি মানুষ সামাজিক উৎপাদনের সম ভাগিদার হবে?  যদি ৬.৭ বিলিয়ন মানুষের মাঝে সমভাবে বন্ঠন করা হয় তবে মাথা পিছু আয় হবে ৮,০০০ ডলার । এই বন্ঠন ব্যবস্থায় মার্কিন মুল্লুকের একজন শ্রমিক ও পাবেন বছরে মাত্র ৮,০০০ ডলার। যদি এই সমতার নীতি বাস্তবায়ন করা হয় তবে আমেরিকার একজন সাধারন শ্রমিক ও তার বর্তমান আয়ের অধের্ক হারাবেন। তার সাথে আরো হারাবেন চলমান ব্যবস্থায় প্রাপ্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা  সমূহ । যেমন, সামাজিক নিরাপত্তা মূলক নানা সুবিধা সমূহ।

বর্তমানে শোষক দেশ গুলোর মাঝে প্রথম বিশ্বের দেশ সমুহ তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোকে শোষণের মধ্যমে নিজেদের আখের গোছিয়ে নিচ্ছেন। প্রকৃত সত্য হলো তৃতীয় বিশেরে মানুষকে সুসম পর্যায়ে নিতে হলে তাদেরকে একটু অতিরিক্ত সুবিধা দিতে হবে । অন্যভাবে বললে বলতে হয় যে, মার্কিন মুল্লুকের লোকদেরকে কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্ত সুবিধাদি কিছুটা সিমীত করে দিতে হবে। আর তা সরবরাহ করতে হবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষ কে ।

কিছু কল্পনাবাদি মানুষ আছেন যারা এর বিরোধিতা করেন । তারা বলেন যে, প্রথম বিশ্বের মানুষের প্রাপ্তিতে কোন হের ফের হবে না । অকল্পনিয় উৎপাদনের মাধ্যমে সবাইকে সমান ভাবেই বন্টন করা সম্ভব হবে । মুলতঃ এটা সম্ভব নয়। কারণ, প্রথমত, চলমান ব্যবস্থায় মাত্র ২০% মানুষ যে পরিমান সম্পদ ভোগ করেন তা যখন আরো ৮০% মানুষের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে তাদের ভাগে কম পরবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। দ্বিতিয়ত, প্রথম বিশ্বের মানুষের ভোগ ও জিবনযাত্রা মোটেই পরিবেশ বান্দ্বব নয়, বরং তা আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবশকে প্রতিনিয়ত ধবংস করছে । প্রথম বিশ্ববাদ আমাদের পৃথিবি ও ভবিষ্যতকে বিনাশ করছে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে যে, প্রথম বিশ্বের মানুষেরা বিশ্ব সামাজিক উৎপাদনের  ভাগ হিসাবে তারা অনেক অনেক বেশী নিয়ে নিচ্ছেন। তাই, সমাজতন্ত্রের আওতায় তারা সমবন্ঠন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের কোন প্রকার আগ্রহ ও নেই।সমাজতন্ত্রের প্রধান লক্ষ্যই হলো সুসম বন্ঠন ব্যবস্থা বা প্রায় সমতা নিশ্চিত করা।  তবে, সমাজতন্ত্রের কাজ কেবল মাত্র মানুষের আয় সমতা বিধান করা নয়। বরং প্রকৃত সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য হল ব্যক্তিগত সম্পদের মালিকানা কমিয়ে এনে তা সামাজিক মালিকানায় রূপান্তরিত করা । সমাজতন্ত্রের আরো একটি বড় কাজ হল  সকল সম্পদের সমাহার ঘটানো ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা । সমাজতন্ত্রের মুল উদ্দেশ্য হল সমাজের আমুল পরিবর্তন ঘটিয়ে সাম্যবাদের প্রতিস্থাপন করা এবং সামাজিক নিপিড়নের অবসান ঘটানো। তবে, এটা সত্য যে মানুষ সাধারন জ্ঞানেই বুঝতে পারেন যে সুসম বন্ঠন করলে কিছু মানুষকে তাদের সম্পদের কিছু অংশ হারাতেই হবে। অসম বন্ঠন ব্যবস্থায় ও কেহ হারায়, আর কেহ বিজয়ী হয়ে লাভবান হয়।  প্রথম বিশ্বের মানুষকে অবশ্যই বিশ্ব সমবন্ঠন ব্যবস্থায় তাদের কিছু আয় ও সম্পদ হারাতে হবে। প্রকৃত সমাজতন্ত্রের আওতায় শুধু মাত্র ব্যাক্তিগত সম্পদের মালিকানার বিনাশ ঘটবেনা বরং বুর্জোয়াদের অন্যান্য অধিকারকে ও হরন করা হবে। সহজ করে বললে, বলতে হয় প্রথম বিশ্ব তাদের সম্পদ হারাবে, প্রচলিত জিবনমানের অনেকটাই নিম্নগামী হবে।

সমাজতন্ত্রের মুল বক্তব্যই হলো সামাজিক সমতা নিশ্চিত করা। শ্রেনি ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠে অসমতা ও অসাম্যের উপর ভিত্তি করে। ক্ষমতার অসমতা ও সম্পদের অসমতা হোল শ্রেনি ভিত্তিক সমাজের উপাদান। আমরা যখন অসমতার সমালোচনা করি তখন আমরা সাম্রাজ্যবাদের ও বিরোধিতা করি।  বিশ্বব্যবস্থার যেখনে কতিপয় দেশ অন্যান্য দেশের সম্পদ লুন্ঠন করে নিজেদেরকে ক্ষমতা ও সম্পদের মালিক বানিয়েছে , নিজেদের ক্ষমতা অন্যদের উপর খটানোর চেষ্টা করছে, সেখানে সমাজতন্ত্রের কাজ হোল বিশ্বের দেশ গুলোর সুষমতা নিশ্চিত করা। মহান লেনিন যেমনটি বলেছিলেন, প্রতিটি জাতির তার আত্ম নিয়ন্ত্রনের অধিকার অন্তবর্তিকালিন সময়ের জন্য হলে ও নিশ্চিত করা চাই, এবং অন্যন্য জাতির সাথে সমতা বিধানে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। সৌভিয়েত ইউনিয়নের  পতনের পর ইহা নিজেই সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র ধারন করে, তখন লেনিনের লাল পতাকা মাওবাদীরা উর্ধেতুলে ধরতে এগিয়ে আসেন। মাওবাদীরা ও সাম্রাজ্যবাদ, সংশোধনবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, জাত্যাভীমানবাদ , সকল প্রকার অসমতা ও নিয়ন্ত্রনবাদের কঠোর সমালোচক ও বিরোধিতা কারি। মহান মাওসেতুং দুনিয়া থেকে পুরাতন ভাবনা ও সামাজিক রীতিনীতি ধবংস করে তার স্থলে নতুন আইন কানুন প্রতস্থাপন করতে এক মহা পরিকল্পনা করেছিলেন।  এই উদ্যোগ ও মহাপরিকল্পনা কেই চেন বোধা ও লিন বিয়াও মাওবাদ বলে অভিহিত করেন। এই মাওবাদই হলো মার্ক্সবাদের  আর এক নতুন স্তর। চেন বোধার মতে, উপনিবেশিক ও নয়া উপনিবেশিক সকল দেশের জন্য মাওবাদ হলো একটি  সার্বজনিন মতবাদ। লিন বিয়াও বলতেন, সাম্রাজ্যবাদের অবসান ও তার বিলুপ্তি সাধনই হোল মাওবাদ। লিন বিয়াও এর মতে, মাওবাদ হলো দরিদ্রদেশের প্রাগ্রসর জনগনের জনযুদ্ব। যা পরিচালিত হবে দরিদ্র দেশ থেকে ধনিক দেশের প্রতি। মাও আমাদের চিন্তাভাবনাকে আনেক দূর এগিয়ে দিয়েছেন, আর তার পথ ধরেই উত্থান হয়ছে লিডিং লাইট কমিউনিজমের । লিডিং লাইট প্রথমেই যে কাজটা করতে চায় তা হলো, প্রথম বিশ্ববাদের বিনাশ। ইহা বিশ্ব জনযুদ্ব ও সামাজতন্ত্রের চলমান দোষ ত্রুটি গুলোর অপসারন করতে  চায়। বিশ্বময় একটি সমাজতান্ত্রিক বন্ঠন ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চলমান সম্পদ ও ক্ষমতার অসমতা দুরিভুত করে প্রচলিত ব্যবস্থার অপনোদন করতে বদ্বপরিকর। দুর্বল পরিকল্পনা,ও ত্রুটি বিচ্যুতির কারনে সমাজতন্ত্রের প্রক্রিয়াটি যথাযথ ভাবে কাজ না ও করতে পারে। অসমতা ও সাম্রাজ্যবাদের আওতায় সমাজতন্ত্র মানুষের জন্য অধিকতর ভয়াবহ হতে পারে। এই অবস্থায় যদি অসমতা মেনে নেয়া হয় তবে প্রথম বিশ্বকেই তা সমর্থন যোগাবে। সমাজতন্ত্রের মুল বক্তব্যই হোল সমতা। প্রকৃত কমিউনিস্টরা প্রথম বিশ্ববাদের অবসান চায়।

সমাজতন্ত্রের দুনিয়ায় প্রথম বিশ্ববাদের অস্থিত্ব থাকতে পারেনা। এমন কি এখন ও যারা প্রথম বিশ্বের তলানীতে আছে তাদেরকেও পরিবর্তনের ধারায় আসতে হবে। সমাজতন্ত্রের ফলাফল কি হবে তা প্রথম বিশ্ববাদিরা জানেন, তাই তারা তৃতীয় বিশ্বের মেহেনতি মানুষের সাথে একাত্ম হতে রাজি নয়, বরং তাদের দেশীয় বুর্জোয়াদের সংগে থাকতেই পছন্দ করে। প্রথম বিশ্বের শ্রমিকরা সামাজতন্ত্রের পরিবর্তে সাম্রাজ্যবাদকে সমর্থন করছে। তারা দুনিয়ার সংখ্যাগরিস্ট শ্রমিকদের সাথে একাতাবদ্ব হতে রাজি নয় । প্রথম বিশ্বের শ্রমিকদেরকে সাম্রাজ্যবাদের অংশ বলার এটা ও হোল একটি কারণ। প্রথম বিশ্বের শ্রমিকদের মাঝে তারা বিপ্লবের জন্য কোন সামাজিক ভিত্তি ও গড়ে তুলছেনা -কেননা যেহেতু তারা নিজেরাই প্রলেতারিয়েত নয়। তারা যেমন শোষিত শ্রেনী নয় ; তাই তারা বিপ্লবী শ্রেনী ও নয়। প্রথম বিশ্বের একজন শ্রমিক সাধারনত যে পরিমান পুঁজি সহ সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে, তৃতীয় বিশ্বের একজন পুজিপতি ও সেই রূপ সুযোগ সুবিধা পায় না। মার্ক্স বিপ্লবকে দারিদ্রতার  সাথে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। উদাহরন- “ প্রলেতারিয়েত শ্রেনীর শৃংখল ছাড়া হারাবার আর কিছু নেই”। এটা হোল সেই শ্রেনী যারা শোষিত, নিপিড়িত, ও মানবেতর জীবনযাপন করেন। এটা হোল সেই শ্রেনী যারা কেবল মাত্র নিজেদের কায়িক শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকেন। প্রলেতারিয়েত শ্রেনী বেঁচে থাকে পুঁজিবাদের দয়ায়। মার্ক্সের বর্ননা অনুসারে প্রথম বিশ্বে প্রলেতারিয়েত পাওয়া বেশ দুষ্কর। তবে সেই বর্ননা অনুসারে তৃতীয় বিশ্বের সব শ্রমিকদেরকেই গন্য করা যায়। মহান মার্ক্সের বর্ননা সার্বজনিন, ইহা বিতর্কের উর্ধেব। দু একটা যে বিদ্রোহ হয় ; তা হয় মুলত পরিচালনা গত ত্রুটির কারনে। প্রথম বিশ্বে আজ যে সামাজিক শান্তি বিরাজ করছে তার মুল কারণ ও  হোল  তাদের উন্নত জিবনমান। বিগত শতাব্দিতে আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে নানা প্রকার বিদ্রোহ বিপ্লব দেখেছি, কিন্তু প্রথম বিশ্বে একটি ও এরূপ ঘটনা আমরা  দেখতে পাবনা  - তা কিন্তু কোন রহশ্য নয়, ইহা প্রথম বিশ্বের আর্থ-সামাজিক অবস্থার মাঝেই নিহিত। এভাবেই আমরা মহান মাওসেতুং এর প্রথম প্রশ্নের উত্তর খোঁজে পাব।

সংশোধনবাদ খুবই শক্তিশালী একটি বিষয়। কোন সেনাবাহিনী সৌভিয়েত উইনিয়ন বা চীনকে পরাজিত করতে পারেনি। এখন সেই দু দেশেই পুঁজিবাদ পুনঃ স্থাপিত হয়ছে। সেখানে সমাজতন্ত্রকে বিদায় করে -পুঁজিবাদ আবার জায়গা করে নিয়েছে। চিনি মিশ্রিত বিষ খুবই বিপদজনক , মাও এ ব্যাপার হুশিয়ার করেছিলেন। সংশোধনবাদ বিষয়ে হুশিয়ারী উচ্চারন করেছিলেন মহান মার্ক্স, লেনিন এবং আর ও অনেকে। তাঁরা সংশোধনবাদ ও জাত্যাভীমানবাদ  বিষয় গুলোর সমালোচনা করে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকে সর্তক করেছিলেন। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকে সংশোধনবাদের পক্ষের লোকেরা সাম্রাজ্যবাদী যুদ্বের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো -কেন না তাঁরা তখন নিজ নিজ দেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করছিলেন। ফ্রান্সের সোস্যাল  ডেমোক্রেটরা ফ্রান্স সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো। জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রেটরা জার্মান সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো। পক্ষান্তরে, লেনিন বিশ্বপ্রলেতারিয়েতের পক্ষ নিয়েছিলেন। মহান লেনিন তাঁর নিজ দেশের পরাজয়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন যেন সাম্রাজ্যবাদী যুদ্বের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রথম বিশ্বের তথাকতিত সমাজতন্ত্রীরা সেই সময়েই সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও সামাজিক ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন আর লেনিন সেই সংশোধনবাদের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। সংশোধনবাদের সমর্থকরা সেদিন সমাজতন্ত্রের নামেই সাম্রাজ্যবাদের পক্ষ নিয়েছিল। আজকের প্রথম বিশ্ববাদিরা ও তাই করছে। প্রথম বিশ্ববাদিরা তাদের সম্পদ আরো আরো বাড়াতে চায়। যদি ও তাঁরা বর্তমান দুনিয়ার তৃতীয় বিশ্বের মানুষের তুলনায় তাদের ন্যায় সংগত ভাগের চেয়ে অনেক বেশী সম্পদ তাঁরাই ভোগ করছে। পক্ষান্তরে, লিডিং লাইট কমিউনিস্টরা দুনিয়ার সংখ্যাগরিস্ট মানুষ যারা প্রকৃত পক্ষে শোষিত ও নিপিড়ত তাদের পক্ষে কাজ করছে। লিডিং লাইট কমিউনিজম বিশ্বকে তাঁর সঠিক আংগীকেই বিশ্লেষনের চেষ্টা করছে। যা বাস্তব তাই তুলে ধরছে। বিশ্বপ্রলেতারিয়েতের লড়াই সংগ্রামে সামনের কাতারে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। লিডিং লাইট সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আলোর মশাল ধরে আছে। একে এম শিহাব।


বুধবার, ৮ মে, ২০১৩

চিনের সংস্কৃতিক বিপ্লব প্রসংগে কিছু কথা ….


(llcobangla.org)

 সাম্যবাদ হলো আমাদের মহান বিপ্লবের  চুড়ান্ত গন্তব্য। মাওসেতুং এর একটি কথা আছে তুমি সকল শৃংখল এক সাথে ভাংতে পারবে না। ভাংগ একটি একটি করে। তুমি যদি একটি  আথবা শত শৃখল দ্বারা বাঁধা থাক কোন দেয়ালের সাথে তবে তা ত একই কথা, তবে ভেবনা । আমরা শত শৃংখল ভেংগে তোমায় আমারা মুক্ত করবই । সকল নিপিড়ন শেষ হবে। সকল শোষণ শেষ হবে। ধনি গরীব থাকবে না। বর্ন বৈষম্য থাকবে না। জাতিগত ও লিংগত বৈষম্য থাকবে না। তরুনদের অপব্যবহার দূর হবে। সাম্যবাদ হলো সামগ্রিক মুক্তি। এক দল আর এক দলের উপর প্রভুত্ব করবে না। মহান মার্ক্স ও লেনিন বলেছেন, রাস্ট্র হল এমন একটি নিপিড়ক যন্ত্র যার মাধ্যমে এক দল আর এক দলের উপর নিপিড়ন চালায়। যেহেতু সাম্যবাদে এক দল আর এক দলের উপর নিপিড়নের প্রশ্ন নেই, সেহেতু রাস্ট্রের ও দরকার নেই। সাম্যবাদ মানেই হল  সমতা। একটি সমাজ গড়ে উঠে মানুষের প্রয়োজনে। সাম্যবাদের আওতায় মানুষের লোভ, লালসা, আত্মকেন্দ্রিকতার কোন সুযোগই থাকবে না। সাম্যবাদের আওতায় মানুষ নিজেকে একা বিবেচনা করবে না বরং নিজেকে সমাজের সমষ্টির একজন হিসাবে ভাববে। সকল ভালো, সকলের জন্য। সাম্যবাদের আওতায় ব্যাক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না। সাম্যবাদ হল বিকল্প সমাজ ব্যবস্থা। এর নীতি হল, মানুষের সেবা কর। পুরো সমাজটাই আর্বতিত হবে এই মন্ত্রের মাধ্যমে। মানুষ এক হবে, নেক হবে , কেবল মাত্র সাম্যবাদের আওতায়। মানুষ আমি, আমি আর করবে না। বলবে আমরা। সাম্যবাদের মাধ্যমেই ঠেকসই উন্নয়ন সম্ভব। মানুষ ধরিত্রির সর্বনাশ করবে না। কেন না এটাই আমাদের সকলের একমাত্র  আবাস ভুমি। আগামি প্রজন্মের প্রতি আছে আমাদের অঙ্গীকার। সাম্যবাদের আওতায় বিপরিত মুখী দ্বন্দ্ব বিরাজ করবে না। সাম্যবাদের অর্থই হল শান্তি আর শান্তি । সাম্যবাদের আওতায় বিপ্লব নিজেই নিজেকে সংহত করে থাকে। সামগ্রিকভাবে সাম্যবাদের উপস্থিতি কোথাও নেই, কোন কোন আদিবাসিদের মাঝ কিছু চর্চা দেখা গেলেও তা সঠিক অর্থে সাম্যবাদ নয়। মাকর্স এঙ্গেলস একে আদিম সাম্যবাদ বলেছেন।

এপর্যন্ত বিপ্লবের তিনটি ঢেউ বয়ে গেছে। তা মানব সভ্যতা অনেক এগিয়েছে। মানুষকে সমাজতন্ত্রের পথ ধরে সাম্যবাদের দিকে এগিয়েছে। প্যারিস কমিউনকে বলা হয় প্রথাম ঢেউ। কিন্ত তা বেশি সময় ঠেকেনি। এটা ছিল একান্তই শহর কেন্দ্রিক বিপ্লব। তাই অল্পতেই প্রতি বিপ্লব তাকে পরাজিত করে ফেলে। এর পরের বিপ্লবটি ছিল ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বলশেভিকদের মহান বিপ্লব। ইহা লেনিনের নেতৃত্বে সংঘঠিত হয়। তবে, ১৯৫০ সালে প্রতিবিপ্লবীরা আবার পুঁজিবাদের পথে ফেরে যায়। আমারা সৌভিয়েত বিপ্লব থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা বহু কিছু শিখছি মহান লেনিন ও স্তালিনের কাছ থেকে। আমরা এসব তুলে ধরব। তা হবে মুক্ত মন নিয়ে, কোন প্রকার অন্ধ অনুসরনে নয়। তৃতীয় বিপ্লবটি ঘটে ছিল দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের পর। আর তা ছিল সাম্রজবাদের বিরুদ্বে লড়াইয়ের অংশ হিসাবে। মহান মাওসেতুং এর নেতৃতে চিনের এইবিপ্লব ছিল খুবই গুরুত্ব পুর্ন। পৃথিবীর প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মানুষ চেষ্টা করেছিলো নতুন দুনিয়া গড়তে। আমাদের সকল চেষ্টা ছিলো সমাজতন্ত্রের ভেতর দিয়ে সাম্যবাদের পানে এগিয়ে যাওয়ার। এবং চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রধান কাজটি ছিল মানব সমাজকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবার। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের তারিখ ও সময় কাল নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক করেন কিন্তু আমাদের বক্তব্য হোল তা শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সাল থেকে এবং শেষ হয়ে ছিল১৯৭০ সালে । ইহার পরিসমাপ্তি টানা হয়েছিল ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭০ সালের মধেই। চিনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবটি ছিল মাওবাদি বিপ্লবে বিপ্লবি বিজ্ঞানের গুরুত্ত্ব পুর্ন অবধান। মহান লিন বিয়াও বলেছেন, সাংস্কৃতিক বিপ্ল্ধান।বিপ্লবি তত্ত্বে ছিল মাও এর বিরাট অবদান।
“কমরড মাওসেতুং কেবলমাত্র মার্ক্সবাদকেই আলোকিত করেনি বরং প্রলেতারিয়েত শ্রেনিকে রাজনৈতিক ভাবে ক্ষ্মতায়ন করেছেন। তিনি মার্ক্সবাদকে সৃজন শীলতার দিকে নিয়ে গেছেন। মার্ক্সবাদকে প্রয়োগ করে আমাদের চলমান সকল সমস্যার সমাধান করেছেন। প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব কায়েম, পুঁজিবাদের ফেরত আসার বিরুদ্বে লড়াই জারি রাখা ছিল তাঁর বড় অবধান”। এখানে কিছু গুরুত্বপর্ন বিষয় তুলে ধরা হল বিষয় টি ভালো ভাবে অনুধাবন করার জন্য।

১. সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পুরোসময়টাই ছিলো সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে সাম্যবাদের পানে বা সত্যিকার স্বাধিনতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। মাওবাদিগন বুঝতে পেরেছিলেন যে আমারা যদি সাম্যবাদের দিকে অগ্রসর না হই তবে বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাবে। মহান মাওসেতুং বলেছিলেন, “ একটি বদ্ব জলাশয়ে কোন বিপ্লবী বিকাশ সম্ভব নয়”। সামাজতন্ত্রের সারমর্ম বুঝা যাবে সাম্যবাদে উন্নিত হওয়ার মাধ্যমে। মাওবাদের মতে, “প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্বের মাধ্যমে নিরন্তর বিপ্লব”।

২. মাওবাদিগন বুঝতে পেরেছিলেন প্রতিবিপ্লবী শক্তি পার্টির ভেতর ও বাইরে নতুন এক শ্রনির বুর্যোয়া জন্ম হচ্ছে। রাস্টের বিভিন্ন বিভাগে সেই প্রতিবিপ্লবীরা জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় ও সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে তারা অসমতার সৃষ্টি করছে। উরা প্রতিক্রিয়াশীল ধারনার সৃষ্টি করছে। আমলাতন্ত্রকে দুরিভুত করে সাধারন মানুষের কল্যানে যে প্রশাসন গড়ে তুলার কথা তা না হয়ে সেই বিশেষ শ্রেনির স্বার্থে তা গড়ে উঠছে। তারা তাদের স্বার্থে সমাজকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। তারা তাদের স্বার্থে যা যা করছে সবই করছে  সাম্যবাদের নামে। শ্রেনির বিলুপ্তির ও পরিসমাপ্তির পরিবর্তে নতুন শ্রেনির বিকাশ ঘটাতে শুরু করে। তারা প্রানান্তকর চেষ্টা চালায় পুঁজিবাদকে ফিরিয়ে আনার জন্য।

৩. একটি দল নতুন বুর্যোয়াদের সমর্থক তারা মনে করেন উৎপাদন শক্তির বিকাশের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। এই ধারাটি নতুন বুর্যোয়াদের সহযোগী। এই ধারাটি  সমাজ বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় উৎপাদন শক্তি ও প্রযুক্তির বিকাশের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। এই ধারাটি সাম্যবাদকে পুঁজিবাদের প্রযুক্তিগত বিকাশের উচ্ছত স্থরে দেখতে চায়। সমাজতন্ত্র হলো সাম্যবাদের প্রাথমিক স্তর। ইহা সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের অন্তর্বতী কালিন সময় কাল। এই কালে সমাজতন্ত্র কেবল মাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়নই ঘটাবে না বরং সমাজকে সাম্যবাদে উপনিত হতে সহায়ক হবে। এই তত্ব ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে অস্বীকার করে, সামাজিক বিপ্লবকে অস্বীকার করে, ইহা সামাজিক পরিবর্তন এবং সামাজিক উপরি কাঠামোকে অস্বীকার করে। ইহা মানুষের ক্ষমতা কে অস্বীকার করে। উৎপাদন শক্তি তত্ব প্রথম বিশ্ববাদের সাথে সম্পর্কযক্ত। ইহা সমাজতন্ত্রকে ভিন্ন মাত্রায় এমন কি বিকৃত মাত্রাই উপস্থাপন করে। এই তত্বের সমর্থকগন বুঝতেই পারেন না যে, প্রথম বিশ্বের সম্পদ ভান্ডার গড়ে উঠেছে তৃতীয় বিশ্বের শোষণ প্রক্রিয়ার উপর। যদিও সংশোধনবাদিরা সমাজতন্ত্রকে গ্রহন করেন প্রথম বিশ্ববাদের সাথে প্রতিযোগীতা করার জন্য, তাদের সম জিবন মানে উন্নিত হবার জন্য। কিন্তু যখন সমাজতন্ত্র ভোগবাদি সমাজের মত বিলাসিতার জিবন দিতে পারেনা তখন তাঁরাই আবার সমাজতন্ত্রকে দোশারূপ করেন। তখনই সংশোধনবাদিরা বলতে থাকেন যে, সমাজতন্ত্র কাজ করছে না, সাম্যবাদ ও অসম্ভব। আর তখনই সংশোধনবাদিরা উপসংহার টেনে বলছেন পুঁজিবাদ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করে মানব জীবনের মান উন্নয়ন ঘটানো যেতে পারে। লিডিং লাইট কমিউনিস্ট এই ধরনের সংশোধনবাদিতাকে প্রত্যাখান করে অত্যন্ত দৃড়ভাবে। লিডিং লাইট বলে আমাদের উদ্দ্বেশ্য কেবল মাত্র ধনিক সামাজের সাথে প্রতিযোগীতা করা নয়, বরং টেকসই ও উন্নত একটি ভিন্ন প্রকৃতির সমাজ বিনির্মান করা। যেখনে থাকবেনা কোন শোষণ ও অন্যায় এবং অসমতা। আমরা এই সমাজটাকে সম্পুর্ন নতুন ভাবে গড়বো।

৪. সংশোধনবাদিদের বিপরিতে সেই সময়কার মাওবাদিরা সাধারন জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। মাওবাদিরা জনগণের সৃজনশীলতা দিয়ে পুঁজিও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে চেয়ে ছিলেন। তখন ও আমজনতা বিপ্লবী বিজ্ঞান দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল চলমান সংকট নিরসনের জন্য। সেই সময়ে মহান মাও রাজনৈতিক বিকাশের প্রতি বিশেষ জোর দিচ্ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যথাযথ নেতৃত্বের মাধ্যমেই আমারা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। এর অর্থ হল, জনগণকে পরিচালনা করার মাধ্যমে সামাজিক দ্বন্দ্বকে অতিক্রম করা সম্ভব। ইহার মানেই হল শ্রেনি সংগ্রাম। ইহার অর্থ হল সামাজিক পরিক্ষা-নিরিক্ষা। ইহাই হল গণ- পথ। ইহার মানেই হল সমাজের নিচুতলা থেকে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো। ইহাকে আমারা সাধারন মানুষের গণ তন্ত্র বলতে পারি। প্রকৃত সাম্যবাদের পরিবেশ তৈরির জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব গণ সংগ্রাম ও গণ আন্দোলনকে বচে নিয়ে ছিল। সাম্যবাদের হাজার রাস্তা খোলে দিয়েছিল।

৫. মাওবাদিদের মতে বিপ্লব হল দুটি লাইনের উপর দিয়ে চলা একটি রেলগাড়ির মত।  শ্রেনি সংগ্রাম ও উৎপাদন শক্তির বিকাশ যেমন- প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। তবে, শ্রেনী সংগ্রাম হল মুখ্য বিষয়। আরো মুখ্য বিষয় হল সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন, ক্ষমতায়নের পুনর্গঠন । মহান মাও বলতেন, 'শ্রেনী সংগ্রামকে  কখন ও ভুলে যেও না।' মাওবাদিরা বিপ্লবী ছাত্র, শ্রমিক, এমন কি সৈনিকদের মাধ্যমে তাদের শ্রেনি সংগ্রাম কে ক্রমাগত ভাবে চালু রেখেছিল। কেননা এটাই যে নব্য বুর্জোয়া সামাজে অনুপ্রবেশের পথ। সমাজের গভীরে শ্রমিকদের বক্তব্য পৌঁছানোর জন্য তারা আকর্শনীয় প্রবন্দ্ব প্রচার, পোস্টার লাগানোর কাজ করেছিলো। মাওবাদিদের শিক্ষা প্রতিস্টান, ও কল কারখানায় ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। মাওবাদিরা সাধারনের মাঝে আহবান জানায় যে, “জন গণতন্ত্র কায়েম কর।” এবং সকলকে বিতর্কে অংশ গ্রহনের আহবান জানানো হয়।  মহান মাও শ্লোগান তুলেন,  “প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্বে রুখে দাঁড়াও।” মাও বলেন, “পার্টি হেড কোয়ার্টারে বোমা মারুন”।

৬. ১৯৬৬-১৯৬৮ সালে শ্রেনী সংগ্রামের অংশ হিসাবে খুবই নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় একটি বুঝা পড়া চলছিল । জন গণ আমলাতন্ত্র এবং প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে বিতারনের প্রক্রিয়া শুরু করে। তারা ক্ষমতা দখল ও নিম্ন পর্যায় থেকে সামাজিক স্বাধিনতার বিষয় টি নিশ্চত করে। বিপ্লবী ছাত্র, শ্রমজীবী, এবং সৈনিকেরা জেগে উঠে।  মহিলারা পিতৃতান্ত্রিক ব্যাবস্থার বিরুদ্বে রুখে দাঁড়ায়। তরুণরা প্রথমবারের মত রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করে।  সাধারন জনগণই দেশ গড়ার মুল নেতৃত্বে আসিন হন। লিন বাওয়ের গণ মুক্তি বাহিনী দেশে উন্নয়নের পথে এক নব ধারার শুভ সূচনা করে। সমাজে নতুন শক্তির আগমন ঘঠে।

 ৭. “মাওবাদিদের চিন্তা চেতনা” কে মাও আনেক উন্নত ও বিস্তৃত করেন । সাধারন মানুষ মাওসেতুং এর বানী আনুসরন করে নব্য পুঁজিবাদীদেরকে ও আমলাদেরকে বিতারন করে । তা অল্প সময়ের জন্য হলে ও সাধারন জনগণ মাওয়ের লাল বই দ্বারা সস্ত্র হয়ে উঠেছিলেন, তারা আমলাতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করতে পেরে ছিলেন। এই মহান সংগ্রামে মাওসেতুং এর কতৃর্ত্ব ও ব্যাক্তিগত অবস্থা বিপ্লবী বিজ্ঞান ও মাওবাদের সাথে মিশে গিয়ে ছিল। আর এটা সম্ভবত চিনের পরিবেশ ও পারিপার্শ্বকতার কারনে এড়িয়ে যাওয়া ও সম্ভব ছিলনা। তবে আমাদেরকে বাস্তবতার নিরিকে বিষয়টি বুঝে নিতে হবে।

৮. মাওবাদিদের প্রধান কাজ ছিল সৌভিয়েত উন্নয়ন ভাবনা ও প্রতিবিপ্লবের ধারনাকে ভেঙ্গে দেয়া। সৌভিয়েত উন্নয়ন ভাবনা ছিল প্রধানত শিল্প বিপ্লব সাধন করা। বিপ্লবিরা দুনিয়াকে তখন দেখেছিল যান্ত্রিক ভাবে। অনেকেই মেনে করতেন শিল্প বিপ্লব ঘটাতে পারলেই সামাজে শান্তি আর শান্তি নেমে আসবে। অনেকেই এও ভেবে বসেছিলেন যে, কেন্দিয় ভাবে পরিকল্পনার মাধ্যমেই সকল উন্নয়ন সাধিত হবে, যার লক্ষ্য হবে সম্পদের উন্নয়ন ও বৃদ্বি।  কিন্তু যখন এই আশা পুরন হলোনা, তখন তারা এই ব্যাবস্থা সম্পকেই প্রশ্ন তুললেন, তারা তার পেছনে কুটচক্র ও দালালির প্রশ্ন তুললেন । অন্যভাবে বললে, যখন সমস্যা তৈরি হলো, তারা তখন সমস্যাটি সটিকভাবে বিশ্লেষণে ব্যর্থ হলেন। বারং তারা উদুর পিণ্ডি বুদুর গারে চাপিয়ে বলতে থাকলেন যে, সচেতন ভাবে এই ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেয়া হচ্ছে। তাই তারা সমাধানের জন্য তিক্ত পথে এগোলেন। লিডিং লাইট এধরণের পদক্ষেপকে নিতিগত বিভান্তি বলেই মনে করে। মাওবাদিদের উদ্বোগ ছিলো এই ধরনের দৃষ্টি ভংগীর পরিবর্তন সাধন করা। তারা এই দৃষ্টি ভংগীকে পুরোমাত্রায় বদলাতে পারেন নাই। তারা দেখতে পেলেন সমাজতন্ত্র নিজেই সমস্যা সৃস্টি করছে। সমাজতন্ত্র নিজেই বুর্জোয়া তৈরি করছে। মাওবাদিরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখতে পেলেন যে, সমস্যা মুলত কাঠামোগত।

৯. মাওবাদিরা সমাজতন্ত্রের কাঠামোর ভেতরে লড়াইয়ের জন্য দুটি বিষয় নির্বাচন করলেন। তার একটি হলো  নিরন্ত্রভাবে অসম মজুরি আর অন্যটি হোল ক্ষমতার বৈষম্যের বিরোদ্বে সংগ্রাম করা। যদি ক্রমাগত ভাবে বৈষম্য না কমে, তবে তা বেড়ে যাবে, এবং পরিণতিতে নব্য বুর্জোয়ার সৃস্টি হবে। এবং তাঁরাই প্রতিক্রিয়াশীল হিসাবে প্রতিবিপ্লব ঘটাবে। তাই, সাংস্কৃতিক ভাবে মজুরি বৈষম্যের বিরুদ্বে, সুসমতার জন্য উপরি কাঠামোতে নিরন্ত্ররভাবে লড়াই চালাতে হবে। সমাজে প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি স্থান করে নিতে পারে, যদি প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতিকে অপসারন করা না হয়। ইহা ক্রমে সম্প্রসারিত ও সংক্রমিত হবে এবং বিপ্লবকে অন্ধকারে নিয়ে যাবে। ইহা সম্মিলিত সমাজের একটি ভড় ধরনের ক্যান্সার। বিপ্লব সর্বদা ইহার চিকিৎসা চালিয়ে যাবে।

১০. সংস্কৃতিকে সমাজের রোড ম্যাপ বলা হয়। হাজার বছর ধরে মানুষ ভেবে এসেছে যে, কেহ কেহ হবে ভালো, আর কেহ কেহ হবে খারাপ। ধনীরা গরিবদের চাইতে ভালো, পরুষগণ নারীদের চাইতে উত্তম। সাদারা কালোদের চাইতে উত্তম। প্রবীণরা তরুন্দের চেয়ে ভালো। এই ধারনা গুলোর পরিবর্তন করা রাতারাতি মোটেই সম্ভব নয়। গতানুগতিক ভাবে বলা হয় সকল মানুষই দুর্নীতি পরায়ণ। আমাদেরকে প্রথমেই সংস্কৃতিক নিরপেক্ষতা চালু করতে হবে। আমদের পক্ষে যখনই সম্ভব তখনই পুরাতনের জায়গায় নতুনকে প্রতিস্থাপন করব, আবার অনেক ক্ষেত্রে পুরাতন পদ্বতি ও নতুন সমাজ বিনির্মানে কাজে লাগাব। অধিকন্ত আমরা নতুন ব্যবস্থাকে ও গড়ে তুলব। যা হল বিপ্লবী সংস্কৃতি । যেখানে প্রলেতারিয়েতগণ অর্থনীতিকে ও সামাজিক রিতিনিতিকে নিয়ন্ত্রন করবেন। ইহাই হল নতুন ভাবে লিখা 'জনতাকে সেবা করুন'। ইহাই হল সামাজিক পুনর্গঠন। যা বিপ্লবকে স্থায়িত্ব দিবে এবং রাস্ট্র নামক উৎপীড়ক যন্তরটির মৃত্যু ঘটাবে।

১১. এই সামগ্রিক বিকল্প প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে সমতার নীতির বিকাশ ঘটেছে। একটি সাম্যবাদি নৈতিকতার উন্মেষ ঘটেছে যার সার্মম হলো “ জনগণকে সেবা করুন”। বস্তুগত প্রাপ্তি কমিয়ে আনা হবে এবং এক সময় তার আর প্রয়োজনই থাকবেনা। অবস্তুগত বিষয় যেমন – সুনাম সুখ্যতির বিষয় গুলো অগ্রাধিকার পাবে। “আত্মশুদ্বির জন্য নিজের বিরুদ্বে নিজের লড়াই” এই শ্লোগানটি জনপ্রীয় হয়ে উঠবে। মানব জিবন নিবেদিত হবে সমাজের প্রতি, আত্মকেন্দ্রিকতার প্রত নয়। জিবন নিবেদিত হবে গণতান্ত্রিক মুল্যবোধের প্রতি। পদ মর্যাদা, পদবীর ভিত্তিতে সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি থাকবে না। উদাহর হিসাবে আমরা মহান লিন বাওয়ের সেনাবাহিনীর পদ ও পদবী বিহিন সফল সৈনিকদের কথা বলতে পারি। মাওবাদিরা সাম্য ও সমতার  সমাজ তৈরির জন্য কর্মরত আছেন।

১২. আমাদের সমগ্র সমাজটাই হবে একটি মহা বিদ্যালয় যা বিপ্লবী বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেবার জন্য সবিশেষ ভুমিকা রাখবে। সামাজিক প্রক্রিটিই এমন হবে যেখানে মানুষ নিজেই দক্ষ ও পরিপক্ষ হয়ে উঠবেন যাতে তারা পদপদবি চাড়াই সমাজ পরিচালনায় সক্ষম হবেন। সমাজটি একটি বৃহৎ সামাজিক পরীক্ষাগার হিসাবে পরিগণিত হবে। মাওবাদিরা সমাজ থেকে শারিরীক ও মানুসিক শ্রম বিভাজন বিদুরিত করবেন। গ্রাম ও শহরের পার্থক্য দুর করা হবে। তত্ব ও কর্মের কোন পার্থক্য থাকবেনা। যারা পরিচালনা গত কাজ করবেন তাদেরকেও জমিতে এবং কারখানায় কাজ করতে হবে। এতে তারা বাস্তব সম্মত জ্ঞান অবিজ্ঞতা অর্জন করবেন।

১৩. সাংস্কৃতিক বিপ্লব আমাদের সামনে অনেক দুর্বলতা তুলে ধরেছে। যেমন ধারনা করা হত উচু পর্যায়ের লোকেরা বোধ হয় সকল সময়ই অগ্রগামী বাহিনী। কিন্তু প্রমানিত হলো তারা ও নানা দুষে দুষ্ট হয়ে থাকেন।অগ্রনী বাহিনী বিপ্লবের সময় সমাজ পরিবর্তনে ও কাঠামোগত পরিবর্তনে ভুমিকা রাখতে পারেন। তারা একটি আদর্শগত গ্রুপকে একটি গণ সংঠনে রূপান্তর করতে ও একটি সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে পারেন। অন্য ভাবে বললে, তারা একটি দ্রুপদি দল ও আগ্রবাহিনির পার্থক্য নিরূপণ করতে পারেন। অগ্রবাহিনিই হলো সত্যিকার কমিউনিস্ট পার্টি। তবে এই কমিউনিস্ট পার্টি যে সব সময় সঠিক পথেই থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই, মাওবাদিরা বিপ্লবী নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি ডাইন্যামিক ধারনার অবতারনা করতে চায়। এই ধারনাটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সৌভিয়েত ধারনা থেকে ভিন্নতর।


উক্ত ১৩ টি বিষয়ই শেষ নয়। এই গুলো হলো কিছু মৌলিক দিক। আপনার মত আন্যন্য কমরেডদেরকে ও এই বিষয় গুলো জানতে দিন। তবে, আমরা পুরাতন বিষয় গুলো আবার ফিরিয়ে আনতে চাই না। আমাদেরকে ও বৈজ্ঞানিক হয়ে উঠতে হবে। আমাদেরকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মাওবাদিদের বিপ্লব ছিলো অতি গৌরবের একটি বিষয়। ইহা সমগ্র দুনিয়াকে নাড়া দিয়েছে।তবে, এর আগেও বিপ্লবের একটি  ডেউ উঠেছিল। তা এখন বিলিয়মান। অতীতকে সার সংক্ষেপ করুন। সেখান থেকে নতুন ভাবে লিডিং লাইট গড়ে তুলুন। আমরা অতীতের চেয়ে আরো আনেক অনেক ভালো করব। লিডিং লাইটের বিপ্লব অতীতের চাইতে উন্নত হবে। আগামী দিন গুলো আমাদের । ভবিষ্যৎ আমাদেরই । একে এম শিহাব। 

মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৩

সাভার, বাংলাদেশ ট্রাজেডিঃ শত শত শ্রমিকের মৃত্য।

(llcobangla.org)



সাভার গার্মেন্টস দুর্গটনায় এপর্যন্ত মৃত্যর সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় ছয় শতে তা আরো বাড়তে পারে। ওখানে প্রায় ৫০০০হাজার শ্রমিক কাজ করছিল বলে খবরে বলা হয়েছে। ধ্বসে পরা ভবনটিতে বেশ কয়েকটি কারখানা ছিল। এখনো বহু মানুষের লাশ নিখোঁজ রয়েছে।

 একজন উদ্বার হওয়া মানুষ প্রথম দিনই বলেছিল, " ভেতরে অনেক লোক বেঁচে আছেন, তাদের অনেকেই নিরাপদ, চাঁদ ও দেয়াল গুলো কেটে তাদের কে বেড় করুন।”

যাদেরকে সময় মত বেড় করা যায়নি তাদের অনেকেই পানি শূন্যতা, অতি গরম, এবং খাবার না পেয়ে মারা গেছেন।ইতিমধ্যে অনেকেই উদ্বার হয়ছেন, শক্রবার উদ্বর হওয়া একজন মহিলা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন,

 " প্রথমেই একটি মেশিন আমার হাতের উপর এসে পড়ে,আমার হাত ভেঙ্গে যায়, তাঁর পরই চাদ ভেঙ্গে পড়ে।
 সেই মাহিলাটি উদ্বার পেয়েছেন তাঁর হাত কেটে।”

মানুষের হ্রদয় ভাঙ্গা ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে বাংলাদেশে। মানুষ বুঝতে পারছে বাংলার মানুষ বিশ্ব পুঁজিবাদের জন্য কি পরিমান মুল্য দিচ্ছে।


প্রতিক্রিয়া ঃ

পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী উদ্বার কাজে নিয়োজিত আছেন, তারা সেখানে বিড় করা শ্রমিকদের আত্মীয় সজনদেরকে ঘটনা স্থল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। সৈনিকেরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখছেন। উদ্বার কালে একজন আত্মীয়, নাম সামছুর রহমান যিনি তাঁর মাতাকে হাড়িয়েছেন, তিনি বলেছিলেন,

 " আমাকে ভেতরে যেতে দিন, আমি আমার মা কে উদ্বারের জন্য মরে যাব।”

 ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া শ্রমিকগন আগুনের মত জ্বলে উঠেছে, তারা শ্লোগান দিচ্ছেন,

" আমরা গার্মেন্টস মালিকদের ফাঁসি চাই”।

হাজার হাজার শ্রমিক বিভিন্ন জেলায় তাদের প্রতি  মালিকদের অমানবিক আচরণ, ও বিপদজনক কর্ম পরিবেশ বন্দ্ব করতে দাবি জানাচ্ছে। সরকার দালান আইন, শিল্প আইন ও নানা প্রকার বিধি বিধান ভংগের দায়ে গার্মেন্টস মালিক ও ভবন মালিককে ইতিমধ্যে আটক করেছে। একজন প্রকৌশলী বলেছেন, রানা প্লাজা আইনত পাঁচ তলা পর্যন্ত নির্মানের অনুমতি পেয়েছিল কিন্তু সেই ভবন বেআইনি ভাবে নবম তলা পর্যন্ত উন্নিত করে ফেলে। তিনি আরো বলেন যে, তাকে বার বার সতর্ক করার পর ও এতে কান দেয়নি। মাত্র গতকাল ভবনে ফাটলের জন্য তা খালি করে দেয়া হয়, কিন্তু মালিক তা পুনরায় খুলে দেয়।




প্রকৃত সমস্যা হলো পজিবাদঃ

এই ধরনের বিপর্যয় বাংলাদেশে মোটেই নতুন কোন বিষয় নয়। এখানে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ঘটেছে মানুষের মূল্যের উপর। বিগত শতক থেকেই বাংলাদেশে দ্রুত গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। ইহা ২০১১ সালের হিসাব মতে, পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানি কারক দেশ । বর্তমানে বাংলাদেশে ৪,৫০০ গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। চীনের পরই কাপড় রপ্তানি কারক দেশ। ২০০৫ সালে ও এই রকম ভাবে একটি গার্মেন্টস কারখানা ধ্বসে পড়েছিল, তখন ও মারা গিয়ে ছিলো ৭০ জন শ্রমিক। এবং গত বছর ২৫ শে নভেম্বর মালিক কতৃক সৃষ্ট ফাঁদে পড়ে প্রায় ১২০ জন শ্রমিক নির্মম আগুনে পুড়ে মারা যায়। বাংলাদেশে শ্রমিকরা মারাত্মক ভাবে অবহেলিত। প্রথাম বিশ্বে এই ধরনের ঘটনার কথা চিন্তা ও করা যায় না। যদিও তৃতীয় বিশ্বে প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টায় অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করার কারনে অগণিত শ্রমিক প্রান দিচ্ছেন। সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করতে হয় এই ঘটনা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশে মাসিক বেতন এখন ও মাত্র ৩০০০/- টাকার ও কম। আন্যদিকে মার্কিন মুল্লুকে একজন শ্রমিক প্রতি ঘন্টায় আয় করেন ৫৭০/-টাকা। অনেক যায়গায় যেমন ওয়াশিংটন রাজ্যে প্রতি ঘন্টায় একজন শ্রমিক কমপক্ষে আয় করেন প্রায় ৮০০/- টাকা। অনেক ক্ষেত্রেই মার্কিন শ্রমিকগন এর চেয়ে বেশি আয় করে থাকেন। বাংলাদেশের একজন শ্রমিক একমাসে যা আয় করেন মার্কিন শ্রমিকরা প্রতিদিন তাঁর চেয়ে ও বেশি রোজগার করে থাকেন। শ্রমিকদের এই আয়ের অসমতা এবং ভবন ধ্বস, আগুনে পুড়ে মড়া আমাদের সামনে এক মহা সংকট এবং সমস্যার ইংগিত দেয়। সরকার গার্মেন্টস মালিক ও ভবন মালিককে গ্রেফতার করেছে। প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করেছে। বাস্তব সত্য হল বাংলাদেশের এইসমস্যা গুলো কেবল মাত্র মালিক ও প্রকৌশলী দায়ী নয় বরং সত্যিকার ভাবে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা দরকার তা যেন কোনভাবেই প্রহসনে পরিণত না হয়্য,এবং প্রকৃত সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। তা অন্যান্য তৃতীয় বিশ্বের দেশের মত বাংলাদেশের অবস্থা আলাদা কোন বিষয় নয়। প্রথম বিশ্বের আরাম আয়শের জন্য অন্যান্য তৃতীয় বিশ্বের মত বাংলাদেশ ও কাজ করছে। বাংলাদেশে তৈরি ফ্যাশনের পোশাক পরিধান করে প্রথম বিশের মানুষ। ধসে যাওয়া ভবনে যে সকল পোশাক কার খানা ছিল তা হল, প্যন্টম আপেলস, প্যন্টম টেক, আর্থ টেক, নিউ ওয়েব বটমস। যেখান থেকে তৈরি হয় মিলিয়ন মিলিয়ন সর্টস, সার্টস, পেন্টস ইত্যাদি। ব্রিটেন প্রিমার্ক ও এই রানা প্লাজায়  কাপড় তৈরী করেছে। অয়াল মার্ট হল মাবেরিকার সবচেয়ে বড় ও বিশাল পোশাক আমদানি কারক প্রতিস্টান। এই ওয়াল মার্ট ও এখানে তাদের বিশাল বিনিয়োগ করেছে। তৃতীয় বিশ্বের নানাহ যায়গায় অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে শ্রমিক শ্রেনির মানুষেরা কাজ করে বেঁচে থাকার জন্য, বাংলাদেশের অবস্থা ও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রথম বিশ্বের মানুষের ফ্যশন্যাবল জিবন ততদিন পর্যন্ত টিকে থাকবে যতদিন তারা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের শ্রমশক্তিকে শোষণ করতে পারবে। আর তত দিন তৃতীয় বিশ্বের মানুষ ও নানা ভাবে কষ্ট করবে ।


  অমানবিক কর্ম পরিবেশ তৃতীয় বিশ্বেও বাংলাদেশে সম ভাবে বিরাজ করছে। মিলিয়ন মিলিয়ন শ্রমশক্তিকে একই পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে। এই মহা সমস্যাটির সমাধান কেবল মাত্র মালিকদেরকে শাস্তি দিয়ে সম্ভব নয়, বরং সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়াটিকে পরিবর্তন করা একান্ত প্রয়োজন। যেন এইরূপ ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এটার সমাধান হল, পুঁজিবাদের ও সাম্রাজ্যবাদের বিনাশ সাধন করে সমাজতন্ত্র কায়েম করা দরকার। সাধারন গ্রফতার আর আটক করে আমরা তাঁর সমাধান করতে পারব না। কেবল নষ্ট পুজিবাদিদেরকে শাস্তি দিলেই তাঁর সমাধান হয়ে যাবেনা। পুঁজিবাদের সংস্কার করে ও তাঁর সমাধান সম্ভব নয়। এরূপ দুর্ঘটনা, অমানবিক কর্ম পরিবেশ, দারিদ্রতা বহাল তবিয়তে থাকবে যত দিন পজিবাদ টিকে থাকবে, এবং বৈশ্বিক ব্যবধান বহাল থাকবে। আমাদের বিপ্লব প্রয়োজন। আমাদের লিডিং লাইট কমিউনিস্ট বিপ্লব দরকার, যা সকল প্রকার নিপিড়নের সৃংখল ভেংগে দিবে। কোন মানুষই মুক্ত হতে পারবে না যত সময় পর্যন্ত সকল মানুষ কে মুক্ত করা না যাবে। আমাদেরকে বিপ্লবী বিজ্ঞান সহ একটি সুশৃংখল বিপ্লবী বাহিনি গড়ে তুলা দরকার। লিডিং লাইট কমিউনিস্ট। নতুন শক্তি গড়ে তুলুন। সকল শক্তি দুনিয়ার সকল গরিব মানুষের জন্য। লিডিং লাইট কমিউনিস্ট সংগঠন গড়ে তুলুন। লিডিং লাইট অনুসরণ করুন। লিডিং লাইট হয়ে উঠুন। একেএম শিহাব।


রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৩

মে দিবস


(llcobangla.org)

১ লা মে, মে দিবস,দুনিয়ার সব মানুষ সব জায়গায় এখন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে পালন করে। এটা সত্য যে এই দিনটি আমেরিকায় তেমন গুরুত্ত্ব সহকারে পালন করা হয় না। অথচ এর জন্মস্থান হোল এই আমেরিকা। ১৮৮৬ সালে শিকাগুর হে মার্কেটে শ্রমিকদের প্রান দানের বেতর দিয়েই এই দিবসের সূচনা হয়। ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকদের একটি সাধারন ধর্মঘট চলছিল আচমকা একজন অজ্ঞাত ব্যাক্তি একটি বোমা ছুড়ে মারে এবং পলিশ তখন গুলি করলে বহু শ্রমিক মারা যায় ।

 তখন বেশ কিছু পুলিশ ও মারা গিয়েছিল। ১৮৮৯ সালের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম অধিবেশনে রেম্নদ লিভিং, ১৮৯০ সালে শিকাগু দিবসের প্রতিবাদে  মে দিবস পালনের আহবান জানায়। ১৮৯১ সালের দ্বিতীয় আধিবেশনে সারা দুনিয়ায় আনুস্টানিক ভাবে শ্রমিক দিবস হিসাবে ১ লা মে পালনের সিদ্বান্ত গ্রহন করা হয়। মে দিবস এখন ও বহু দেশে পালন করা হয়। সমাজতান্ত্রিক যুগে পৃথিবির সর্ব্বৃহত্তর অফিসিয়াল ছুটির দিন হিসাবে পালিত হত।

 আমেরিকা মে দিবস টিকে ভিন্নখতে প্রভাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা দিনটি পাল্টে ১ লা মে র পরির্বতে সেপ্টেম্বর মাসের ১ম সোমবার মজুর দিবস পালন করে। তারা বিপ্লবী শ্রমিক দিবসের পরির্বতে বিকল্প মজুর দিবস চালু করেছে। তাদের এই মজুর দিবসটি আমেরিকার প্রধান প্রধান রিভিশনিস্ট শ্রমিক সংগঠন গুলো ও গ্রহন করেছে। তারা এটাকে উপাধি ও পুরস্কার প্রাপ্তির দিবসে পরিণত করেছে। ১৮৮৭ সালে সালেই সংস্কারবাদি ক্লিল্যান্ডের  প্রেসিডেন্ট গ্রুভার মে দিবসকে মজুর দিবসে পরিণত করেছিল। এছাড়া ও পৃথিবীর বহুদেশের ফ্যাসিস্ট ও প্রতিক্রিয়াশীল রাস্ট্র প্রধানগণ মে দিবস পালন করতেই দেয়নি উপরন্ত তাদের কুকুরদেরকে শ্রমিকদের উপর লেলিয়ে দিয়েছে। এমনকি মে দিবসের চেতনা যেন সম্প্রসারিত না হয় তাঁর জন্য তারা শ্রমিকদের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রভাহিত করতে প্রচেস্টা করেছে। বিশেষ করে আমেরিকা বিশ্ব শ্রমিক আন্দোলনের বিনাশ সাধনে প্রানান্তকর চেষ্টা করেছে।

 মার্কিন মুল্লুকে সাম্রাজ্যবাদের বিকাশের সাথে সাথে সেখান কার শ্রমিকদের ও জীবন যাত্রার মান ও বাড়তে থাকে। এবং তাদের মন মানসিকতায় ও আসে ব্যাপক পরিবর্তন। তারা বিপ্লবী হওয়ার  পরিবর্তে সংস্কারবাদি হয়ে উঠে। সকল প্রকার অর্থনৈতিক ভার খাটা খটুনির দায় ছপিয়ে দেয় তৃতীয় বিশ্বের মানুষের উপর। প্রথম বিশ্বের সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা নির্ভর করছে তৃতীয় বিশ্বের উপর, তাদের শোষণ ও নিপিড়নের মাত্রার উপর । তাই আমেরিকার শ্রমিকদের নিকট আজ আর মে দিবস পালনের তেমন কোন গুরুত্ব বহন করেনা। কেন না তারা ও এখন ধনিকিকরন প্রক্রিয়ার অংশ। মে দিবস এখন তাদের কাছে স্রফ একটি ছুটির দিন, আর বাম সংস্কারবাদিদের কাছে এটা একটা অতীতের রোমাঞ্চকর দিন। তবে, বিগত কয়েক বছর ধরে অভিবাসিরা মে দিবসটি বেশ ঘটা করেই পালন করছে। মে দিবসকে যদি ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে তবু আমরা দেখছি যে, ২০১১ সালে ওকুপাই আন্দোলনের মাধ্যমে মে দিবস আবার তাঁর মুল চেতনায় ফিরে এসেছিল। তাঁর পথ ধরে ইউরূপের কিছু দেশে শ্রমিক আন্দোলন বিকশিত হচ্ছে। যদিও এই ধরনের আন্দোলনকে লিডিং লাইট কেবল মাত্রকর্মী সংগ্রহ, সংঘটিত করন, ও আদর্শ প্রচারের কাজে ব্যবহার করে থাকে। তা কখনও বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে না। প্রকৃত সত্য হলো মার্কিনিরা সমাজতান্ত্রিক বা কমিউনিস্ট বিপ্লব চায় না। এখন প্রথম বিশ্বে বিপ্লবী পরিস্থিতি বিরাজ করছেনা। বিশেষ করে অ্যামেরিকায়।


আমেরিকার শ্রমিক শ্রেনি এখন আর তৃতিয়বিশ্বের প্রলেতারিয়েত শ্রেনির সাথে ঐক্যব্দদ্ব হতে চায় না। তাদের মাঝে এখন শ্রেনি চেতনা কাজ করে না। প্রথম বিশ্বের শ্রমিকরা এখন তৃতিয়বিশ্বের শ্রমিকদের তুলনায় আর্থিক ও মর্যাদায় বহু দূরে অবস্থান করছে। তৃতিয়বিশ্ব থেকে আসা কিছু কৃষক, শ্রমিক ও কতিপয় লুম্পেন ওকুপাই আন্দোলন করেল ও তা বিপ্লবী শক্তি হিসাবে খুবই দুর্বল। আমরা আসছে ১ লা মে ২০১৩ কে স্বাগত জানাই। আশাকরি এবার ও বাংলাদেশ সহ সারা দুনিয়ার বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের শ্রমিকগন তাদের রাজ কায়েমের আন্দোলন কে এগিয়ে নিবে। এবং তৃতিয়বিশ্ব প্রথম বিশ্বের সাথে বুঝা পরা করতে প্রস্তুত হবে। সাম্রাজ্যবাদের ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্বে রুখে দাঁড়াবে। সাম্রাজ্যবাদের দোষর সকল মৌলবাদী শক্তিকে নির্মুল করার জন্য জোড় কদমে এগিয়ে যাবে। এ কে এম শিহাব।

শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৩

সামাজিক কারখানা বিনির্মান বিষয়ক চিন্তাভাবনা


 
(llcobangla.org)

এন্থনি নাগ্রি একজন প্রথমবিশ্ববাদি মানুষ, তিনি এয়ম্পায়ার লিখে  ঢেঁড় সুনাম কুড়িয়েছেন। তবে আর ও লিখেছেন....তাঁর লিখা সামাজিক কারখানা তত্ত্ব লিখে ও তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। এন্থনি নাগ্রির মতে, পুজিবাদের বিকাশের জন্য তিনটি স্তর রয়েছে । এবং এই তিনটি স্তরের সাথে সাথে তিন ধরনের শ্রমিক ও রয়েছেন। প্রথমতঃ পেশাদারী শ্রমিক, উনবিংশ শতাব্দী মাঝা মাঝিতে  প্রথম বিশ্ব যুদ্বের পর পরই তাদের আবির্ভাব ঘটে।দ্বিতীয় শ্রেনীর শ্রমিক হলো  সাধারন শ্রমিক তারাই মুলতঃ শ্রমিক শ্রেনী, ১৯১৮ সাল থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত তাদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্বি পায়। আর তৃতীয় শ্রেনির শ্রমিক হলেন সমাজ ভিত্তিক শ্রমিক। এই তত্তের অংশানুসারে সামাজিক কর্মিদের যুগে উৎপাদিত পন্য সমাজের সর্বস্তরে বিলি হোয়ে যায়। এসকল পন্য আর পুঞ্জিভুত হোয়ে থাকে না। তা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পরে। সমাজের সকল কর্মকান্ডই এর সাথে মিশ্রত হয়ে যায়। উৎপাদিত পন্য গুলো এখন আর সমাজের অন্যান্য কর্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে না। তাই এখন সকল কারখানাই সামাজিক কারখান হিসাবে পরিগণিত। শ্রম শক্তি এবং পুজিবাদি নির্দেশনা সমাজের সর্বস্তরে বিরাজিত, সমাজকে এখন দেখা হয় একটি একক ও  বৃহৎ কর্মযজ্ঞের ও উৎপাদনের হাতিয়ার হিসাবে। উদ্ববৃত্ত মুল্য  শোষণ এখন আর কেবল মাত্র একটি চার দেয়ালের কারখানাতে সিমাবদ্ব নেই। বরং পুজিবাদের উৎপাদিত প্রতিটি পন্য  সঞ্চালনের মাধ্যমে উদ্ববৃত্তমূল্য শোষণের প্রক্রিয়া মানব জীবনের প্রতিটি পদে পদে সম্প্রসারিত হয়েছে । পুঁজিবাদ তাঁর প্রকৃত রূপে আজ সকলের সামনে প্রতিভাত হছে। তাই এটা আজ কেবল  উদ্ববৃত্তমূল্যই শোষণ করছে না, তা মানুষের সময় ও শোষণ করছে পুরা মাত্রায়। এই দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখলে আমরা দেখতে পাব যে, আজ পুঁজিবাদ, প্রথমবিশ্ব আমাদের সকলের উপরই কোন না কোন ভাবে প্রভুত্ত্ব করছে । এবং বিনা বাঁধায় শোষণ পক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের দৃষ্টি ভঙ্গি ও মার্ক্সীয় শ্রেনীবিভাগকে আজ আর ও বিন্যাস করা দরকার। এখন  ভৌগলিক ভাবে কোন প্রকার উৎপাদন বিচ্ছিন্ন থাকে না। পুরো মানব সমাজটাই একটি কারখানা। বস্তুগত  এবং অবস্তুগত শ্রম সহ সকল কিছুই সামাজিক কারখানায় নিয়োজিত । আর সেই ভাবেই সমাজের উপরি কাঠামো ও ঘড়ে উঠছে। এই হলো সামাজিক কারখানা তত্ত্ব সম্পর্কে একটি সাধারন বয়ান।

এই তত্ত্বের অন্য একটি দিক হলো যে, সেখানে প্রলেতারিয়েত ও বুর্যোয়াদের মাঝে তেমন পাথর্ক্য দেখা যায় না। নাগ্রির ভাষ্য মতে, “প্রলেতারিয়েত সর্বত্র, এমন কি,যেমন  থাকে মালিক"। সেখানে কোন স্থায়ী পার্থক্য দেখা যায় না। সুইজারল্যান্ডের অবস্তুগত মেহেনতি মানুষের উৎপাদনশীল কাজ কর্মও উৎপাদনে ভুমিকা রাখে। সেখানে মালিক ও শ্রমিক মানুষের মাঝে বেদাভেদ রেখা টানা যায় না। যদি ও এই সূত্র মতে, মানুষ প্রতি নিয়ত সব জায়গায় এবং একদলীয় তথাকতিথ সমাজতান্ত্রিক দেশে ও সমান তালে সামাজিক কারখানার আওতায় শোষিত হচ্ছে।  এখানে সামাজিক কারখানার তত্ত্বটির ব্যবচ্ছেদ করে ভিন্ন আর একটি নতুন ডাইমেনশন এনেছেন মার্কুইজ তত্ত্ব। তাঁর তত্ত্ব হল ক্ষমতা কাঠামোর তত্ত্ব। মানব জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে যান্ত্রিক উৎপাদন নিজের জায়গা করে নিচ্ছে । কিন্তু এসকল নিয়ন্ত্রন হয় একটি শোষণকারীর মানসিকতা নিয়ে। এই জবরদস্তি মূলক কাজ গোলো যারা করেন তাদের বেশীর ভাগই শাসক শ্রেনীর বাইরের লোক। এবং একনায়কত্মের ছায়া সরকার হিসাবে বিরাজিত আছে। প্রকৃত বিশ্লেষণে প্রলেতারিয়েত বুর্যোয়াদের সকল কর্মকান্ড মোকাবেলা করে ঠিকে আছে। মানবতা আজ এক কায়াহিন ছায়ার  মত এক ভুতের মুখোমুখী দাঁড়িয়ে আছে। -এই দৃষ্টি ভংগীর মাঝে প্রধানত দইটি সমস্যা আছে। যেমন- প্রথম সমস্যা হলো সামাজিক কারখানার তত্ত্ব বাস্তবতা বিবর্জিত। দ্বিতিয়তঃ কারখানা তত্ত্বটি ব্যাখ্যা মূলক নয়। পরিস্কার করে বললে, ইহা বিজ্ঞান বিত্তক নয়। আর সেই কারনেই এর উপর ভিত্তি করে কোন প্রকার কাযর্ক্রম হাতে নেয়া সম্ভব নয়।

তা হলে বাস্তবতা কি ?
সামাজিক কারখনা সম্পর্কে সঠিক তত্ত্বটাই বা কি ? যেখানে এটা দৃশ্যমান যে প্রথমবিশ্বে আগের  তুলনায় এখন উৎপাদনের ধরন ও প্রকৃতি পাল্টে গেছে অনেক। এটা স্বীকার করতেই হবে যে একসময় প্রথম বিশ্বের উৎপাদন ব্যাবস্থা যেরূপ ছিল বতর্মানে সেই রূপ নেই। কারখানা এখন আর প্রথমবিশ্বের মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রন করেনা। প্রকৃত সত্যি হলো যে,  প্রথম বিশ্বে এখন একটি নগ্ন সংখ্যক মানুষ কারখানায় কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করে। এর ছেয়ে আনেক অনেক বেশী লোক কাজ করে ব্যবস্থাপনায়,সেবায়, ও বিতরন প্রক্রিয়ায়। আর এ বিষয়টি কার্ল মার্ক্সের ভাষায় বনর্না করলে দাঁড়ায়, উৎপাদন কার্যে শ্রমিকদের অংশগ্রহনের হার কম। উৎপাদনে জড়িত শ্রমিকরাই প্রকৃত শ্রমিক। তারাই সামাজিক মোট উৎপাদনে সম্পদ যুক্ত করে। আমরা এই অবস্থা কে বলতে পারি প্রথমবিশ্বের শপিংমল অর্থনিতি। প্রথমবিশ্বের বেশির ভাগ অর্থনিতিই এখন ব্যপক ভাবে মল অর্থনিতির উপর নির্ভশিল হয়ে পরেছে। মলে কোন কিছুই উৎপাদন হয় না। এখন লোকজন কাজ করছেন ব্যবস্থাপনায়, পরিবহনে,বিতরনে ও নিরাপত্থায় ইত্যদি পেশায়। পন্য তৈরি হয় বিভিন্ন স্তানে কিন্তু বিক্রি হয় মলে। পন্য আসে বাহির থেকে আর তা বিক্রি হয় শপিং মলে। পন্যে উৎপাদন বাহিরে, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে আর রম রমাবিক্রি হয় প্রথম বিশ্বে। এই সকল পন্যের ক্রয়- বিক্রয়ের কোন ন্যায় সঙ্গত আদান প্রধান হয় না। একটি তৃতীয় পক্ষ মাঝ খান থেকে মধ্যসত্ত্ব ভোগীরা মোতা অংকের মুনাফা হাতিয়ে নেয়। এই সকল পন্য সামগ্রি শপিং মল গুলোকে চালু রাখে, আর সেই শপিং মল গুলো প্রথমবিশ্বের রম রমা ভাব বজায় রাখছে এবং সাম্রাজ্যবাদ বহাল তবিয়তে ঠিকে আছে।  এখন কার দুনিয়ায় এটা পরিস্কার যে, আজকের বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রথমবিশ্বের মানুষ তৃতীয় বিশ্বের মানুষের শ্রম ও ঘামের উপর বেঁচে আছে। প্রথমবিশ্বের অনুৎপাদনশিল শ্রম শক্তি এখন তৃতীয় বিশ্বের উৎপাদনশীল শ্রমিকের উপর ভর করছে। মার্ক্স দেখেছিলেন যে, কেবল মাত্র উৎপাদন শীল শ্রম শক্তিকেই একশ্রেনির মানুষ শোষণ করছে। আজকের প্রথম বিশ্বের যে পরিস্তিতি তা তখন ছিলনা। এর অর্থ হল তখন শপিং মল অর্থনীতি ছিলনা।


প্রথমবিশ্বের শ্রমিক শ্রমিক শ্রেনি এখন দেখছ যে, তাদের আয় বেড়েছে, জিবন যাত্রার মান বেড়েছে, আন্নদ-ফুর্তির সময় বেড়েছে, জিবনে বিচিত্রতা এসেছে, দরকার হলে মোটা অংকের লগ্নি করতে পারছে ইত্যাদি। এসব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কারনে প্রথমবিশ্বের শ্রমিক শ্রেনি আর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত নয়। তাই লিডিং লাইট কমিউনিস্ট অর্গানাইজেশন সঠিক ভাবেই উপসঙ্গহারে পৌছেছে যে, প্রথমবিশ্বের শ্রমিক শ্রেনি এখন আর বিপ্লবের বিষয় বস্তু নয়। মহান মার্ক্স যেমন টি বলেছিলেন, " শ্রমিক শ্রেনীর শৃংখল ছাড়া আর হারাবার কিছু নেই”। প্রকৃত সত্য হলো, প্রথমবিশ্বের শ্রমিক শ্রেনী আর সেরকম নেই, বিপ্লবী মানসিকতা ও নেই, কোন প্রলেতারিয়েত ও নেই প্রথমবিশ্বে ।
সম মানসিকতার মানুষের সমাহার ঘটেছে এই সমাজে, কারখানা তত্ত্ব ইহা ব্যাখ্যা করতে পারে না। যদি ও এটা প্রথমবিশ্বে ঘটেছে, এবং একই পরিবেশে ঘটেছে বিধায় তাদের মাঝে কোন প্রকার শ্রেনীবিরোধ বা স্বার্থগত বিরোধ দেখা দিচ্ছে না। যদি ও কেহ বিপ্লবী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে চায় তবে সাধারন জনগন ও সচেতন ভাবে তাঁর বিরোধীতা মত্ত্ব হয়। এঙ্গগেলস এই প্রক্রিয়াকে সমগ্র দেশ ব্যপী বুর্জোয়া করন বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রথমবিশ্বের শ্রমিক শ্রনি এখন বিশ্ব বুর্জোয়া সমাজেরই অংশ । প্রথমবিশ্বে এখন তাদের মাঝে বিরোধের মাত্রা এমনভাবে কমে গেছে যে, তা দেকে একজন লিখক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা লিখেছে, বিরোধের ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। একই ভাবে একজন সমালোচক রির্চারড ররতি মন্তব্য করেছেন, আমারা স্বাধীনতার যুগে, আধুনিকতা উত্তর যুগে পৌছে গেছি। প্রথমবিশ্বে এখন কেবল মাত্র গনতন্ত্র চর্চা করলেই হবে।  বৈচিত্রময় জিবন যাত্রা আজ প্রথবিশ্ব প্রান ভরে উপভোগ করছে আর তা সম্ভব হছে তৃতীয় বিশ্বের নারী পুরুষের রক্তে ও ঘামে।



আগাম বার্তা,    ব্যাখ্যা  ও কার্যপদ্বতিঃ

পুঁজিবাদী ব্যবস্থাপনায় আমরা দেখতে পাই ইহা নিজেই নিজের নিমার্মাতা ইহা কোন দৈব চক্র নয়। বৈজ্ঞানিক কর্ম কৌশল হলো, একে সমগ্র ব্যবস্থাপনার পরিধি থেকে আড়াল করে দেয়া, আর তা সম্ভব হলেই সমাজিক পরিবতর্নের আশা করা যায়। বিজ্ঞান চলমান প্রক্রিয়াকে এমন ভাবে সাজাবে যাতে মানব কর্মে পজিবাদি ব্যবস্থাপনার কোন রেশ ও না থাকে। বিজ্ঞান পজিবাদকে উপরিঠামর ভিত্তি থেকে তিরহিত করে দিবে। বিজ্ঞান শোষণ প্রক্রিয়াকে ও অন্যান্য নিপিড়ন মূলক কর্মকান্ডকে দূরীভূত করে দিবে। বিজ্ঞান সকল কর্মকান্ডই ঢেলে সজাবে যেন কোথাও নিপিড়নের লেশমাত্র ও না থাকে এমন কি কোন পরিবারে ও নিপিড়নের অবশেষ থাকবেন। বিজ্ঞান তাঁর পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁর বনর্না দিবে। মোট কথা হোল, বিজ্ঞান লোক সংখ্যা ভিত্তিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে। বিজ্ঞান শোষণ ও নিপিড়নের ব্যাখ্যা গাণিতিক ভাবে উপস্থাপন করে থাকে, যেমন অসমতার ও অপবিতরনের মাত্রা ইত্যাদি। বিজ্ঞান ন্যায় বিচার ও সঠিক ভাবে সম্পদের বিতরণের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চরম পন্থা গ্রহন করবে। আর এ গুলোই হলো বিপ্লবী বিজ্ঞানের প্রান, লিডিং লাইট কমিউনিজম। মার্ক্স যখন মানুষের চাহিদার শ্রেনী করন করেন তখন সমাজিক কারখানা তত্ত্ব  কোন উত্তর দিতে পারে না। যদি ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞান বিত্তিক হয়ে থাকে তবে কারখানা তত্ত্বটি একটি প্রহেলিকায় পযর্ভুশিত হয়েছে। ইহা বিজ্ঞান ভিত্তক তত্ত্ব নয়। বিজ্ঞান ভিত্ত্বিক শব্দ মালা হলো যেমন, শোষণ, উতপাদন,শ্রম, নিপিড়ন, এমন কি প্রলেতারিয়েত, ইত্যদি এই তত্বে এসে এগুলোর অর্থ ঝাপ্সা হয়ে গেছে। নিপিড়িত সমাজের সামনে মাও যে প্রশ্ন তুলেছিলেন “আমাদের শত্রু কে?" তাঁর জবাব ও এই কারখানা তত্তেও নেই। বা “ কে আমাদের বন্দ্বু?" সেই প্রশ্নের ও উত্তর নেই। কারখানা তত্ত্ব অনুসারে, এবং সেই রুপ আন্যান্য তত্ত্বে ও বন্দ্বু এবং শত্রু
সনাক্ত করা হয় নি। বিপ্লব করতে হলে, সমাজের রেডিক্যাল অংশকে সংঘটিত করাচাই। কারখানা তত্ত্বের মত বিষয় গুলো আমাদের চিন্তাভাবনাকে ইঁদুরের গর্তে ডুকিয়ে দিবার চেস্টা করে। সেই খানে কোন সামাজিক বা শ্রেনী শ্ত্রুর অস্তিত্ব নেই।  সেখানে একটি ছায়া ব্যবস্থাপনার কথা বলা হচ্ছে, সকলকে সেবার নামে কাউকেই সেবা দিচ্ছেনা। এই সকল তত্ত্বে কোন বিজয়ী ও নেই এবং বিজত ও নেই। এই সকল তত্ত্ব প্রথমবিশ্বের বই পুস্তকেই সুভাপায়। নিপিড়নের শিকার   তৃতীয় বিশ্বের মানশকেই তাদের নিপিড়নের জন্য দোশারূপ করে থাকে। আর সেজন্যই তারা বিপ্লবের কোন প্রাকার পথ রেখা হাজির করে না। বরং তারা যে কোন কিছু কে  সুযোগ ও দাবী উত্তাপনের মধ্যে সীমাব্ধ রাখতে চায়। তাই, এই সকল তত্ত্ব কোন তত্ত্বই নয়। সে গুলিতে কোন প্রকার নিদের্শনা ও নেই। এইধরনের তত্ত্ব প্রকৃত বিপ্লবের সহায়ক নয়। মহান লেনিন বলেছেন, তত্ত্ব ছাড়া অনুশীন অন্ধ । কারখানা তত্ত্বটির আসলে কোন সার বত্তা নেই। বরং লিডিং লাইট কমিউনিজম সংগঠন প্রকৃত বিজ্ঞান ও প্রকৃত বিপ্লবের মশাল জ্বালিয়েছে। আসুন আমারা এই মশাল জ্বলিয়ে দেই সব খানে। এ কে এম শিহাব

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

বিপ্লবী বিজ্ঞান হল একটি কমান্ড, ইহা কোন সখের ও পরিচিতির রাজনীতি নয়।


বিপ্লবী বিজ্ঞান হল একটি কমান্ড, ইহা কোন সখের ও পরিচিতির রাজনীতি নয়।

(llcobangla.org)


লিডিং লাইট বিপ্লবী বিজ্ঞান একটি সত্যিকার কমিউনিস্ট আন্দোলন পরিচালনা করছে। সাম্যবাদে উপনিত হওয়া জন্য মার্ক্সবাদ ছিল পৃথিবিতে প্রথম সিন্থিসিস। মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদই ছিল সভ্যতার পরর্বতি স্তর। মার্ক্সবাদ লেনিনবাদ হল এমন একটি বিশ্ব ব্যবস্থা যা প্রথম প্রলেতারিয়ান বিপ্লবের ঢেউ তুলে । বিশেষ করে মহান লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকদের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিপ্লব সংগঠিত হয়। এর পরে মাওসেতং বা মার্ক্সবাদ, লেনিনবাদ, মাওবাদের অবদানের পর সাড়া দুনিয়ায় বিপ্লবের বার্তা ছড়িয়ে পরে। তাদের বিপ্লবের বার্তা ইতিহাসে ঝড় তুলে। স্বল্প সময়ের জন্য হলে ও রাশিয়া, চীন সহ পৃথিবী প্রায় এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা সমাজতন্ত্রের ছায়া তলে এসেছিলো। তারা একটি সুন্দর দুনিয়া গড়তে চেয়ে ছিল। ইতিহাসে মাওসেতুং এর বিপ্লবী ত্তত্ব যখন সর্বত্র প্রশংসিত তখন কমিউনিস্টরা স্লোগান দিল মাওসেতুঙ্গের চিন্তাধারাকে কায়েম করতে হবে ! পরর্বতীতে তা বদলে যায়। বলা হয় মাওবাদকে কায়েম করতে হবে। মাওবাদের উত্থান ও সাংস্কতিক বিপ্লবের পর আজ প্রায় অর্ধ শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়ছে। দুনিয়া ও অনেক বদলে গেছে । মাওসেতুঙ্গের অনুসারিরা সহ বহু লোকই এই পথে এসেছেন। বহু কিছু অর্জন ও করেছেন। আবার অনেক ভুল কাজ ও করেছেন। মানব সমাজের ও ব্যাপক পরির্বতন ঘটে গেছে। সম্রজ্যবাদীরা তাদের নিপিড়নের বিজ্ঞানকে ও উন্নত এবং আধুনিকায়ন করেছে। আর এর সঠিক ও উপযুক্ত জবাব হল লিডিং লাইট। প্রলেতারিয়ান বিজ্ঞানকে উন্নত করে তার চতুর্থ স্তরে নিয়ে এসছে লিডিং লাইট। লিডিং লাইট কমিউনিজম হল চলমান দুনিয়ার উচ্ছতম এবং চতুর্থ স্তরের বিপ্লবী বিজ্ঞান। ইহাই হল আজকের উপযোগী বিপ্লবী চিন্তাধারা ।  আজকে যে বিপ্লবকে বিজয়ী করতে হবে তা হল লিডিং লাইট কমিউনিজম। চলমান অন্যান্য বিপ্লবি আন্দোলন গুলো বিজয়ী হতে পারবেনা, অনেক আন্দোলন কেবল মাত্র আবেগ ও রোমান্টিকতা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। বহু আন্দোলন আছে যারা নিতীগত ভাবেই  বিজ্ঞান বিরুধী ও নির্বুদ্বীতায় আক্রান্ত। অনেক দল আছে যারা কেবল মাত্র নিজেদের পরিচয়ের জন্যই ঠিকে আছেন। আর ও অনেক তথাকথিত মার্ক্সবাদী আছেন যারা নিজেদেরকে বিপ্লবী বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু তাদের মাঝে খুব কমই বিপ্লবী আছেন।পুজিবাদীরা সমাজতন্ত্রের বিরুদ্বে প্রচারে প্রপাগান্ডায় ব্যাপক ভাবে সফল হয়ছে। রাশিয়া ও চীন সর্ম্পকে যত প্রচার তারা করছে এবং এ সর্ম্পকে তারা যে পরিমান মানুষের মাঝে ভুল ধারনা তৈরি করেছে , সেই তুলনায় তারা আন্যান্য বিষয়ে খুব কমই জানেন । এমন কি নিউটন বা আইনস্টাইন সর্ম্পকে ও এত টুকু জানেন না। যারা নিজেদেরকে বিল্পবী বলে জাহির করেন তারাও মার্ক্স, লেনিন ও মাওসেতুঙ্গের বাদে কি আছে তা ও তারা খুব কমই জানেন।পাতিক্রিয়াশীলরা বরং বেশী জানেন কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর কি কি করতে হবে। তাই বিপ্লবী নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো জ্ঞান সম্পন্ন দল বিনির্মান করা। রাজনৈতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষন প্রদান করা। আমরা আগামী বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতী নিচ্ছি। আমারা যদি সত্যিকার কমিউনিজম চাই তবে আমাদেরকে আবশ্যি আমাদের আগের বিপ্লবী ঘটনা প্রবাহ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা প্রাগ্রসর বিপ্লবী বিজ্ঞান থাকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলব। এটা কেবল মাত্র পরিচয় নয়। তাই আমাদের কে কিছু বিষয় সামনে রাখতে হবে, তা হোল -

১. কেবল মাত্র বিজ্ঞানই আমাদের জঠিল সমস্যা গুলো সমাধান করতে পারে। বিপ্লবী বিজ্ঞান প্রত্যাখান করলে  শোষিত মানুষ তাদের দারিদ্র বিমোচন, উন্নয়ন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত ইত্যদির সামাধানের ক্ষমতা হারাবে। যারা বিপ্লবী বিজ্ঞানকে আক্রমন করেন, তারা মুল নিপীড়নকেই সযোগীতা করে থাকে।

২.যারা বিপ্লবী বিজ্ঞানের বিরোধিতা করেন তারা প্রকৃত পক্ষে শোষিত মানুষের মুক্তির বিরুদ্বে কাজ করেন। ইহা বিপ্লবকে বাঁধা গ্রস্ত করে। ইহা তৃতীয় বিশ্বের বিপ্লব কে ও বাঁধা গ্রস্ত করে। ইহা জাতিয় মুক্তির পথকে বাঁধা গ্রস্ত করে। ইহা বিপ্লবী নেতৃত্বকে গড়ে উঠতে বাঁধা দেয়। ইহা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে বুদ্বিবৃত্তির পরির্বতে নির্বুদ্বীতায় সমাজ নিমগ্ন হয়। ইহা এমন সব রিতি নিতির বিকাশ ঘটায় যেখানে নির্যাতন কারিরা মজলুম জনতার উপর প্রভু সেজে বসে। সাম্রজ্যবাদিদের মতই জনগনকে এমন ভাবে ভাবতে শেখায় যে, তারা ও যেন শোষণ প্রক্রিয়া কে স্বভাবিক মনে করে, তাদের জন্য শিক্ষা বা অগ্রগতির পথকে বন্দ্ব করে দেয়। ইহা মানুষের নিচুতাকে  প্রমুট করে। ইহা প্রকৃত বিপ্লবী নেতৃত্ত্বকে মারাত্মক ভাবে বাঁধা গ্রস্ত করে। ইহা সধারন মানুষের আত্মবিশ্বসকে একেবারে ধবংশ করে দেয় , ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য গড়তে পারে এমন   ভাবনা তাদের জন্য কস্ট সাধ্য হয়। ইহা মানুষকে আত্মবিশ্বসী ও আত্মনির্ভশীল হতে দেয় না। এমন এক দৃষ্টি ভংগী তৈরি হয় যেখানে সম্পদ, পরিচিতি, সম্মোহন, জনপ্রিয়তা, পদ মর্যাদা, যোগাযোগ,  সব কিছুর উপর স্থান দেয়। আর ইহাই তৈরি করে দুর্নতির এক দুষ্ট চক্র। ইহা সাধারন জনগনকে ক্ষমতাহিন করে দেয়। ইহা আমাদেরকে সমাজতন্ত্রের ও কমিউনিজমের পথে এগুতে সমস্যার সৃষ্টি করে।

৩.দাবী করা হয় যে, বিপ্লবী বিজ্ঞান ইউরোপীয়রা ই ভালো বুঝবেন । আরা এর আবাস স্থল তো ইউরূপই। প্রকৃত সত্য হলো বিপ্লব ইউরূপীয় নয়। কেবল সাধাদের নয়। মার্ক্সের সময় থেকে ই বিপ্লব পুর্ব থেকে পশ্চিমে এসেছে ।আমাদের সর্ব শেষ বিপ্লবের ঢেউ টা লেগেছিল পূর্ব ই তা চীনে। প্রতিটি সমাজেই নিজস্ব পরিসরে বিভিন্ন মাত্রায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নন ঘটে। যখন ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়ছিল তখন ও অন্যান্য সমাজে বিজ্ঞানের আগ্রগতি আমারা দেখেছি। তবে এটা সত্য যে ইউরোপ বিপ্লবি বিজ্ঞান অনুসরণের কারনে অন্যান্য সমাজের তুলনায় শত শত বছর এগিয়ে গেছে। তবে প্রতিটী সমাজই এক জঠিল প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়া বুদ্বিবৃত্তিক ও ঐতিযের আলোকে এগিয়ে গেছে। চীন,ভারত, মধ্যপ্রচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপ ইত্যাদি এর উদাহরন।

৪. যখন বিজ্ঞানের উপর পরিচিতি চলে আসে তখন জাতিয় মুক্তি পথ রুদ্ব হয়। শুধু তাই নয়,  ইহা সধারন ভাবে কেবল চেতনার মান কেই নিচু করেনা বরং জনগনের ক্ষমতাকে ও খর্ব করে, দুর্বল করে বিপ্লবী নেতৃত্ত্বকে । ইহা মধ্যস্বত্য ভোগীকে ও ক্ষমতা লোভীদেরকে শক্তি শালি করে থাকে, যা কেবল মাত্র সংস্কারের দিকেই দাবিত করে। ইহা বিপ্লবী নারিবাদ কে তাচ্ছিল্ল করে  তথাকতিত প্রথম বিশ্ববাদি নারিবাদকেই উৎসাহিত করে । এটা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয় যে প্রথম বিশ্বে রাজনিতির মুলধারাই হল  পরিচিতির রাজনিতি। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, লিবারেলস, সোসাল দেমোক্রেটস, পসদু- ইন্টিলেচতুয়াল,পসুদো- বিপ্লবী একাদেমিসিয়ান এবং আন্যান্য রা ও একি ভাষায় কথা বলে। নগর কেন্দিক রাজনিতিতে পরিচয় বিত্তিক রাজনীতির বিকাশ হয়ছে। ইহা প্রক্রিয়া গত ভাবেই মিথ্যা রেডিক্যালিজমা ও জনগনকে প্রতারনার শামিল।  কোন রাজনৈতিক ধারা যদি স্বকীয় ধারায় না এগোতে পারে তবে তা সমাজ পরির্বতনের  ক্ষেত্রে কনো ভুমিকাই রাখতে পারে না।

৫।পরিচিতির রাজনিতি জাতিপুজার সমাধান নয়। জনগণকে ক্ষমতাহীন রেখে তা হবার নয়। বরং বিপ্লবী বিজ্ঞান দ্বরা জনতাকে খমতায়ন করতে হবে। তার অর্থ হল জনতার হাতে স্বাধীনতার অস্রটি দিতে হবে। আর সেই অস্রটি ছাড়া তারা সামনে এগোতে পারবেন না।

৬. পরিচিতি মুলক রাজনীতি এবং নিচু মানসিকতার জাতিয়তাবাদি চিন্তাধারা তৃতীয় বিশ্বের রাজনিতিকে জাতিয় শোষণের হাতিয়ারে পরিণত করেছে । এই ধরনের নিচতা জাতিতে বিভক্তি এনে দেয়। কেবল মাত্র বিজ্ঞান ই দুনিয়ার মানুষকে এক করতে পারে। কারণ বিজ্ঞানের শিকর হল বাস্তবতার গহিনে নিহিত।
৭. পরিচিতি মুলক রাজনিতী, বিশেষ করে প্রথম বিশ্বে একটি জাতিপুজা হিসাবেই পরিগণিত হোয়ে আসছে। ইহা প্রথম বিশ্বের জাতিয়তাবাদি ধারাকে শক্তিশালী করছে আর অন্য দিকে তৃতীয় বিশ্বের মক্তির পথকে কঠিন করে তুলছে । আমারা যখন প্রথম বিশ্বের পদানত জাতি গোলুর পাশে দাঁড়াতে চাই তখন তৃতীয় বিশ্বের প্রদত্ত্ব  মুল্যের কারনে আমরা তা পারিনা। আমরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের মক্তির লড়িয়ে শরিক হতে পারিনা ।

৮. আর্দশ হল একটি অস্র ইহা কোন জিকির নয়। তবে সকল আর্দশ এক রকম ও নয়। কিছু আর্দশ হল চামচ, কিছু আর্দশ হল ছুরি, কিছু আর্দশ হল ইটের মত, কিছু আর্দশ হল বন্দুকের মত, কিছু আর্দশ হল এটম বোমার মত এবং লিডিং লাইট কমিউনিজম হল সর্বোচ্ছ বিপ্লবী বিজ্ঞানের স্তর হিড্রোজেন বোমা । আমরা যদি তৃতীয় বিশ্বের মুক্তি চাই, আমারা যদি কমিউনিজম  চাই, তবে যা পাওয়া যায় তা দিয়েই আমাদের শোষিত ও নিপিড়িত মানুষকে সস্র করতে হবে। যদি আমরা সকল প্রকার শোষণের অবসান চাই তবে আমাদেরকে লিডিং লাইটের বিপ্লবী বিজ্ঞানের আর্দশ অনুসরন করতে হবে। এছাড়া আর কোন কিছই মানবতাকে একতাবদ্ব করতে পারবে না।

৯। বিপ্লবী বিজ্ঞান অন্দ্ব আর্দশ নয়। যদি অন্য কোন আর্দশ এর ছেয়ে বেশি যৌক্তিক পাওয়া যায় তবে আমরা জনগনকে সেইটাই অনুসরণ করতে আহবান করব। যদি চতুর্থ স্তরের আর্দশ কাজে না আশে তবে, আমরা পঞ্চম  স্তরের আর্দশের উন্নয়ন ঘটাব  । তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জন্য এবং মানবতার জন্য কাজ করে যাব।

১০। বিজ্ঞান ছাড়া অন্য কিছু অনুসরণ করলে নিরাপত্থার ঝুঁকি থেকেই যায়। পরিচিতি মার্কা রাজনীতি এমন এক পরিবেশ সমাজে তৈরী করে রেখছে যার ফলে ব্যতিক্রম কিছু দেখলেই মানুষ বিরোধিতায় লাগে যায়। রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার পরির্বতে ব্যাক্তিগত ধারনা ব্যখ্যায় করতে থাকে। কোন আর্দশিক আলোচনার চেয়ে ব্যাক্তিগত পরিচিতির বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্ত্ব আরোপ করে থাকে।

 স্ট্যালিনের আমল সর্ম্পকে একটি কথা চালু আছে যে, শোষিত ও নিপিড়িত মানুষের নৌকা কমিউনিজমের সাগর তীরে ভীরে ছিলো। আমরা মনে করি এই দৃস্টিভঙ্গী  সঠিক নয়। আমরা এটা প্রযুক্তির ইতিহাস ব্যাখ্যা করে বলতে পারি ইহা ঠিক নয়। আমাদের বিপ্লব আনিবার্য। আমদের বিপ্লব কোন প্রকার প্রতারনা নয়। আমাদের বিপ্লব তারকাদের বলা কোন গাল গ্লপ ও নয়। মাও ও লেনিনবাদিরা তা দেখতে পাচ্ছেন। তারা সেটা বুঝতে পারছেন যে, বিপ্লব কেবল মাত্র সামনে এগোনো নয় পিছনে যাওয়া ও বিপ্লবের ধর্ম। কোন জিনিষ আমাদেরকে চির কালের জন্য শোষণ ও নিপিড়ন থেকে বেড় করে আনবে? একটী মাত্র জিনিষ আছে আর তা হল বিজ্ঞান, বিজ্ঞান শিক্ষা, বিজ্ঞান প্রয়োগ । আর সে জন্যই আমাদেরকে লিডিং লাইটের আর্দশে লালিত হতে হবে। লিডিং লাইট  কমিউনিজম হল একটি কমান্ড! বিপ্লবী বিজ্ঞান হল একটি কমান্ড! লিডিং লাইট অনুসরণ করুন ! লিডিং লাইট হয়ে উঠোন! নট ডিম বাল্ব!!! এ কে এম শিহাব ।



রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৩

রীস্মকালের জন্য অনুদানের আবেদন..........

রীস্মকালের জন্য অনুদানের আবেদন..........

(llcobangla.org)

বিশাল বিজয়ের জন্য এগিয়ে যাওয়া,  কিছু ক্ষেত্রে পিছু হঠা। আমরা এভাবেই এগোচ্ছি।

 লিডিং লাইটের মহা পরিকল্পনা অনুসারে আমরা আমাদের এগিয়ে যওয়ার কাজ করছি। যদি ও আমাদের দ্বিতীয়  পর্যায়ের কোন কোন বিষয়ে কাজ কিছুটা ধীর গতিতে হচ্ছে কিন্তু আমাদের প্রাথমিক কাজ বিপুল্ভাবেই এগুচ্ছে। সংশোধনবাদিদের বিরুদ্বে আমাদের সংগ্রাম চলছে । আমরা আশাকরি যে, যারা ভুলের মধ্যে আছেন তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন এবং বিপ্লবি লাইনে ফিরে আসবেন। আমরা কিছুতেই এই কাজ গুলো ও করতে পারতাম না যদি আমরা আপনাদের সহযোগীতা না পেতাম। বিপ্লবি ধন্যবাদ জানাই সকলকে যারা এই কাজে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কথার চেয়ে  আমরা বেশী কাজে বিশ্বাসী । আমাদের নেতা বাস্তব সম্মত পথে পার্টিকে পরিচালনা করছেন। যেপথে আঁধারের বাঝ কেটে আসবে বিজয়। সকল  কর্মী ও নেতাকে বুঝতে হবে যে, আমরা প্রতিটি দিন ত্যাগ ও তিথিক্ষা দিয়েই গড়তে হবে। সকলকে এখনি আনুদান দিতে হবে, যেন আমরা আমাদের সকল কাজকে গতি দিতে পারি। আমরা আমাদের কাজকে আর ও শক্তিশালী করতে পারি। আমরা আগামি কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু বিপ্লবি ঊপকরন তৈরী ও প্রচার করব। আমরা আমাদের নতুন শিক্ষা কায্যক্রমে, অনেক গুলো পাঠ চক্র গড়ে তুলব । এই কায্যক্রমের ভেতর দিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী কাজের স্থরে ঊপনিত হতে পারব। অনুদান প্রদান করা যে কোন বিপ্লবী কাজের অংশ। আপনি আপনার আরাম চেয়ারে বসেই অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিপ্লবী কাজে শরীক হতে পারেন। ইহা ও বিপ্লবের জন্য এক প্রকার ত্যাগ। আলো আসবেই। আমাদের ক্যাডারগন সাফল্য আনবেই। তারা তাদের যোগ্যতা প্রমান করে ছাড়বেই। যে লড়াই আমরা শুরু করেছি তার ফয়সালা হবে জীবন মৃত্যর মধ্যদিয়ে। কেননা আমাদের লড়াই হলো মানুষের জন্য। সুন্দর একটি সমাজের জন্য। ভেবে দেখুন তৃতীয় বিশ্বের মানুষের কথা যা দের রক্ত আর ঘামে প্রথম বিশ্ব প্রতিদিন আয় করে বিলিয়ন ডলার। ভেবে দেখুন আমাদের লিডিং লাইটের ভাই ও বোনদের কথা তারা কি যাথনার ভেতর দিয়ে দিনাতিপাত করে। ভেবে দেখুন আমাদের লিডিং লাইটের ভাই ও বোনটির কথা যে কি না স্বাধিনতার জন্য জিবনের ঝুকি নিয়েছে। ভেবে দেখুন আমাদের কমরেড ও বন্ধুদের কথা যারা রাত কাঠায় ঠান্ডা রাতে রাস্তার ধারে।ইহা ই হলো আমাদের প্রকৃত লড়াই ও সংগ্রাম।আমাদেরকে সহযোগীতা করুন গ্রীস্মকালের কায্যক্রমে জন্য। আমরা আশা করছি এবছরই আমরা একটা আবস্থান তৈরি করতে পারব। আমরা     এখন আন্দোলনে আছি। আমরা সব কিছুই করব বিজয় লাভের জন্য। লিডিং লাইট দীর্ঘজীবি হোক। লিডিং লাইট কে আনুসরন করুন। লিডিং লাইট হন। আমাদের সূয্য ঊঠছে। আমাদের সুদিন আসবেই।